সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার ভূমিকা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

মৌসুমী ফলের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল পেয়ারা। সবুজ রঙের এ ফলটি স্বাস্থ্যপদ ও সহজ লভ্য বলে একে গরিবের আপেল বলা হয়। ফলটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টি গুণে অতুলনীয়। তাই একে সুপার ফ্রুট ও বলা হয়। এটি স্বাস্থ্যের নানা চাহিদা পূরণ করে আমাদের দেহকে সবল রাখে শুধু তাই নয় অনেক রোগ বালাই থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এতে প্রায় সকল প্রকার খাদ্য উপাদান পাওয়া যায়। পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণ  ভিটামিন এ, বি, সি পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সর্দি-কাশি, জ্বর, ক্যান্সার ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেহকে সুস্থ্য ও সবল রাখে। পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণ খাদ্য আঁশ থাকে যা ল্যাক্সেটিভের মতো কাজ করে ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হয়। এই আঁশ ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা কমায়। পাকস্থলীকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। পেয়ারায় ক্যারটিনয়েড, পলিফেনল, লিউকোসায়ানিডিন, অ্যামরিটোসাইড নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ক্যান্সার এবং টিউমারের বিরুদ্ধে কাজ করে।
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মায়েশ্চার যা আমাদের তারুণ্যকে দীর্ঘদিন বজায় রাখে।

পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে যা চোখের যাবতীয় কাজ ও ছোটদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন
মুদিখানা
এর ফ্লাভোনয়েড ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

ভিটামিন সি উপাদানটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এর অভাবে সর্দি কাশি অতি সহজেই আক্রান্ত হতে হয়। দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়। দাঁতের গোড়া হতে পুঁজ বের হয়। মাড়িতে ব্যথা হয়, দাঁত অকালে পড়ে যায়। চামড়া ও চুলের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়। চামড়া শক্ত হয় ও খসখসে হয়ে ওঠে। শিশুদের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। তবে মনে রাখবেন ভিটামিন সি শরীরে জমা থাকে না। তাই প্রতিদিন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত সি খেলে প¯্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়।
বয়সের সাথে জড়িত নানা রোগ যেমন অ্যালজাইমার, ছানি, বিউমেটেড, আর্থ্রাটিস প্রতিরোধ করে পেয়ারা।

মুদিখানা

বাংলাদেশের সব জেলাতেই বিভিন্ন জাতের পেয়ারা জন্মে। তবে মাঠির গুনাগুন ও আবহাওয়ায় কারণে পুষ্টি উপাদান কম বেশী হতে পারে। পুষ্টি বিজ্ঞানী দের মতে প্রতি ১০০গ্রাম খাবার উপযোগী পেয়ারাতে পুষ্টি উপাদান হলোঃ আমিষ বা প্রোটিন ১.৫ গ্রাম, আঁশ ৫২গ্রাম, কার্বো হাইড্রেট ১৪.৫ গ্রাম, শর্করা ১১.২ গ্রাম চর্বি ০.৩ গ্রাম জলীয় অংশ ৮৭.৭ গ্রাম খাদ্য শক্তি ৫১ কিলোক্যালরি, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ১০.২১ মিলিগ্রাম বি-১ ৩০ মিলিগ্রাম বি ৩০. মিলিগ্রাম, সি ২৯৯. মিলিগ্রাম, লৌহ ১.৪ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম। তাছাড়া পেয়ারার পাতায় আছে ট্যানিন, রজন, ফ্যাট, বিটা, সিটোস্টেরল ও উদ্বায়ী তেল ইউজেনল। আরো যে সব উপকার করে দেহ কে সুস্থ রাখে।

* যাদের ডায়বেটিস আছে তারা নিয়মিত পেয়ারা খান উপকার পাবেন। পেয়ারা শরীরের চিনির শোষন মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়বেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
* পেয়ারার এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, লাইসোপেন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। ফলে ত্বক বা চামড়ায় ভাঁজ পড়ে না। মসৃণতা বজায় থাকে। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে চামড়াকে রক্ষা করে এবং চামড়ার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

* পেয়ারার পলিফেনোলিক ও ফ্ল্যাভেনয়েড উপাদান প্রোষ্টেট ক্যান্সার রোধ করে। * পেয়ারায় এস্ট্রিজেন ও এন্টি মাইক্রোবিয়াল বা এন্টি ব্যাক্টোরিয়াল বৈশিষ্ট আছে ফলে ডায়রিয়া ও আমাশয়ে বেশ উপকার করে। * যাদের পায়খানা খুব কঠিন বা শক্ত হয়। দুই/একদিন পর পর পায়খানা হয় তারা পেয়ারা খান উপকার পাবেন। কারণ এতে উচ্চ আঁশ বিদ্যমান। যা পাকস্থলীকে পরিস্কার করে। * যাদের উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপ্রেসার আছে তারা নিয়মিত পেয়ারা খান বেশ উপকার পাবেন। এতে প্রচুর পরিমান পটাশিয়াম আছে যা হৃদপিন্ডরের গতিতে সুস্থ রাখে।
* যারা অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছেন তারা নিয়মিত পেয়ারা খান ও জন কমে আসবে।
* পেয়ারার পাতার জুস গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় বেশ উপকার সাধন করে।
* নিয়মিত পেয়ারা খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* দাঁত ও মাড়ি অসুখে পেয়ারা গাছের কচি পাতার ক্বাথ লাগালে বেশ উপকার হয়।
* পেয়ারা কপার শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়ায় এবং থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখে।
* পেয়ারার ১৫-২০টা পাতা পানিতে সিদ্ধ করে। সেই পানি ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা করে তাতে ফিটকিরি মিশয়ে কুলকুচি করুন দাঁতের ব্যথা কমে আসবে। মাড়ির সমস্যা কমে আসবে।

মুদিখানা

* সকাল বিকাল পেয়ারাখান হজমশক্তি বাড়বে ও মানসিক অস্থিরতা কমবে।
* পাকা পেয়ারা পিষে তাতে ৫গ্রাম খাঁটিমধু ভালো করে মিশিয়ে সকাল বিকাল খেলে শুকনো কাশি কমে আসবে।
* খালি পেটে ২০০গ্রাম পাকা পেয়ারা বীজসহ চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করলে ভিতরে বসে থাকা কফ বেরিয়ে আসবে।
* যারা ঘন ঘন সর্দি কাঁশিতে ভোগেন বা হটাৎ ঠান্ডা লেগে সর্দি হয় তারা নিয়মিত পেয়ারা খান সমস্যা কমে আসবে।
* পেয়ারাতে পেকটিন নামক উপাদান বেশি থাকে। তাই পেয়ারা দিয়ে জ্যাম, জেলি, মোরব্বা প্রস্তুত করা যায়। যা সংরক্ষণ করে সাবা বছর পাওয়া যায়। উপকারি এ গাছটি সবাই নিজ নিজ বাড়ীর আশে পাশে লাগান ও যতœ নিন। এতে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে সুস্থ সবল জনগোষ্ঠি তৈরী হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com