সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ভেষজ তেলে চুলের যত্ন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া এবং পরিচর্যার অভাবে চুল নিষ্প্রাণ হওয়া স্বাভাবিক। এর ফলে চুলের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যায়। খুশকি চুল পড়ার সমস্যা বাড়ায়। অনেকে চুলের যত্ন নিতে নামিদামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কেউ কেউ চুলের হেয়ার স্পা, হেয়ার প্যাকও ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক মুক্তি মিললেও চুলের যত্নে তেলের বিকল্প নেই। তবে অনেক সময় বাজারে পাওয়া তেলে এমন অনেক রাসায়নিক পণ্য মেশানো থাকে; যা চুল ও মাথার ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর চেয়ে ভরসা রাখতে পারেন ভেষজ তেলের ওপর। ভেষজ তেল চুলে পুষ্টি জোগায়, চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি চুল নরম ও সিল্কি করে তোলে। দোকান থেকে না কিনে বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন ভেষজ তেল। চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

আমলকী-নারকেল তেল
চুলের পরিচর্যায় আমলকীর ব্যবহার বেশ পুরোনো। আমলকীর সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে তৈরি করা যায় ভেষজ তেল। শুকনো আমলকী টুকরা করে নারকেল তেলে অল্প আঁচে গরম করে নিতে পারেন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে সংরক্ষণ করুন।

জবা ফুলের তেল
জবা ফুল চুলের অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি ও অন্যান্য খনিজ রয়েছে; যা চুলকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এই তেল তৈরি করতে ১০টি জবা ফুল এবং ১০টি জবা ফুলের পাতা নিন। এ দুটি উপকরণ বেটে নিন। এবার পরিমাণ মতো নারকেল তেল নিন। এতে জবা ফুল ও পাতা বাটার মিশ্রণটা নারকেল তেলে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। তেলের রং লাল হতে শুরু করলে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা করে জবা ফুলের তেল ব্যবহার করুন।

মেথির তেল
চুলের যত্নে মেথিও বেশ প্রচলিত। নারকেল বা তিলের তেলের সঙ্গে মেথি দিয়ে তৈরি করা যায় মেথির তেল। এক কাপ তেলে এক থেকে দুই চা চামচ মেথি দিয়ে অল্প আঁচে গরম করে নিন। ঠান্ডা করে ছেঁকে চুলে ব্যবহার করুন।

কালোজিরার তেল
কালোজিরা বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত মসলা। চুলের পরিচর্যাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। অল্প পরিমাণ কালোজিরা নারকেল বা অন্য কোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা গরম করা যায়। তেল ঠান্ডা হলে ছেঁকে ব্যবহার করতে হবে।

নিমের তেল
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল উপাদান থাকায় নিমের তেল মাথার ত্বক ও চুলের জন্য খুব উপকারী। এ তেল ব্যবহারে চুল নরম হয়, চুল ভেঙে যাওয়া রোধ হয়। নিমের তেল সাধারণ খুশকি সমস্যা, মাথার ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে ব্যবহার করা হয়। এই তেল তৈরি করতে প্রথমে নিমের পাতা পরিষ্কার করে পেস্ট করে নিন। ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ৫ মিনিট ফুটিয়ে দেখে নিন রং পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। এবার ওই পেস্ট ছেঁকে নিন। তবে নিম সবার মাথার ত্বকে একইভাবে কাজ করবে তা নয়। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে অল্প পরিমাণ তেল ত্বকে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
তেল ব্যবহারের সময় শুধু চুলে নয়, মাথার ত্বকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। যে তেল ব্যবহার করবেন তা আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে কয়েক মিনিট মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করতে পারেন। অনেকে তেল গরম করে চুলে লাগান। মনে রাখবেন, চুলে ব্যবহারের জন্য হালকা গরম তেল উপযোগী। বেশি গরম তেল ব্যবহার করবেন না। চুলে অনেকক্ষণ তেল রেখে দিলে বেশি উপকার হবে–এমন কোনো কথা নেই। চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী এক থেকে দুই ঘণ্টা পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
কার্নিভাল মেকওভারের স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ তাসলিমা পলাশী বলেন, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, মাথার ত্বকের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। তাই কারও যদি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়ে তাহলে শুধু ভেষজ তেল ব্যবহার করলে কাজ হবে না। একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, চুলের নিয়মিত পরিচর্যায় তেল খুবই উপকারী। তবে ভেষজ উপাদান প্রাকৃতিক বলে যে তা সবার জন্য নিরাপদ বা সব সমস্যার সমাধান করবে, তা নয়। নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো বলে পরামর্শ দেন এই রূপ বিশেষজ্ঞ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com