সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তাঁর জন্ম ১৭৩৩ সালে মুর্শিদাবাদে, নবাব আলিবর্দী খানের দৌহিত্র হিসেবে। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজপরিবারের আদরে ও সামরিক প্রশিক্ষণে বড় হন। আলিবর্দী খান তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং জীবদ্দশাতেই উত্তরসূরি ঘোষণা করেছিলেন। ১৭৫৬ সালে আলিবর্দীর মৃত্যুর পর সিরাজ নবাবের গদি লাভ করেন।
তাঁর শাসনকাল ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগ্রাসনের সময়কাল। সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানির দখলদারিত্বের বিরোধিতা করেন এবং তাদের বেআইনি বাণিজ্য ও দুর্গ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। ফলে কোম্পানির সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে পৌঁছে।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাবের সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। যুদ্ধের পর তিনি পালিয়ে যান, কিন্তু পরে ধরা পড়ে মীর জাফরের নির্দেশে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীন শাসনের অবসান ঘটে এবং উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি মজবুত হয়। তাঁর জীবন ও মৃত্যু আজও বাংলার ইতিহাসে শোক ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।