সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নাচ, গান, কবিতায় বর্ষাবরণ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে
গতকাল রবিবার ছিল আষাঢ়ের প্রথম দিন। তীব্র খরতাপে পুড়িয়ে বিদায় নিয়েছে গ্রীষ্মকাল। এসেছে স্বস্তির বর্ষা ঋতু। এদিন সকালের আকাশে ভাসছিল গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘমালা।

রাজধানীর কোথাও কোথাও বর্ষার প্রথম এক পশলা বৃষ্টিও হয়েছে। এমন স্নিগ্ধ পরিবেশে সকাল সোয়া ৭টায় শুরু হয় রূপময় ঋতু বর্ষার বন্দনা। চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সেতার বাদনে রাগ আহীর ভৈরব পরিবেশন করেন নবীন শিল্পী সোহানী মজুমদার। তাঁর পরিবেশনা দিয়ে সূচনা ঘটে ‘বর্ষা উৎসব ১৪৩২’-এর।
এরপর সুর-সংগীত, কবিতা আর নৃত্যের অবিরাম ধারা চলতে থাকে। এ আয়োজনে শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। 

বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ১৮তম এ উৎসবে যখন সুরের ধারা ছড়িয়ে পড়ে, তখন একই সময় বর্ষার গান, কবিতা ও নৃত্যের সঙ্গে ‘দেখ, পান্থকুঞ্জ জেগে আছে, হত্যা হলে একটি বৃক্ষ লড়াই হবে তোমার সাথে’ স্লোগানে সরব ছিলেন আরেকদল শিল্পী। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে বর্ষা বন্দনা করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

এদিন বিকেলে সিদ্ধেশ্বরীর লালন অডিটরিয়ামে আষাঢ় উদযাপন করে রঙ্গে ভরা বঙ্গ ও লালন কেন্দ্র। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজিত বর্ষা উৎসবের কথন পর্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল একক ও দলীয় কণ্ঠে বর্ষার গান, নাচ ও আবৃত্তি।

 

উৎসবে বর্ষা নিয়ে বলা হয়, ষড়ঋতুর দেশ বাংলার জীবনধারা পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত, সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ঋতুর চরিত্র। গ্রীষ্ম হয়ে উঠছে খরতর, বর্ষা অনেক রুষ্ট এলোমেলো, শীত একাধারে নরম ও চরম, বসন্ত ক্ষীয়মাণ। প্রকৃতির ওপর মানুষের সীমাহীন অনাচার জন্ম দিয়েছে বিশ্বজনীন সংকটের। ভূপৃষ্ঠ হয়েছে তপ্ততর, সমুদ্রজল স্ফীত, ওজোন বলয় ক্ষতিগ্রস্ত। আধুনিক জীবনযাত্রা গড়ে তুলছে অপচয়ের পাহাড়, মাটি খুঁড়ে প্রকৃতির সম্পদ আহরণে সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার ভারে পিষ্ট ও বিপন্ন আজকের পৃথিবী। সভ্যতার দম্ভ ও প্রকৃতির ঔদার্যের মধ্যে বৈরিতা মানব অস্তিত্বের জন্য তৈরি করছে হুমকি। প্রকৃতি আজ মানবের কাছে দাবি করছে সংবেদনশীলতা ও সহমর্মিতা, জীবনযাপন ও প্রকৃতির মধ্যে সমঝোতা। ঘোষণাপত্রে সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, ‘বর্ষার মিলনপিয়াসী মানস আমাদের সচকিত করে মানবসমাজে সৃষ্ট ঘৃণা বিদ্বেষ সংঘাত রোধে, প্যালেস্টাইনে, দেশে দেশে, স্বদেশে। বর্ষার জলধারায় সিক্ত হোক সবার জীবন, হোক আনন্দময় ও কল্যাণব্রতী।’

এ আয়োজনে একক কণ্ঠে ছিল চারটি করে রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত। শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী পরিবেশন করেন নজরুলের ‘রিম্ ঝিম্ ঘন ঘন রে বরষে’ গানটি। সালাউদ্দিন আহমেদ গেয়ে শোনান ‘বরষা ঐ এলো বরষা’। বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী ‘শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এলো না’, নবনীতা জাইদ চৌধুরী ‘শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা’ গান দুটি পরিবেশন করেন। অন্যদিকে শিল্পী অনিমা রায় পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান’, শামা রহমান পরিবেশন করেন ‘মেঘের’ পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে’, শিল্পী মকবুল হোসেন ও ফেরদৌসী কাকলি একক কণ্ঠে যথাক্রমে ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে’ ও ‘গহন রাতে শ্রাবণধারা পড়িছে ঝরে’ গান দুটি পরিবেশন করেন।

বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানিরে’ লোকসংগীত গেয়ে শোনান। শ্রাবণী গুহ রায় বিখ্যাত ‘কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া’ গানটি করেন। ছিল সুরবিহার, বহ্নিশিখা, সুর নন্দন, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর দলীয় সংগীত পরিবেশন। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে তামান্না রহমানের পরিচালনায় নৃত্যম, ওয়ার্দা রিহ্যাবের পরিচালনায় ধৃতি নর্তনালয়। নৃত্যাক্ষ, স্পন্দন, বেনুকা ললিতকলা কেন্দ্র, মিনথিয়া একাডেমি অব আর্টসের ছিল নৃত্য আয়োজন।

নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি আবৃত্তি করেন জয় গোস্বামীর মেঘ বালিকার জন্য রূপকথা। আহসান উল্লাহ তমাল আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী। আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যের কোলাজ পরিবেশন করে শিল্পবৃত্তের শিশু-কিশোর দল।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com