এ যেনো অলৌকিক মৃত্যুপুরী
মিয়া ইব্রাহিম
স্বপ্নেরা এখন কবরের বাসিন্দা
একদিন মনের কোণে স্বপ্ন বুনেছিলো লেখাপড়া
শিখে মানবিক মানুষ হবে,আলোর সুবাস ছড়িয়ে দিবে
দেশ থেকে বৈদেশে। সেইসব ফুলেল শিশুদের
মগজ পোড়া গন্ধ এখন আকাশ জুড়ে
আগুন ঝলসানো দগ্ধমুখ, বাকরুদ্ধ
বাবা-মায়ের কাঁধের উপর,ভাবা যায়!
বাতাসের চোখে শোকের কান্না, লেখাপড়ার যতো
সামগ্রী পুড়ে ছারখার, ছাইভস্ম হয়ে জ্বলছে ক্লাসরুম,
হাসপাতালের করিডোরে সারিবদ্ধ লাশের মিছিল
এ যেনো অলৌকিক মৃত্যুপুরী
আলোর সুবাস ছড়াবার আগেই যে পাখিরা ঝরে
গেলো চিরতরে,কে নেবে বলো এর দায় ভার?
উত্তর জানা নেই কারো
যে মাতৃসম শিক্ষিকা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও দগ্ধ হতে হতে
মায়ের মমত্ব কন্ঠে বলেছিলেন দৌড়াতে থাকো জুঁই চামেলি, রজনীগন্ধার দল, ভয় নেই কোনো
তিনি নিজেই এখন চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন শ্রান্ত হয়ে
স্বর্গীয় উঠোনে প্রিয়তম স্বামী সন্তান ফেলে
আহ্ কী বেদনার্ত চিৎকার ধ্বনি!
দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল ক্যাম্পাস মহাকালের সাক্ষী
যার বক্ষ জুড়ে এখন হাহাকার আর মৃত্যু শোকের কুন্ডুলী ঘুর্ণয়মান, বিধ্বস্ত বিমানের কক পিট জুড়ে
ছোপ ছোপ রক্তের দাগ , খেলার মাঠ এখন বিরান ভূমিপ্রতিদিন নিয়ম করে কচি কন্ঠে জেগে
উঠতো প্রাণের স্পন্দন
ভোরের শিশির গাইতো
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
সেসব কন্ঠের কারখানা এখন জ্বলছে মৃত পাখির
পালক হয়ে,শোক শ্লোগান আর শ্লোগানের বেদনার্ত চোখ
আমাদের বাকহীন কন্ঠস্বর
ক্ষমা করো নিভে যাওয়া ফুল পাখিরদল
আমরা তোমাদের ভুলবো না
-মাইলস্টোন ট্রাজেডি স্মরণে
নির্বাচিত নীরবতা
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
পৃথিবীর মানচিত্রে আজ রক্তের ভুল বানান
তবু ঘুম আসে। নিউজ বলছে: সবকিছু “নরমাল”।
অথচ শিশুদের চোখে ধোঁয়ার কু-লি
তা কি যুদ্ধের? না কি ইতিহাসের?
যেখানে প্রতিটি প্রশ্নচিহ্নের নিচে লুকিয়ে ড্রোনের পাখা।
অথচ আমরা নির্বাচিত নীরবতায় বাস করি
যেখানে বোমার শব্দ নয়, ভয় আসে হ্যাশট্যাগে।
আর চোখের নিচে পড়ে থাকা মৃত পাখির পালক
তার ডি এন এ-তে লেখা থাকে:
তোমার ন্যায়বিচার জুম লিংকে অনুপস্থিত।
একদিন পৃথিবীর ভাষা বদলে যাবে
যেখানে “শান্তি” মানে হবে যুদ্ধ বিরতির বিজ্ঞাপন।
আর আমরা? আমরা সবাই চুপ থাকা মানুষ
যারা নীরবতাকে আজকাল ভোট দিয়ে আসি।
রক্তাক্ত আগস্ট এবং দ্বিতীয় স্বাধীনতা
মান্নান নূর
যুগে যুগে আবরাহারা ধ্বংস হয়েছে
মাটিতে মিশে গেছে তাদের গৌরব
এটা এমন ধ্বংস যে, উঠে দাঁড়াবার নয়
ফিরে তাকাবার ন্যূনতম সুযোগ আর থাকে না
ফেরাউন-নমরুদের মতো বিচূর্ণ আত্মারাও কাঁদে
এতো দাম্ভিক, এতো বিশাল শক্তিধরদের জন্য
একটা ল্যাংড়া মশাই যথেষ্ট, অথবা তুচ্ছ পানি
কিংবা আবু সাইদের মতো কয়েকটি আবাবিল তাজা প্রাণ
রুখে দিতে পারে স্বৈরাচার, শোষক, নিপীড়ক জালিম শাসকদের…
অতঃপর পুনরায় দ্বিতীয়বার আমরা আবার স্বাধীন হলাম
মুসলিম উম্মাহ
শেখ মিজানূর রহমান মিনু
চেচনিয়ার লড়াকু জহর দুদায়েভ
কাদিরভের মতো বীর,
জেগে ওঠ আজ বিশ্বের মুসলিম
মুখে লিল্লাহে তাকবীর।
ইউক্রেনে যখন চলছে লড়াই
পশ্চিমাদের হাহাকার,
বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার ধ্বনি
তোলে দোহাই মানবতার।
গাজাবাসীদের আর্তচিৎকার
শুনেছে কি পশ্চিমা বিশ্ব?
আরব শেখেরা বিলাসিতায় বিভোর
গাজাবাসী হোক নিঃস্ব।
যাকে ভেবেছিলাম গাজী সালাদীন
তিনি তো এরদোয়ান,
তাকেও দেখিনি জোরালো কন্ঠে
গাইতে হামাসের গুনগান।
যত দায় সব ইরানের উপর
হুতি এবং হিজবুল্লাহর,
মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী
এ বাণী এক আল্লাহর।
শিয়া সুন্নি বিভেদ সৃষ্টি করে
ইহুদিরা ফায়দা লোটে,
বোকা সুন্নিরা ফতোয়া নিয়ে
এ দ্বারে ও দ্বারে ছোটে।
বোমার আঘাতে জর্জরিত ওরা
তোমাদের নেই মায়ার লেশ,
আল্লাহর কাছে কি জবাব দেবে
নবীজীর পূন্য আরব দেশ?