সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বয়স ৩০ হলেই চোখের বাড়তি যত্ন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

হয়তো অনেকে ভাবছেন এত বয়স রেখে ৩৫ কেন?
তাহলে খুলেই বলি। আমাদের মানবদেহে বিভিন্ন বয়সে দেহের কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়।
শিশু বয়স পার হলেই শুরু হয় ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সের পরিবর্তন। তখন একটি মানুষ যৌবনে উপনীত হযন। তাঁর শরীরে বলনে গঠনে মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। তিনি যৌবনপ্রাপ্ত হন, যা চলতে থাকে ৩৫/৪০ বছর পর্যন্ত।

৩৫ থেকে ৪০ এলে তিনি ধীরে ধীরে যৌবন হারাতে থাকের উপনীত হযন বার্ধক্যে। তখন তাঁর শরীরে কিছু পরিবর্তন হয়। কিছু কিছু রোগ তাঁর শরীরে দানা বাঁধতে থাকে। কৈশোর যৌবন বয়সে শরীরে অনিয়ম অত্যাচার যা করা হয়েছিল,শরীরটা তা সহ্য করেছিল। এই বয়সে শরীর ধীরে ধীরে ঢিল দিতে থাকে। ব্যাপারটা এমন ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না’।
যৌবন শেষের এই বার্ধক্যে শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে; যা চলতে থাকে আর স্বাভাবিকে ফিরে আসে না।
পরবর্তী ধাপ শুরু হয় ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সে পর্যন্ত। তখন একটা মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন রোগ বালাই তখন শরীরের বাসা বাঁধে এবং একপর্যায়ে ভুগে ভুগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। এই হলো আমাদের জীবন চক্র।

আমার আলোচনা ৩০ বছরের ঊর্ধ্ব হলে আপনি কী করবেন। যারা বংশগত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারা এই বয়সে এ রোগের জটিলতায় (Complecations) আক্রান্ত হন বেশি। অনেকে এর আগেও। এ ছাড়া ক্যান্সার, কিডনিতে, লিভারে পাথর সাধারণত এই বয়সে বেশি দেখা যায়। মেয়েদের বেলায় মাসিকের সমস্যা, জরায়ু সমস্যা, জরায়ু ঘটিত রোগ এ বয়সেই শুরু হয়। অনেক পুরুষের বেলায় প্রোস্টেট সমস্যা এই বয়স থেকে শুরু হতে পারে। বলাবাহুল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুরু হয় ৫৫ বছর বয়সের পরে।
আমার আলোচনা চোখে রোগ সম্বন্ধে।

সাধারণত এই বয়সে চোখের লেন্স শক্ত হওয়া শুরু করে; যা বয়সজনিত ছানি (Cataract) রোগের পূর্ব লক্ষণ। ৩৫ বছর শুরু হলে অনেকেই কাছে কম দেখা শুরু করেন। হাত লম্বা করে বইপত্র বা সূক্ষ্ম জিনিস একটু দূরে সরিয়ে দেখেন। ভালো দেখা যায়। যেটিকে আমরা সাদামাটা কথায় বলি চল্লিশা। চক্ষু ডাক্তারি ভাষায়  বলা হয় Presbyopia.
চোখের চিকিৎসক দেখিয়ে চশমা নিলে এই সমস্যার সাময়িক সমাধান হয়। যাদের চোখে ছানি পড়ে তারা দূরের বস্তু কম দেখেন। অনেকে বেলা বাড়লে দিনের আলো বেশি হলে কম দেখেন। অনেকে দূরে কম, কাছে ভালো দেখেন বলে মনে করেন চোখ মনে হয় ভালো হয়ে গেছে। আসলে তা নয়।
চোখে নীরব ঘাতক রোগটি হলো গ্লুকোমা; যা এ বয়সে দেখা যায়। কারও বংশে গ্লুকোমা রোগ থাকলে তারা এই বয়স এলে সতর্ক হয়ে যাবেন। জেনে রাখুন তারা ধীরে ধীরে অপরিবর্তনশীল এক অন্ধত্বের পথে এগোচ্ছেন। যারা অল্প বয়স থেকে ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন ৩৫ বয়স এলে তারা চোখের জটিল সমস্যায় প্রবেশ করতে পারেন; যাকে আমরা বলি রেটিনোপ্যাথি। এক অপরিবর্তনশীল অন্ধত্বের পথে এগিয়ে চলা।
তাই বয়স ৩৫ পার হলে চোখের যে কোনো কম দেখাকে হেলাফেলা না করে আপনার কাছে যে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন তাঁর কাছে একবার হাজির হন। আপনার সমস্যা বা না থাকলেও বলুন এবং তিনি আপনাকে সমাধানের পথ বলে দেবেন।

[চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর]

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com