সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কিটো ডায়েটে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

কিটো ডায়েট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। দ্রুত ওজন কমানোর এই ডায়েট যেমন জনপ্রিয়, তেমনি সমালোচিতও। কিটো ডায়েটের ভালো-খারাপ নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

দেহের অতিরিক্ত ওজন দ্রুত কমানোর জন্য কিটো ডায়েট জনপ্রিয়। তবে এ ধরনের ডায়েট শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তরুণদের অনেকেই বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ না নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শুরু করেন কিটো ডায়েট, যা হতে পারে ভয়ানক বিপজ্জনক।

কিটো ডায়েট কী

মানবদেহে জ্বালানি হিসেবে প্রধানত দুটি জিনিস ব্যবহৃত হয়— গ্লুকোজ ও কিটোন বডি।এর মধ্যে শক্তির মূল উৎস গ্লুকোজ, যা আসে শর্করা থেকে। শর্করা কম খেলে দেহের শক্তির চাহিদা মেটাতে চর্বি ভেঙে কিটোন বডি তৈরি হতে শুরু করে। তাই কিটো ডায়েটের মূলনীতি দেহে শর্করার সরবরাহ কমিয়ে খাবারে তেল-চর্বি বাড়িয়ে দেওয়া। অর্থাৎ দেহকে গ্লুকোজের পরিবর্তে কিটোন বডি থেকে শক্তি সংগ্রহের অভ্যাস করানো।

একজন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তির দৈনন্দিন শক্তি চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। বাকি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পূরণ করে প্রোটিন বা আমিষ এবং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পূরণ করে চর্বি বা ফ্যাট। কিটো ডায়েটে এই অনুপাত বদলে দেওয়া হয়। এই ডায়েটে দৈনন্দিন শক্তি চাহিদার ৭৫ শতাংশ পূরণ করে ফ্যাট, ২০ শতাংশ আমিষের মাধ্যমে এবং বাকি মাত্র ৫ শতাংশ শক্তি জোগান দেয় শর্করা।
কেন ক্ষতিকরকিটো ডায়েটের প্রভাবে দ্রুত ওজন হ্রাস পায়। অতিরিক্ত চর্বি ঝরে গিয়ে দেহে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে দীর্ঘদিন এই ডায়েট অনুসরণ করলে রক্তের পিএইচ লেভেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রক্তে প্রাথমিকভাবে কিটোসিস এবং পরবর্তী সময়ে কিটোএসিডোসিস দেখা দেয়।

 

নেতিবাচক প্রভাব

কিটো ডায়েটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পার হওয়ার পর। সব সময় দুর্বল বোধ করা, মাথা ব্যথা, শরীর কাঁপা, বুক ধড়ফড়, বমি বমি ভাব ও অতিরিক্ত পিপাসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিটো ডায়েটের প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যেও পড়ে; যেমন—কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে বা হঠাৎ রেগে যাওয়া।

অধিক চর্বি ও প্রোটিন গ্রহণের কারণে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকে, অন্যদিকে কিটো ডায়েটে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয় অনেকের। এ ছাড়া প্যানাক্রিয়াসের জটিলতা, হজম শক্তি কমে যাওয়া, ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কারণ হতে পারে কিটো ডায়েট।

 

ঝুঁকি

গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, হরমোনাল ইমব্যালান্স আছে এমন ব্যক্তি, আর্থ্রাইটিসের রোগীর জন্য কিটো ডায়েট অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ন্ত বয়সে এই ডায়েট করলে নারীদের ঋতুস্রাবের সমস্যা হতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে হতে পারে বন্ধ্যাত্বের কারণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যক্তিরই কিটো ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয়।

বর্তমানে অনেকেই কেবল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে এই ডায়েট শুরু করেন। অথচ শরীরের চাহিদা না জেনে কিটো ডায়েট করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ ও শরীরচর্চা করলে সুস্বাস্থ্য লাভ করা কঠিন কিছু নয়।

 

লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com