কিটো ডায়েট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। দ্রুত ওজন কমানোর এই ডায়েট যেমন জনপ্রিয়, তেমনি সমালোচিতও। কিটো ডায়েটের ভালো-খারাপ নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
দেহের অতিরিক্ত ওজন দ্রুত কমানোর জন্য কিটো ডায়েট জনপ্রিয়। তবে এ ধরনের ডায়েট শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তরুণদের অনেকেই বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ না নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শুরু করেন কিটো ডায়েট, যা হতে পারে ভয়ানক বিপজ্জনক।
কিটো ডায়েট কী
মানবদেহে জ্বালানি হিসেবে প্রধানত দুটি জিনিস ব্যবহৃত হয়— গ্লুকোজ ও কিটোন বডি।এর মধ্যে শক্তির মূল উৎস গ্লুকোজ, যা আসে শর্করা থেকে। শর্করা কম খেলে দেহের শক্তির চাহিদা মেটাতে চর্বি ভেঙে কিটোন বডি তৈরি হতে শুরু করে। তাই কিটো ডায়েটের মূলনীতি দেহে শর্করার সরবরাহ কমিয়ে খাবারে তেল-চর্বি বাড়িয়ে দেওয়া। অর্থাৎ দেহকে গ্লুকোজের পরিবর্তে কিটোন বডি থেকে শক্তি সংগ্রহের অভ্যাস করানো।
নেতিবাচক প্রভাব
কিটো ডায়েটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পার হওয়ার পর। সব সময় দুর্বল বোধ করা, মাথা ব্যথা, শরীর কাঁপা, বুক ধড়ফড়, বমি বমি ভাব ও অতিরিক্ত পিপাসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিটো ডায়েটের প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যেও পড়ে; যেমন—কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে বা হঠাৎ রেগে যাওয়া।
অধিক চর্বি ও প্রোটিন গ্রহণের কারণে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকে, অন্যদিকে কিটো ডায়েটে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয় অনেকের। এ ছাড়া প্যানাক্রিয়াসের জটিলতা, হজম শক্তি কমে যাওয়া, ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কারণ হতে পারে কিটো ডায়েট।
ঝুঁকি
গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, হরমোনাল ইমব্যালান্স আছে এমন ব্যক্তি, আর্থ্রাইটিসের রোগীর জন্য কিটো ডায়েট অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ন্ত বয়সে এই ডায়েট করলে নারীদের ঋতুস্রাবের সমস্যা হতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে হতে পারে বন্ধ্যাত্বের কারণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যক্তিরই কিটো ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয়।
বর্তমানে অনেকেই কেবল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে এই ডায়েট শুরু করেন। অথচ শরীরের চাহিদা না জেনে কিটো ডায়েট করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ ও শরীরচর্চা করলে সুস্বাস্থ্য লাভ করা কঠিন কিছু নয়।
লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার