সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

চারু ও তার বন্ধুরা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

খালামণির সঙ্গে চিড়িয়াখানায় যাবে চারুলতা। নতুন জামা, জুতো, দুই হাতে দুটি চুড়ি আর কপালে লাল টিপ পরে সুন্দর করে সেজেছে। প্রথমবার চিড়িখানায় যাবে তাই খুব খুশি সে।
সাজুগুজু করে সেই কখন থেকে খালামণির জন্য অপেক্ষা করছে চারুলতা। এখনও আসার নাম নেই। বারান্দার দোলনায় অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো সে। ওদিকে চারুলতার কপালের টিপ, পরনে জামা, চুড়ি, জুতো ওরা বন্ধু হয়ে গেলো। নিজেদের মধ্যে গল্পও করতে শুরু করলো। টিপ বললো, ‘আজ আমরা বাঘ দেখবো!’ একটি চুড়ি বললো, ‘আমি বানর দেখতে চাই।’ অন্য চুড়ি হেসে বললো, ‘আর আমি হাতি দেখতে চাই!’ জামা বললো, ‘আমি সাপ দেখতে চাই।’ জুতো বললো, ‘আমি সব দেখবো। চিড়িয়াখানায় যা যা পশুপাখি আছে সব।’ ‘এমা! এ কীভাবে সম্ভব? তোমার মতো আমরাও কি সব দেখতে পারবো?’ টিপ বললো। জুতো বললো, ‘আলবাৎ পারবে।’ ‘কীভাবে?’ জামা বললো।
জুতো হেসে উত্তর দিল, ‘আমি যেমন সারাক্ষণ চারুলতার পায়ে পায়ে থাকবো, তেমনি তোমরাও তো তার কপালে, হাতে, গায়ে থাকবে; চারুলতা সব দেখলে তার সাথে থেকে আমরাও সব দেখতে পাবো।’
এই বলে সবাই হাসাহাসি করতে লাগলো।
এমন সময় খবর এলো খালামণি আজ আসতে পারছে না। জরুরি কাজ পড়ে গেছে খালামণির। আস্তে করে ঘুম ভাঙিয়ে চারুলতাকে খবরটা দিল তার মা। শুনে ভারি মন খারাপ হলো তার। সে দুই হাতের চুড়ি খুলে ড্রেসিং টেবিলে গিয়ে রেখে দিল। কপালের টিপ খুলে টেবিলের আয়নায় সেঁটে দিল। তারপর পাশে থাকা ওর প্রিয় পুতুলটা কোলে নিয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়লো।
এদিকে টিপ আর চুড়িগুলোরও খুব মন খারাপ হলো। ওরা ভেবেছে চারুলতা ঠিকই চিড়িয়াখানায় যাচ্ছে, কিন্তু ওদের নিয়ে যাচ্ছে না। মন খারাপ করে টিপ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, ‘মনে হয়েছিল আমরা সবাই মিলে চিড়িয়াখানায় যাবো!’
চুড়ি দুটি একসাথে বললো, ‘কতো আনন্দ হতো সবাই মিলে চিড়িয়াখায় ঘুরতে গেলে। আনন্দটাই মাটি হয়ে গেলো।’
চারুলতার কোলে বসে পুতুল বললো, ‘তোমাদের মতো আমারও খুব মন খারাপ। আমিও তো কোনো দিন চিড়িয়াখানায় যাইনি।’ একটি চুড়ি বললো, ‘মন খারাপ কোরো না। একদিন নিশ্চয় আমরা সবাই মিলে চিড়িখানায় বেড়াতে যাবো।’
ঠিক তখনই ঘরে ঢুকলো চারুলতার মামা। সোজা চারুলতার কাছে এসে বললো, ‘শুনেছি জরুরি কাজে আটকা পড়ায় তোর খালামণি আসতে পারছে না। তাতে কী হয়েছে? তাই বলে চারুলতা মামণি চিড়িখানায় যাবে না? আলবাৎ যাবে। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে। আমরা এক্ষুণি চিড়িয়াখানার উদ্দেশে বের হবো।’ চারুলতা পুতুলটা কোলে নিয়ে বললো, ‘চলো বেরিয়ে পড়ি, মামা; আমি তো তৈরিই আছি।’ ‘পুতুলটাও যাবে তোর সঙ্গে?’ মামা বললো। ‘হ্যাঁ যাবে! পুতুলের বুঝি চিড়িয়াখানা দেখার শখ হতে পারে না?’
‘তাহলে চলো বেরিয়ে পড়ি।’
চারুলতা আর তার মামা বের হয়ে গেলো। গাড়িতে উঠবে তখনই কী মনে করে আবার ঘরে গেলো সে। টিপটা পুতুলের কপালে আর চুড়ি দুটি পুতুলের হাতে পরিয়ে দিল। তারপর পুতুলের গালে চুমু খেয়ে বললো, ‘এইবার আমার পুতুল সোনাকে আরও সুন্দর লাগছে।’ গাড়িতে উঠে টিপ, চুড়ি, জামা, জুতো আর পুতুল–সবাই খুশি। জীবনে প্রথমবার চিড়িয়াখানায় যাচ্ছে সবাই। ওরা বুঝতে পারলো, বন্ধুরা একসঙ্গে থাকলে আনন্দ আরও বেড়ে যায়!
কে যেন মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে টের পেয়ে চারুলতা চোখ মেলে তাকায়। দেখে তার মামা দাঁড়িয়ে। বলছে, ‘শুনেছি জরুরি কাজে আটকা পড়ায় তোর খালামণি আসতে পারছে না। তাতে কী হয়েছে? তাই বলে চারুলতা মামণি
চিড়িখানায় যাবে না? আলবাৎ যাবে। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে। আমরা এক্ষুণি চিড়িয়াখানার উদ্দেশে বের হবো।’
একটু আগে ঘুমের মধ্যে আসা মামার কথা মনে করে মিটিমিটি হাসলো চারুলতা। চোখ কচলে দেখলো তার পুতুলের কপালে টিপ আর হাতে চুড়ি নেই। সে পুতুলটাকে টিপ
আর চুড়ি পরাতে তড়িঘড়ি ড্রেসিং টেবিলে গিয়ে বসলো।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com