কখন শুরু করবেন
শিশুর জন্মের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব বুকের দুধ পান করানো জরুরি।বিশেষ করে শিশুর জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে দুধ পান করানো উচিত। কারণ এই প্রথম দুধ (কলস্ট্রাম) শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং মায়ের বুকের দুধ দ্রুত আসতে সাহায্য করে।
প্রতিবছর ১ থেকে ৭ আগস্ট পালিত হয় ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’। শিশুর সুস্থতা ও মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেক নতুন মা হয়তো জানেন না কখন, কিভাবে ও কোন নিয়মে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে হবে। পরামর্শ দিয়েছেন এভারকেয়ার হসপিটালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনীষা বর্মণ। লিখেছেন অলকানন্দা রায় –
কখন শুরু করবেন
শিশুর জন্মের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব বুকের দুধ পান করানো জরুরি।বিশেষ করে শিশুর জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে দুধ পান করানো উচিত। কারণ এই প্রথম দুধ (কলস্ট্রাম) শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং মায়ের বুকের দুধ দ্রুত আসতে সাহায্য করে।
শিশুর মাথা ও শরীর যেন একই রেখায় থাকে। শিশুর মুখ মায়ের স্তনের ঠিক সামনে এবং শিশুর মুখ পুরো স্তনের বোঁটাসহ চারপাশের অংশে ভালোভাবে লেগে থাকা জরুরি।মা আরামদায়ক চেয়ারে বসে শিশুকে কোলে নিয়ে খাওয়াতে পারেন। এ ছাড়া মা আধশোয়া বা শুয়ে থেকেও দুধ পান করাতে পারেন, বিশেষ করে রাতে বা বিশ্রামের সময়ে এই পদ্ধতি সুবিধাজনক। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে দুধ পান করানো ভালো। এটি মা ও শিশুর মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করবে।
কর্মজীবী মায়েদের দুধ সংরক্ষণের নিয়ম
পাম্প বা হাতের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে রাখতে হবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পাত্রে। ফ্রিজে সাধারণত ২৪ ঘণ্টা এবং ডিপ ফ্রিজে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দুধ সংরক্ষণ করা যায়।ঠাণ্ডা দুধ শিশুকে দেওয়ার আগে গরম পানির পাত্রে রেখে হালকা গরম করে নিতে হবে। কখনোই সরাসরি আগুনে বা মাইক্রোওয়েভে গরম করা যাবে না।
অফিস থেকে ফিরে এবং বের হওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময়ে দুধ সংগ্রহ করুন। কাজ থেকে ফিরেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান। এতে দুধের উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পাচ্ছে কি না, এটি বুঝতে খেয়াল করুন শিশুটি দিনে ছয় থেকে আটবার প্রস্রাব করছে কি না। এ ছাড়া লক্ষ রাখুন শিশুর ওজন বাড়ছে কি না এবং দুধপান শেষে শিশু আরামে ঘুমিয়ে পড়ছে কি না।
যে ভুল করবেন না
১। শিশুকে অতিরিক্ত সময় ধরে দুধ পান করাবেন না।
২। শিশুকে দুধ পান করানোর সময় বারবার বুক পরিবর্তন করা উচিত নয়।
৩। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ পান করান। কোনো প্রকার প্রয়োজন না হলে অন্য খাবার বা পানি খাওয়াবেন না।
মায়ের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য
মাতৃদুগ্ধ পান করানো মায়ের জন্যও স্বাস্থ্যকর। এটি মায়ের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং মাতৃত্বজনিত নানা জটিলতা দূর করে। এ সময় মাকে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে।
বুকের দুধ বাড়াতে জরুরি খাবার
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার : মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ইত্যাদি।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার : দুধ, দই ও পনির।
শাক-সবজি ও ফলমূল : বিশেষত পালং শাক, ব্রকোলি, গাজর, পেঁপে ও কলা।
শস্যজাতীয় খাবার : ওটস, বাদাম, কাজু এবং অন্যান্য শুকনা ফল।
প্রচুর পানি ও তরল : পর্যাপ্ত পানি, ফলের রস ও স্যুপ খেতে হবে।
শিশুর জীবনে প্রথম ছয় মাস শুধু মাতৃদুগ্ধই তার জন্য সর্বোত্তম খাবার। একজন মা ও শিশুর সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে সঠিক নিয়মে ও আন্তরিক যত্নে বুকের দুধ পান করানোর মাধ্যমে।