ওমর খৈয়াম ছিলেন একজন মধ্যযুগীয় পারস্যের প্রখ্যাত কবি, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও দার্শনিক। তাঁর পুরো নাম ছিল গিয়াস উদ্দিন আবু আল ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-খৈয়াম আল নিশাপুরি। তিনি ১০৪৮ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ইরানের নিশাপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই ওমর খৈয়াম ছিলেন মেধাবী ও জ্ঞানপিপাসু। তিনি গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যসহ বহু বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর গণিত বিষয়ক কাজ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।জ্যোতির্বিজ্ঞানেও ওমর খৈয়ামের কৃতিত্ব অপরিসীম। তিনি পারস্যে সেলজুক শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অত্যন্ত নিখুঁত সৌর ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেন, যা “জালালি ক্যালেন্ডার” নামে পরিচিত। তাঁর জীবনযাপনে ধর্ম ও দর্শনের প্রতি এক ধরনের প্রশ্নাত্মক মনোভাব ছিল। তিনি বাস্তববাদী ছিলেন এবং জীবন, মৃত্যু ও সময় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন। এই ভাবনাগুলোর প্রতিফলন তাঁর কবিতায় পাওয়া যায়।ওমর খৈয়াম মূলত ছোট ছোট চার লাইনের কবিতা, যাকে ‘রুবাই’ বলা হয়, তা রচনা করতেন। তাঁর কবিতাগুলোতে জীবন, সময়, প্রেম, ভাগ্য, মৃত্যুবোধ ও সৃষ্টির রহস্য নিয়ে গভীর দার্শনিক চেতনা ফুটে উঠেছে। তাঁর লেখা “রুবাইয়াত” (Rubaiyat) শত শত বছর পরও বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত। বিশেষ করে ইংরেজ অনুবাদক এডওয়ার্ড ফিটজজেরাল্ড তাঁর কবিতাগুলো অনুবাদ করার পর পাশ্চাত্যে তাঁর খ্যাতি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।১১৩১ খ্রিস্টাব্দে নিশাপুরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর বহু শতাব্দী পরও ওমর খৈয়ামের কবিতা ও চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক ও আলোচিত। একাধারে তিনি বিজ্ঞানের প্রতি উৎসর্গীকৃত মনন ও কাব্যের গভীর সৌন্দর্যের এক বিরল মিশ্রণ। তাঁর জীবন ও কর্ম জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা এবং মানব অস্তিত্বের গভীর অনুসন্ধানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।