মেথি দুরন্ত খাদ্যৌষধি। ডায়াবেটিকের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। মেথিদানা স্তন্যদাত্রীর শরীরে দুধের পরিমাণ রাতারাতি বাড়িয়ে দেয়। হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে স্তনাকৃতি বাড়াতেও সাহায্য করে। মেথিদানা অম্বলের বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে। জ্বরের মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারে মেথিবীজ। বিস্বাদ দূর হয় মেথি খেলে। বাড়ে খাওয়ার ইচ্ছাও।
উল্লেখ্য, অগ্ন্যাশয়ে আইলেট কোষপুঞ্জ আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় ডায়াবেটিসের ভোগান্তি হয়। মেথিদানা ঝিমিয়ে পড়া ইনসুলিন নিঃসারক কোষগুলোকে চাঙ্গা করে। ফলে ইনসুলিনের ক্ষরণ বেড়ে শর্করার দহন চলতে থাকে। শরীরের শর্করা গ্রহণ করা তথা কাজে লাগার ক্ষমতা বাড়ে। যেমন রুটিতে অনেকটা মেথির গুড়ো মিশিয়ে খেলে, অন্ত্রের শর্করা শোষণ তাতে কমে যাবে। একগাদা গ্লকোজ গিয়ে রক্তে মিশে যেতে পারবে না অর্থাৎ গ্লুকোজের চড়চড় করে বেড়ে যাওয়া তথা মাত্রাধিক্য ঘটতে দেবে না। বাড়িয়ে দেবে ইনসুলিন গ্রাহক রিসেপ্টরগুলোর কর্মদক্ষতা। মেথির শুশ্রূষায় অলস হয়ে পড়া অজস্র ইনসুলিন গ্রাহকবিন্দুগুলোর পুনরুজ্জীবন ঘটে। ঘটায় মেথিতে থাকা ফোর-হাইড্রোক্সি আইসোলিউসিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড।
রক্তে সুগার শোষণের গতি হ্রাস করে, প্রাকৃতিক খাদ্যআঁশ পলিস্যাকারাইড গ্যালাকটোমান্নান। সন্ত্যপায়ী মায়েরা কতটা করে মেথি খাবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মা, খালারাই। সাধারণভাবে প্রতিবারে আধ গ্রাম করে মেথি দিনে তিনবার খেতে বলা হয়। স্তনাকৃতি বাড়াতেও এটা কাজ করে। সন্তান ভূমিষ্ঠ করানোর সময় প্রসববেদনা তুলতে, মাংসপেশির সম্প্রসারণ ঘটাতে মেথিবীজ উপকার করে ঠিকই, কিন্তু চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া খেতে যাবেন না।