সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মনোজের নতুন অধ্যায়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

একটি চলচ্চিত্রের স্বপ্নকে পর্দায় রূপ দিতে গল্পের পাশাপাশি প্রয়োজন অর্থ, দক্ষতা ও একদল নিবেদিত মানুষের। নতুনদের নিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই হেঁটেছেন অভিনেতা ও মডেল মনোজ প্রামাণিক। অভিনয়ের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে প্রযোজক হিসেবে তাঁর এই যাত্রায় বড় প্রাপ্তি হয়ে এসেছে ‘সাঁকোটা দুলছে’। ছবিটি একের পর এক জায়গা করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। মিনস্ক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছয়টি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন, পোল্যান্ডের এনরগাক্যামেরিমেজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দুটি বিভাগে নির্বাচন এবং মিসরের কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ– সব মিলিয়ে ছবিটির পথচলা আশাব্যঞ্জক।
তবে মনোজ প্রামাণিকের কাছে এই যাত্রার গল্প শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা, অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া এবং নতুন নির্মাতাদের নিজেদের মতো করে গল্প বলার স্বাধীনতা দেওয়ার প্রত্যয়। কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা, অভিনয় ও প্রযোজনা– তিনটি ক্ষেত্রেই সামলাতে হচ্ছে ব্যস্ততা। তবু অভিনয় তাঁর প্রথম ভালোবাসা। আর প্রযোজনা হয়ে উঠেছে নতুনদের পাশে দাঁড়ানোর একটি পথ।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁকোটা দুলছে’র অংশগ্রহণ মনোজের প্রযোজক সত্তাকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। বিশেষ করে পোল্যান্ডের এনরগাক্যামেরিমেজ চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির নির্বাচিত হওয়াকে তিনি বাংলাদেশের দৃশ্যভাষার জন্য সম্মানজনক বলে মনে করেন। সিনেমাটোগ্রাফির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এই উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। মিনস্ক উৎসবে ছয়টি পুরস্কারের মনোনয়ন এবং কায়রো উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খবরও ছবিটির যাত্রাকে তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। তবে উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আর পুরস্কার অর্জন এক বিষয় নয়। মনোনয়ন ও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছবিটি আন্তর্জাতিক দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে– এটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
দেশে ছবিটির প্রিমিয়ারের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছরের জানুয়ারিতে। এরপর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের। ‘সাঁকোটা দুলছে’ নির্মাণে পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের বদলে নতুনদের নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মনোজ মনে করেন, চলচ্চিত্রের ধরন এবং নির্মাতারা ছবিটিকে যে জায়গায় নিয়ে যেতে চান, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিনয়শিল্পী ও নির্মাণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সেই বিবেচনা থেকেই কাস্টিং করা হয়েছে। পরিচিত মুখ নিয়ে হয়তো একইভাবে কাজটি করা সম্ভব হতো না।
শুরুতে ছবিটির দলের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই ছিলেন শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই এখন পড়াশোনা শেষ করেছেন। নতুন একটি দল নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা সহজ ছিল না। কাজের প্রতি আগ্রহ ও চেষ্টা থাকলেও অভিজ্ঞতার অভাবে নানা ভুল হয়েছে, কিছু কাজ নতুন করে করতে হয়েছে। সংশোধন করতে হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অর্থের সংস্থান করার চাপ।
মনোজের মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ যত এগোয়, ব্যয়ও তত বাড়ে। ফলে অর্থের জোগান ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তবু নতুনদের নিজেদের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আপস করতে চাননি।
‘সাঁকোটা দুলছে’র পাশাপাশি মনোজ যুক্ত আছেন সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘সেয়ানা’ চলচ্চিত্রের কাজেও। টঙ্গীর রেলস্টেশন ও বস্তি এলাকায় ছবিটির শুটিং চলছে। এই সিনেমাতেও পরিচিত মুখের ওপর নির্ভর না করে কমিউনিটি কাস্টিংয়ের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। যে চরিত্রের জন্য যেমন মানুষ প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে তাঁকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। মনোজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাস্টিং এভাবেই করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাসুদ মহিউদ্দিন পরিচালিত সরকারি অনুদানের ‘বকুল কথা’ চলচ্চিত্রে মনোজ অভিনয় করেছেন বকুল নামে এক ট্রান্সজেন্ডার চরিত্রে। তাঁর কাছে এটি ছিল ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। মানুষের মনস্তত্ত্ব, পরিচয় এবং নারী-পুরুষ সত্তার জটিলতা অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে পারাকে তিনি বিশেষভাবে মূল্য দেন। ছবিটির কাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিনয়ই প্রথম ভালোবাসা
প্রযোজনা ও শিক্ষকতার ব্যস্ততা বাড়লেও মনোজের কাছে অভিনয়ই প্রথম। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং অভিনয়– এই তিন ক্ষেত্রের কাজ একসঙ্গে সামলাতে হয় তাঁকে। তবু অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। কয়েক বছর আগে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অভিনয় ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও সেটিকে তিনি পুরোনো ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। তাঁর পেজে যান্ত্রিক ত্রুটি বা হ্যাকিংয়ের কারণে একটি পোস্ট প্রকাশিত হওয়া থেকেই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানান তিনি। মনোজ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আমার আকর্ষণ। পরিবারের সদস্যদের সামনে নানা চরিত্রে সেজে অভিনয় করতাম। বাবা-মাও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই পারিবারিক পরিবেশ ও শৈশবের অভ্যাস অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাকে গভীর করেছে। যদিও থিয়েটারে স্নাতকোত্তর ছিল নির্দেশনা বিষয়ে এবং পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই মূলত এই অঙ্গনে এসেছিলাম, শেষ পর্যন্ত অভিনয়ই আমাকে বেশি পরিচিতি দিয়েছে। এখানেই আমার এখন মনোযোগ বেশি।’ প্রশংসা ও সমালোচনা তাঁকে সমানভাবে ভাবায়। প্রশংসার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে যেমন কখনও সংশয় তৈরি হয়, তেমনি নেতিবাচক মন্তব্যেও কষ্ট পান তিনি। ‘সাঁকোটা দুলছে’র আন্তর্জাতিক উৎসবযাত্রা মনোজের প্রযোজক সত্তাকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর কাছে সাফল্যের আরেকটি মাপকাঠি হলো নতুনদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করা। অর্থের সীমাবদ্ধতা, অনভিজ্ঞ দলের ভুল কিংবা নির্মাণের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তাদের নিজস্ব ভাষায় গল্প বলার স্বাধীনতা দেওয়াই তাঁর উদ্যোগের মূল কথা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com