ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া দুটি সংক্রমণের বাহক হতে পারে একটি মশা। তাই একই ব্যক্তির শরীরে একই সময়ে দুটি ভাইরাস সংক্রমিত হওয়া সম্ভব।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ দুটির উপসর্গ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি ধরনের হতে পারে।
♦ জ্বরের পাশপাশি মাথা ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা হয়।
♦ বমি বমি ভাবও হয়। বমিও করতে পারে কেউ কেউ।
♦ শরীরের বিভিন্ন অংশের পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা দেখা যায় দুটি জ্বরের ক্ষেত্রেই। তবে ডেঙ্গুর চেয়ে চিকুনগুনিয়ায় ব্যথার তীব্রতা বেশি।
♦ দুটি রোগেই শরীরে র্যাশ বা চুলকানি দেখা দিতে পারে। তবে চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ত্বকে র্যাশ বেশি দেখা যায়।
♦ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জ্বরের শুরুতে ডায়রিয়া হতে পারে।
পার্থক্য করার উপায়
চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু একসঙ্গে হলে পার্থক্য করা কঠিন। দুটি সংক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধও নেই। পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। তবে রোগ শনাক্ত করা জরুরি। ডেঙ্গু খুব দ্রুতই হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। প্রতিবছর প্রচুর রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোম’। এর লক্ষণের মধ্যে আছে নাক বা দাঁত দিয়ে রক্তপাত, কালো পায়খানা, নারীদের মাসিকের অতিরিক্ত রক্তপাত বা হঠাৎ মাসিক হওয়া। এসব লক্ষণ থাকলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
অনেকে ধরে নেন শুধু চিকুনগুনিয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে তাঁরা শক সিনড্রোমের লক্ষণের বিষয়ে সচেতন থাকেন না। দেখা যায়, চিকুনগুনিয়া ভেবে NSAID গোত্রের ওষুধ; যেমন—আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করেন। ডেঙ্গু হয়েছে সন্দেহ হলেও এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা নিষেধ। এনএসএআইডি গোত্রের ওষুধ ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে সেটি রক্তপাত বাড়াতে পারে, যা হেমোরোজিক ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই যদি কোনো ব্যক্তির জ্বর ও গাঁটে তীব্র ব্যথা থাকে, তখন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া উভয়ের পরীক্ষা করা উচিত।
মনে রাখতে হবে, চিকুনগুনিয়া প্রাণঘাতী নয়। তবে এই রোগটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকে শরীরে। চিকুনগুনিয়াজনিত অস্থিসন্ধির ব্যথা থাকতে পারে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত। অনেকেই মনে করেন, ডেঙ্গুর মতো চিকুনগুনিয়ায়ও প্লাটিলেট প্রয়োজন, যা ঠিক নয়। তবে দুটি রোগ একসঙ্গে হলে এর প্রয়োজন হতে পারে।