
যখন তাঁর গান করি মনে হয় আমারই গান
সৈয়দ আশিকুর রহমান
আমারও বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ছোটবেলা থেকে তাঁর গান শুনেই বড় হয়েছি। তিনি কিন্তু অনেক আগে থেকেই আমাদের অঞ্চলে জনপ্রিয়। পুরো দেশে একটু পরে পরিচিতি পেয়েছেন।

আমরা তাঁকে বলি আধুনিক বাউল
সাদিয়া লিজা
কেউ আমাকে লোকসংগীতশিল্পী বললে বেশি খুশি হই। আমরা লোকসংগীতের মানুষ তাঁকে বলি আধুনিক বাউল। দেশের প্রত্যন্ত এক অঞ্চলে নৌকার গলুইতে বসে একজন মানুষ কত আধুনিক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ গান করে গেছেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর গান গাইছি। যদিও তখন বুঝতাম না। এখন বড় হয়ে তাঁর গানের মর্মকথা উপলব্ধি করি। সাধক বাউল যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে শাহ আবদুল করিম অন্যতম। তাঁর গান না গাইলে যেকোনো আয়োজন যেন অপূর্ণ থেকে যায়। আরেকটা বিষয় হলো, লোকগানের একটা চেনা ধারা আছে। প্রায় সবাই একই ধরনের কথা-সুরে গান করেন। কিন্তু শাহ আব্দুল করিম অনেক ধরনের গান করেছেন। লোকগানের সঙ্গে সাধারণত ঢোল, দোতারা এসব ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু তাঁর গান যেকোনো বাদ্যযন্ত্র দিয়ে, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় পরিবেশন করা যায়। এতটাই আধুনিক গান করে গেছেন তিনি। আমার সংগীতজীবনে তাঁর গান ও চিন্তার প্রভাব অনেকখানি।

প্রথম টিভি অনুষ্ঠানে তাঁর গান করেছি
সাগর বাউল
অধ্যাত্মবাদের অন্যতম পুরুষ তিনি। যদিও আমি মূলত লালনশিল্পী। তবে ২০০৫ সালে প্রথম যেদিন টেলিভিশনে গান করেছিলাম, সেদিনও শাহ আব্দুল করিমের গান গেয়েছি-বন্দে মায়া লাগাইছে। তাঁর গানের বিশেষত্ব হলো, তিনি সহজ কথার মাধ্যমে সব শ্রোতার কাছে বাণীগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ জন্য আমার কাছে মনে হয়, তিনি আধুনিক সাধক। যার কথায় স্রষ্টাকে খুঁজে পাওয়ার বাণী যেমন আছে, তেমনি আছে মানুষের প্রেম-বিরহের কথাও। প্রায় দুই দশক ধরে তাঁর গান করছি। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, এখন তাঁর গান গাইতে পারি না। কারণ কপিরাইট ইস্যু। কিছুদিন আগে ইউরোপ ট্যুরে গিয়েছিলাম, সাতটি দেশে গান করেছি। প্রত্যেক কনসার্টে শুরুতেই তাঁর গান গাইতে হয়েছে। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। শাহ আব্দুল করিমের পরিবারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, কপিরাইটের বিষয়ে যেন সহজ সমাধান করেন। তাঁর অনেক গান মানুষ শুনতে পাচ্ছে না। তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন তাঁর বাণী। সেগুলো তো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।