সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কেরাটিনে চুল তাজা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ধুলা, দূষণ, দুশ্চিন্তা, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, অতিরিক্ত স্টাইলিংসহ নানা কারণে চুল রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। এমন চুলকে আবার স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও কোমল করে তোলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট। রূপবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

দীঘল কালো লম্বা চুলের মেয়ে রাইসা। ফটোশুটের জন্য পার্লারে ঢুকতেই সেবা নিতে আসা দুজন নারী মেঝে ছোঁয়া চুল দেখে বেশ অবাক হলেন। তাতে অবশ্য রাইসার অভিব্যক্তিতে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। বোঝা গেল, এমন দৃশ্যের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত তিনি।

রাইসার মতোই পায়ের গোড়ালি ছুঁই ছুঁই চুল ছিল এই ফিচারের আরেক মডেল ভাবনার। কিন্তু নিয়মিত যত্নের অভাবে দিন দিন প্রাণহীন হয়ে পড়ছিল। শেষমেশ চারভাগের তিনভাগ চুল কেটে ফেলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন। ভাবনা বলেন, ‘এখন চুল ঝলমলে ও নরম হয়েছে।সহজে সামলানো যায়। নিয়মিত কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাই।’কেরাটিন ট্রিটমেন্ট অনেকদিন ধরেই জনপ্রিয়। বিশেষ করে ঈদের আগে তরুণীদের মধ্যে চুলে এই ট্রিটমেন্ট করানোর প্রবণতা অনেক বেশি বলে জানালেন শোভন মেকওভারের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। এর কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝলমলে, নরম ও কোমল চুল প্রতিটি মেয়ের কাছেই স্বপ্ন।কিন্তু নানা কারণে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। চুলে প্রাণ ফেরাতে যত ধরনের প্রক্রিয়া আছে তার মধ্যে এখন পর্যন্ত সেরা উপায় হচ্ছে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট। এ জন্যই নারীদের কাছে চুলের এই সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’
 

কেরাটিনে চুল তাজা
কেরাটিন ট্রিটমেন্টে চুল হয় নরম, মসৃণ ও সাস্থ্যোজ্জ্বল। মডেল : রাইসা, রুম্মান ও ভাবনা

কেরাটিন টিট্রমেন্ট কী

কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করানোর মানে চুলে রাসায়নিকের ব্যবহার। যা চুলকে নরম ও মসৃণ করে তোলে। কেরাটিন হল এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন যা আমাদের চুল, ত্বক এবং নখের মধ্যে পাওয়া যায়। এই উপাদানের কারণে চুল, নখ ও ত্বক সুন্দর থাকে।  এটি আমাদের চুলকে ভেতর ও বাইরে থেকে রক্ষা করে। শুধু তাই নয়, চুলকে সূর্যের আলো, ধুলাবালি ও দূষণ থেকেও রক্ষা করে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে চুলের কেরাটিন শেষ হয়ে যায়। যার কারণে চুল শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তখন বাইরে থেকে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের মতো চুলের ভেতর কেরাটিন ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। পুরো এই প্রক্রিয়াটি মূলত কেরাটিন টিট্রমেন্ট নামে পরিচিত। এটি ব্রাজিলিয়ান ব্লোআউট নামেও পরিচিত। চুল মজবুত করতে সরাসরি ব্যবহারের পাশাপাশি এই উপাদানটি এখন চুলের প্রসাধনী পণ্যগুলোতেও ব্যবহার করা হয়।

কেরাটিন ট্রিটমেন্ট কেন?

চুল সোজা করার পাশাপাশি চুলকে মসৃণ, ঝরঝরে এবং চকচকে করে তোলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট। প্রাকৃতিকভাবে কোঁকড়ানো চুলও এই সেবার মাধ্যমে সোজা করা যায়। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করলে চুল ঘন দেখায়, চুলের জৌলশ বাড়ে, সহজেই চুলের স্টাইল করা যায়।

 

কেরাটিনে চুল তাজা

যেভাবে করা হয় কেরাটিন ট্রিটমেন্ট

প্রথমেই চুল ধোয়া : প্রথমেই শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নেওয়া হয়। ট্রিটমেন্টের আগে চুল পুরোপুরি পরিষ্কার আছে কিনা নিশ্চিত হতে হয়। কন্ডিশনার কিউটিকলকে সিল করে দেয় এবং এটি কেরাটিন মাস্ক শোষণে বাধা দেয়। তাই এই বিশেষ ধোয়াতে কোনো কন্ডিশনার ব্যবহার করা হয় না। ভালোমানের পিএইচযুক্ত শ্যাম্পু বেছে নিলে সেরা ফল পাওয়া যায়। এতে চুলের ক্ষারীয় উপাদান সরানো যায় এবং চুলের কিউটিকলগুলো ফুলে ওঠে। পুরো প্রক্রিয়াটি চুলের মধ্যে কেরাটিন সঠিকভাবে ঢুকতে সহায়তা করে।

কেরাটিন মাস্ক প্রয়োগ : চুল ধোয়ার পর ভালোভাবে সম্পূর্নরূপে শুকিয়ে নেওয়া হয়। কারণ ভেজা চুল কেরাটিন মাস্ককে পাতলা করে। এরপর চুলগুলোকে মাঝখান থেকে বিভক্ত করে নিতে হয়। এরপর কেরাটিন মাস্ক সমানভাবে চুলে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে হয়। কেরাটিন মাস্ক চুলে দেওয়ার পর আধাঘণ্টা লাগে সেট হতে। এ সময় চুলের অক্সিডেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর চুল ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়।

ব্লো ড্রাই এবং ফ্ল্যাট আয়রন : চুল ধুয়ে নেওয়ার পর শুকিয়ে ব্লো ড্রাই করা হয়। এরপর কেরাটিন উপাদান যেন কিউটিকলের গভীরে ঠিকভাবে প্রবেশ করে তা নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাট আয়রন করা হয়।

কেরাটিন ট্রিটমেন্টের পর : চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার চুল বাঁধা যাবে না। এই ট্রিটমেন্টের পর প্রথম চুল ধোয়ার জন্য ২-৩ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কেরাটিন চুলের কিউটিকলে পুরোপুরিভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এতে ফলও হয় ভালো। দীর্ঘদিন পর্যন্ত চুল ভালো থাকে।

কেরাটিন করা চুলের যত্ন

সঠিকভাবে যত্নের ওপর কেরাটিন করা চুলের স্থায়ীত্ব নির্ভর করে। নিয়ম মেনে যত্নআত্তি করলে একবার কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার পর ৩-৫ মাস পর্যন্ত চুলের স্বাস্থ্য স্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় এক মাস অন্তর পার্লারে গিয়ে যত্ন করানো। মাসে একবার ডিপ কন্ডিশনিং বা হেয়ার-স্পা করাতে পারেন। এর পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন—

সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার : কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করানোর পর চুলে সালফেট এবং প্যারাবেন ফ্রি শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন শোভন সাহা। সালফেট চুল থেকে কেরাটিন বের করে দিতে পারে। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার কিনতে পাওয়া যায়, এগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের কন্ডিশনার প্রয়োগের পর ৮-১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।

ক্লোরিনযুক্ত পানি পরিহার : ক্লোরিন কেরাটিনকে ধুয়ে ফেলতে পারে। তাই সুইমিংপুলে ক্লোরিনযুক্ত পানিতে সাঁতার কাটা পরিহার করতে হবে।

সি বিচে গোসল নয় : সমুদ্রের লোনাপানি চুল থেকে কেরাটিন কেড়ে নিতে পারে। তাই কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলে লোনা জলে গোসল না করা ভালো।

হিট স্টাইলিং পরিহার : চুলে তাপ প্রদানকারী উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি চুলে ক্রিম, জেল ব্যবহার কম করা উচিত। করাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলের ওপর চাপ পড়ে, এমন কিছু থেকে বিরত থাকা উচিত। চুল টেনে ঝুঁটি করা বা বেণি করার চেয়ে হালকা করে চুল বাঁধাই ভালো। চুল আঁচড়াতে বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে কাঠের চিরুনি বেছে নিন।

চুলে রং করাতে চাইলে : চুলে রং করাতে চাইলে কেরাটিন ট্রিটমেন্টের এক-দেড় মাস পর করাতে হবে। নয়তো কেরাটিন ট্রিটমেন্টের আগেই করিয়ে নেওয়া ভালো।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com