অন্যদের মতো প্রচলিত পথে না হেঁটে, সুবিধার মাখন-আরাম ভোগ না করে তিনি গভীর নিষ্ঠায়, প্রতিভার দ্যুতিতে আলোকিত হয়ে কাজ করে চলেছেন। লক্ষ্য সমাজ বদল, মানুষের মুক্তি। প্রকৃত মর্যাদা ও স্বীকৃতির বদলে কুৎসা, অপবাদ, নিন্দাই পেয়েছেন বেশি। অন্য রকমভাবে উদযাপিত হলো তাঁর ৭৪তম জন্মদিন।
সাম্রাজ্যবাদীদের তৎপরতার কঠোর সমালোচক জনাব উমর বলেন, ‘আদর করে আমরা দাতাদেশ বলি। কেন? গ্রামে যে মহাজন কৃষককে ঋণ দেয়, তাকে কি আমরা দাতা বলি? সে তো শোষক, নিংড়ে নেয়। সিলেটের লোকেরা যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বছরে দেশে পাঠায়, তা তো যথাযথভাবে বিনিয়োগ করা হয় না। কোনো পলিসি নেই। অথচ এর চেয়ে অনেক কম টাকার জন্য আমরা বিদেশিদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করি। বাধ্য হয়ে সিলেটিরা কবর বাঁধাই করে, গ্রামে জমকালো বাড়ি বানায়, মাদরাসা দেয়। বেশি জনসংখ্যা আমাদের সম্পদ, মাহাথিরও তো সে কথাই বলে গেলেন।’
সাম্প্রতিক ক্রসফায়ার কালচারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মোফাখখার তো রাজনৈতিক নেতা ছিল। সে তো কালা জাহাঙ্গীর না। সে যা করেছে, তার বিচার করা যেত। র্যাব দিয়ে নির্বিচারে মানুষ খুন করা হচ্ছে। গডফাদাররা যেন আড়ালে থাকতে পারে। আগে হতো হার্টফেল, এখন হয় ক্রসফায়ার। এ রকম অবস্থা চলতে পারে না। দেশ এখন পরিবারতন্ত্রের দিকে চলে গেছে। হাসিনার ছেলে জয় বা তারেক রহমান বাজিমাত করে ফেলবে, সে পরিস্থিতি দেশে এখন নেই। জাতীয় সংসদে এখন রাজনীতিকরা যান না, যায় ব্যবসাদাররা। প্রচলিত নির্বাচন, সংসদ—সব অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্য কেউ নির্বাচন করতে পারে না।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য : জামায়াতকে আওয়ামী লীগও তোয়াজ করেছে। এখন করছে বিএনপি। তারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার কথা কিন্তু বলছে না। নিজামীর লোকেরা সর্বত্র লুটপাট করছে। সব জায়গায় বসাচ্ছে নিজেদের লোক। চরমোনাইর পীরের দাপাদাপি আর নেই। বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গেও তীক্ষ পর্যবেক্ষণ তাঁর; এরা নিজেদের বিবেক দাবি করে কিন্তু নিজেরা সুবিধাবাদী, আপসকামী। তাদের চোখে দেশের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা। ভাত-কাপড়, শিক্ষা, বাসস্থান যেন কোনো সমস্যাই নয়। বহুজাতিক কম্পানি তাদের ডাকছে, প্রাইজ নিচ্ছে দিচ্ছে, বশীভূত হয়ে থাকছে ওরা। বুড়ো মধ্যবয়স্কদের দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের কাজ কিছুই হবে না। তারা পচে গলে গেছে। নতুন প্রজন্ম, নতুন মধ্যশ্রেণিই ভরসা। বামপন্থীদেরও সমালোচনা করলেন তিনি। বললেন, বামপন্থী বলে যারা পরিচিত, তারা জনগণের দাবি নিয়ে দাঁড়ায় না। সংবাদপত্রগুলো তাদের পাবলিসিটি দিয়ে খাড়া রাখে। তাদের সংগঠন কত বড়? টাকা কোত্থেকে কে পায়, জানি না। আমরা টাকা পেলে তাদের চেয়ে দশ গুণ বেশি লোক জড়ো করতে পারি। এদের কেউ কেউ কাগুজে বামপন্থী, শাসকশ্রেণির আদরের বামপন্থী। শাসকশ্রেণির খুঁটি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বামপন্থী বলে পরিচিতরা। তারা কোনো জিনিসের বিরোধিতা করে না।
সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদবিরোধিতার নামে হৈহৈ করে বেড়ায়। এমনভাবে করে, যেন এটাই হলো দেশের একমাত্র সমস্যা। বাংলাদেশ কিন্তু আফগানিস্তান, কাতার বা বাহরাইন নয়। এ দেশের সমৃদ্ধ গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম কেমন করছে? এই প্রশ্নে অতিমাত্রায় সচকিত হয়ে উঠলেন তিনি, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে, সিপিএমের মতো শাসক আমাদের দেশে নেই! সমাজতন্ত্রের সঙ্গে ওদের কোনো সম্পর্ক নেই। বহু আগেই ওরা সমাজতন্ত্রকে শরবত বানিয়ে খেয়ে ফেলেছে। ওরা বুর্জোয়াদের দালাল, মাফিয়াকৃত হয়ে গেছে ওদের প্রশাসন।