বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ নাকফুল। একসময় বিয়ে, উৎসব কিংবা বিশেষ আয়োজনে বড় ও নকশাদার নাকফুলে সাজতেন নারীরা।
বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ নাকফুল। একসময় বিয়ে, উৎসব কিংবা বিশেষ আয়োজনে বড় ও নকশাদার নাকফুলে সাজতেন নারীরা।
ঐতিহ্য থেকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট
একসময় নাকফুলকে মূলত বিবাহিত নারীর অলংকার হিসেবেই দেখা হতো। বিয়ের আগে কনের নাক ফোঁড়ানো এবং সোনার নাকফুল পরার রীতি ছিল।
তরুণীদের পছন্দে Less is More
বর্তমান প্রজন্মের তরুণীদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে হালকা, ছোট এবং সহজে পরা যায় এমন ডিজাইনের নাকফুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে ছোট সিঙ্গল-স্টোন, মিনিমাল গোল্ড স্টাড, ছোট ফুল কিংবা সূক্ষ্ম নকশার নাকফুল বেশি মানানসই। উৎসব, পার্টি বা বিশেষ আয়োজনে কালার স্টোন, একাধিক পাথর কিংবা একটু বড় নকশার নাকফুল বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বর্তমান ট্রেন্ডকে তাই এককথায় বলা যায় Less is more।
নকশায় ফিউশন
আধুনিক নাকফুলের ডিজাইনে যুক্ত হয়েছে জ্যামিতিক, মিনিমাল ও ফিউশন টাচ। প্রচলিত ফুল ও কদম মোটিফের পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে গোল, ডট, হার্ট, স্টার ও বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা। বর্তমান বাজারে উল্লেখযোগ্য ডিজাইন হলো সিঙ্গল-স্টোন নাকফুল, ৩, ৫ ও ৭-পাথরের ডিজাইন, ফুল ও কদম মোটিফ, গোল ও ডট ডিজাইন, হার্ট ও স্টার ডিজাইন, মিনিমাল গোল্ড স্টাড, ছোট নোজ রিং, এল শেপ নোজ পিন, স্ক্রু টাইপ নোজ পিন, ডায়মন্ড ও কালার স্টোনের নকশা, নন-পিয়ার্সড নোজ পিন। এই বৈচিত্র্যের কারণেই নাকফুল এখন আধুনিক পোশাকের সঙ্গেও সহজে ব্যবহার করা যাচ্ছে।

উপকরণ
সোনা, রুপা ও গোল্ড-প্লেটেডের পাশাপাশি নাকফুল তৈরির উপকরণেও এসেছে বৈচিত্র্য। সোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বাজেট ও রুচির কথা বিবেচনা করে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের উপকরণের নাকফুল।
সোনা : ১৮ক, ২১ক ও ২২ক সোনায় নাকফুল তৈরি হয়। ডিজাইন, ওজন ও ক্যারেট অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হয়।
ডায়মন্ড : ছোট সিঙ্গল ডায়মন্ড থেকে শুরু করে মাল্টি-স্টোন ডিজাইন পর্যন্ত পাওয়া যায়।
আমেরিকান ডায়মন্ড বা জিরকন : তুলনামূলক কম বাজেটে ঝলমলে লুকের জন্য জনপ্রিয় এই উপকরণের নাকফুল।
রুপা : সোনার বিকল্প হিসেবে রুপার নোজ পিন ও নোজ রিংও ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোল্ড-প্লেটেড মেটাল : ফ্যাশন জুয়েলারিতে এর ব্যবহার বাড়ছে। কম দামে বিভিন্ন ট্রেন্ডি ডিজাইন পাওয়া যায়।
কাঠ : কাঠের নকশা করা বিভিন্ন আকৃতির ছোট-বড় নাকের গয়নাও বেছে নিচ্ছেন তরুণীরা।
নাকফুল বানাতে চাইলে
নিজের পছন্দ অনুযায়ী নাকফুল তৈরি করতে চাইলে কোনো ছবি, স্কেচ বা পছন্দের ডিজাইনের রেফারেন্স জুয়েলার্সকে দেখানো সবচেয়ে সহজ উপায়। বর্তমানে অনেক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের রেফারেন্স অনুযায়ী নাকফুল তৈরি করে। তবে কাস্টমাইজড নাকফুল তৈরির আগে ডিজাইন, ধাতুর ক্যারেট, ওজন, পাথরের ধরন, মেকিং চার্জ এবং আনুমানিক মূল্য সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া ভালো।
নাক না ফুটিয়েও নাকফুল!
নাক ফোটানো নেই তাই নাকফুল পরা যাবে না—এমন ধারণারও এখন অবসান হয়েছে। বাজারে এসেছে নন-পিয়ার্সড নোজ পিন, ক্লিপ-অন ও ম্যাগনেটিক নাকফুল, যা নাক না ফুটিয়েও ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের নাকফুলের সুবিধা হলো নাক ফোটানোর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ডিজাইন পরিবর্তন করা যায়। যারা স্থায়ীভাবে নাক ফোটাতে চান না, তাঁদের জন্য সুবিধাজনক। তবে ক্লিপ-অন নাকফুল দীর্ঘ সময় খুব টাইট করে পরলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই আরামদায়ক ফিট এবং ভালো মানের উপকরণ বেছে নেওয়া জরুরি।
দাম
সোনার ওজন, ক্যারেট, ডায়মন্ড বা পাথরের মান, ডিজাইন, মেকিং চার্জ এবং ব্র্যান্ড—সবকিছু মিলিয়ে দাম নির্ধারিত হয়। আড়ং, দেশীদশের মতো ব্র্যান্ডের দোকানে দাম ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। নিউমার্কেট ও চাঁদনীচকে ১০০ থেকে ১২০০ টাকায় মিলবে। গোল্ড নোজ পিন ২,৯০০ থেকে ৮,৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। ডায়মন্ড নাকফুল কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকাও হতে পারে। তাই কেনার সময় শুধু মোট দাম নয়, সোনার ক্যারেট, ওজন, পাথরের ক্যারেট বা মান এবং মেকিং চার্জ জেনে নেবেন।
কোথায় কিনবেন
নাকফুল কেনার জন্য স্বর্ণের দোকান, জুয়েলারি শোরুম এবং নির্ভরযোগ্য অনলাইন জুয়েলারি প্ল্যাটফর্ম—সবই ব্যবহার করা যায়। সোনা বা মূল্যবান পাথরের নাকফুল কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা, পণ্যের বিবরণ এবং ক্রয়-রসিদ যাচাই করা উচিত।
যত্ন
নাকফুল অত্যন্ত সূক্ষ্ম অলংকার। তাই প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। সোনা ও ডায়মন্ডের নাকফুল প্রসাধনী, পারফিউম ও অন্যান্য রাসায়নিকের সংস্পর্শ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা ভালো। নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে আলাদা জুয়েলারি বক্সে সংরক্ষণ করা উচিত। গোল্ড-প্লেটেড নাকফুলের ক্ষেত্রে পানি, ঘাম, পারফিউম ও লোশনের সংস্পর্শ কমানো ভালো। এতে প্লেটিং দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ডায়মন্ড বা অন্য পাথর বসানো নাকফুলে সেটিং ঢিলা হয়েছে কি না, সেটিও মাঝে মাঝে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সব ধরনের নাকফুল অন্য গয়নার সঙ্গে সরাসরি না রেখে আলাদা ছোট বক্স বা জিপ পাউচে রাখলে আঁচড় ও হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।