টিপে টিপটপ বাঙালি নারী। শাড়ি হোক কিংবা কামিজ, সঙ্গে মানানসই একটি টিপ নারীর সৌন্দর্যে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। আজকাল তো ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেও টিপ পরছেন তরুণীরা। টিপের টপ টু বটম নিয়ে লিখেছেন মেহরিমা ইতিবাঙালি মেয়েদের সাজের একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ কপালের টিপ। উত্সব-পার্বণে বাঙালি নারীর সাজে টিপ থাকবেই। সাজের শেষে একটি টিপ পরলে পুরো চেহারাটাই যেন বদলে যায়। একসময় মেয়েরা কপালে টিপ আঁকতেন বুনো ফলের রসে।সময়ের পরিবর্তনে কাপড়ের টিপ পরার চল শুরু হয়। এখন তো টিপের রং, আকার, ধরন ও ম্যাটেরিয়ালের বৈচিত্র্যের শেহাজার বছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীদের মধ্যে টিপ পরার রীতি চালু রয়েছে। টিপ পরা শুধু বাঙালি নারী বা হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো ব্যাপার ছিল না। আঠারো শতকে টিপের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়।ষ নেই। নানা আকৃতি ও নকশার টিপ পরছেন নারীরা। তবে গোলাকৃতির লাল ও কালো টিপের আবেদন রয়ে গেছে আগের মতোই।হাজার বছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীদের মধ্যে টিপ পরার রীতি চালু রয়েছে। টিপ পরা শুধু বাঙালি নারী বা হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো ব্যাপার ছিল না। আঠারো শতকে টিপের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়।উঠে এসেছে। উপমহাদেশেও টিপ পরার ইতিহাস বেশ পুরনো। বেদ, মহাভারত কিংবা রামায়ণে নারী-পুরুষ উভয়েরই টিপ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।ঋগবেদেও উল্লেখ রয়েছে টিপের। এ থেকে বোঝা যায়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে টিপের প্রচলন। প্রাচীন ভারতে শুরু হওয়া টিপ পরার প্রচলন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপমহাদেশের অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। একসময় নারীদের শ্রেণি, মর্যাদার প্রতীক ছিল টিপ। পরে ধীরে ধীরে টিপ সবার কাছে সৌন্দর্যচর্চার উপাদানে পরিণত হয়। সাজগোজের একেবারে শেষ উপকরণ টিপ। হাল আমলের ফ্যাশনে রংবেরঙের নকশা করা টিপ বেশ জনপ্রিয়।
টিপ পরতে অনেকেই নিজস্ব একটি স্টাইল বেছে নেন। বেশির ভাগ নারী পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে টিপ বেছে নেন। রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘অনেক সময় পোশাকের বিপরীত রঙের টিপও বেছে নিতে পারেন। দেখতে হবে সেটি আপনার সাজের সঙ্গে মানাচ্ছে কি না। কাউকে মানিয়ে গেলে যেকোনো পোশাকে যেকোনো রঙের টিপ পরাই যায়।’ টিপ পরতে সময়টাও মাথায় রাখুন। বর্ষায় নীল রঙের টিপ মানানসই। গরমে হালকা রঙের ছোট টিপ পরতে পারেন। টিপ পরার মোক্ষম সময় শীত। এ সময় উজ্জ্বল রঙের যেকোনো টিপই মানিয়ে যায়।
মুখের গড়নভেদে টিপ
কারো মুখ যদি গোলাকৃতির হয়, তবে তিনি সব ধরনের টিপ পরতে পারেন। গোল মুখে সাধারণত সব আকৃতির টিপ মানিয়ে যায়। মুখ যদি লম্বাটে হয়, তবে গোলাকৃতির টিপ বেশি মানাবে। কপাল যদি বড় হয়, তাহলে মাঝারির চেয়ে একটু বড় টিপ পরতে পারেন। কপাল ছোট হলে বড় টিপ পরিহার করাই শ্রেয়। টিপ আকারে খুব ছোট হলে দুই ভ্রুর মাঝ বরাবর পরুন। টিপ বড় বা মাঝারি হলে ভ্রু থেকে সামান্য ওপরে পরুন। যাদের জোড়া ভ্রু, তারাও খানিকটা ওপরে পরুন।
শুধু কি শাড়িতেই টিপ
শাড়ির সঙ্গে টিপ সবচেয়ে মানানসই। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গেও টিপ মানিয়ে যায়। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে টিপ তেমন একটা খাপ খায় না। এ নিয়ে বিতর্ক বেশ পুরনো। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিতর্কে জড়িয়েছেন আমাদের দেশের দুজন নারী ইনফ্লুয়েন্সার। পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে টিপ যাবে, নাকি যাবে না—এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বাগাড়ম্বরে জড়িয়ে শোরগোল ফেলেছেন তাঁরা। তবে ক্যারি করতে পারলে তা সাজ পোশাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সক্ষম—জানালেন রেড বিউটি পার্লারের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। জিন্স, ফতুয়া, স্কার্টের সঙ্গেও নানা আকৃতির টিপ পরছেন তরুণীরা।