সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

ধানের আরো পাঁচটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা। মাঠ পর্যায়ে এই জাতগুলো ব্যাপক সাফল্যও পেয়েছে। আগামী সপ্তাহে এটি কারিগরি কমিটির সভায় উপস্থাপনের পর জাতীয় বীজ বোর্ডে অনুমোদনের জন্য দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জাতগুলো কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার (সিএসও) ও প্রধান ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা জানিয়েছেন, এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

ব্রির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে উদ্ভাবিত ১১৪টি জাত রয়েছে। নতুন এই পাঁচটি জাত অনুমোদনের পর এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৯টিতে। এ ধানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ ধান, লবণাক্ত সহনশীল, শীতল সহনশীল, বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ও ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট সহনশীল জাত।দীর্ঘ গবেষণা শেষে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছে ব্রি, এর প্রস্তাবিত নাম ব্রিধান-১১৫। এতে ১৫ পিপিএম মাত্রার ভিটামিন-ই পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভিটামিন-ই আমাদের দেহের জন্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে, কোষকে ক্ষয় ও বয়সজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। এ ছাড়া এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

ব্রি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ইফতেখারুদ্দৌলা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যে ধান চাষ হয়, তার মধ্যে বোরো চাষের এলাকা ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে ২০ শতাংশ হাওর এলাকায় অবস্থিত। ফলে হাওর এলাকার ধানে ফলন বাড়ানো এবং ক্ষতি কমাতে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা হয়েছে। প্রজনন অবস্থায় এবং ফুল আসার সময় যদি তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে, ধান চিটা হয়ে যায়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শীতল সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর প্রস্তাবিত নাম ব্রিধান ১১৮।

বিজ্ঞানীরা বলেন, হাওর এলাকায় বোরো ধান চাষে শীতের মূল সমস্যা হলো ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতি, যেখানে ধানের চারায় কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধানগাছ ঠাণ্ডায় কাতর হয়ে পড়ে, এতে ফলন কমে যায়।

বোরো মৌসুমে দীর্ঘ জীবনকালের নতুন জাতের প্রস্তাবিত নাম ব্রিধান-১১৯। এর ফলন ব্রিধান-৮১-এর চেয়ে এক টন বেশি। ড. ইফতেখারুদ্দৌলা বলেন, যেসব এলাকায় একটি বোরো ফসল চাষ হয়, সেখানে এই ধান উপযুক্ত। এর জীবনকাল ১৬০ দিন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন জানান, দেশের ধান উৎপাদন বর্তমানে চার কোটি টনেরও বেশি। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় অর্জন। তবে জলবায়ুর পরিবর্তন ক্রমশ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তীব্র গরম, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং শীতের প্রভাব ধানের উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি নতুন ধরনের পোকার আক্রমণও চাষিদের সমস্যায় ফেলছে। এসব বাধা কাটাতে বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে নতুন জাত উন্মোচন করছেন। এই নতুন জাতগুলো রোগ প্রতিরোধী এবং পরিবেশ সহনশীল।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com