কিশোর অপরাধ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত যেকোনো অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। এসব অপরাধের মধ্যে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবহার ও পাচার, সংঘবদ্ধ গ্যাং-সংস্কৃতি, মারামারি, এমনকি খুন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অবহেলা, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধমূলক চক্রে জড়িয়ে পড়া এর প্রধান কারণ।
শিশু-কিশোরদের অপরাধজগতে জড়ানোর পেছনে অনেক সময়ই পরিবারের ভাঙন, বাবা-মায়ের সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব এবং সঙ্গদোষ কাজ করে। অনেক কিশোর ‘হিরোইজম’ বা আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা থেকে গ্যাং তৈরি করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সামাজিক অনুশাসনের অভাব ও আইনের দুর্বল প্রয়োগও অপরাধ বাড়ার অন্যতম কারণ।
এই সমস্যা সমাধানে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোরদের উপযুক্ত নৈতিক শিক্ষা, সঠিক বিনোদন ও সামাজিক মূল্যবোধে দীক্ষিত করা জরুরি। পাশাপাশি পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা এবং সহানুভূতিশীল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের অপরাধ জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, কিশোররা ভবিষ্যতের কর্ণধার—তাদের রক্ষা করা মানেই জাতিকে রক্ষা করা।








