সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দশ মাস দশ দিন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ হলেই গর্ভধারণ হয়ে গেছে, সন্তান আসছে—এই ধারণা সব সময় সঠিক না-ও হতে পারে। ইউরিন টেস্ট পজিটিভ হলেও পরে একটোপিক প্রেগনেন্সি হতে পারে।

একটোপিক প্রেগনেন্সির শুরুর দিকের সব উপসর্গ স্বাভাবিক গর্ভধারণের মতো। তবে এ ধরনের গর্ভধারণে একজন নারী কখনোই মা হতে পারেন না। কারণ গর্ভধারণের স্বাভাবিক স্থান হলো জরায়ু। এই গর্ভধারণ হয় জরায়ুর বাইরে।
সঠিক সময়ে চিকিত্সা না হলে এ ধরনের গর্ভধারণ নারীর জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই শুরু থেকেই গর্ভধারিণীকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকতে হবে। 

দশ মাস দশ দিন

গর্ভাবস্থাকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করি। প্রথম তিন মাস, পরের তিন মাস এবং শেষের তিন মাস।

তিনটি ধাপে একেকজন গর্ভবতী নারীর একেক রকম অভিজ্ঞতা হয়। আবার অনেকেই আছেন, যাঁদের খুব একটা সমস্যা হয় না। গর্ভধারণের পুরো সময়টা তাই একেকজন নারীর জন্য একেক রকম অভিজ্ঞতা। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে একটি সুস্থ সবল নবজাতক জন্ম দেওয়ার পুরোটা সময় একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই জার্নিতে তারও যেমন সুস্থ ও সচেতন থাকা জরুরি, তেমনি পরিবার ও কাছের মানুষদেরও পাশে থাকা অপরিহার্য।
 

দশ মাস দশ দিন
গর্ভবতী মাকে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে চেকআপের জন্য যেতে হবে। মডেল : নোমিরা

হরমোনজনিত পরিবর্তন : গর্ভাবস্থায় নারীদেহে বিভিন্ন ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন হয়। বিশেষত বিটা এইচসিজি নামে একটি হরমোনের জন্য প্রথম তিন মাসে অনেকের প্রচুর বমি হয়। এমন হলে ভয় না পেয়ে ধৈর্যসহকারে নিজের যত্ন নিতে হবে। স্বাভাবিক খাবারে বমি হলে শুকনা খাবার খেতে হবে। যেমন—চিড়া, মুড়ি, শুকনা বিস্কুট ও খই। শুকনা খাবারে বমিভাব কমে। শুরুর দিকে সকালবেলায় বেশির ভাগ নারীর শরীর খারাপ লাগে। অনেকের অতি মাত্রায় মাথা ঘোরা, জ্বর জ্বর লাগা, খাবারে গন্ধ, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত বমি থেকে বিরক্তি ও দুর্বলতা হতে পারে। এ জন্য বারবার ওরস্যালাইন ও পানিজাতীয় খাবার খেতে হবে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস পার হওয়ার পর এই ধরনের সমস্যাগুলো কমে আসে। এ সময় অনেকের বিষণ্নতা তৈরি হয়। হঠাত্ অতিরিক্ত শারীরিক পরিবর্তন, নতুন ও বড় ধরনের দায়িত্ব পালনের দুশ্চিন্তায় অনেক নারী মানসিক চাপে ভুগতে থাকেন। কর্মজীবী নারীরা আরো বেশি সংগ্রাম করেন। একই সঙ্গে ঘর ও বাইরের কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বাসার সবার সহযোগিতা পেলে গর্ভস্থ নারী ও শিশু অনেক ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে দূরে থাকবে।

গর্ভাবস্থায়ও নিজের যত্ন নিতে হবে। হাসিখুশি থাকতে হবে। মডেল : অবনী, ছবি : এটুজেড 

মাতৃত্বজনিত অসুখ : গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়। অনেকে মাতৃত্বজনিত ডায়াবেটিস, উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপসহ বহুবিধ অসুস্থতার শিকার হন।

ফলিক এসিড : গর্ভধারণের শুরু থেকে সন্তান জন্মের তিন মাস পর্যন্ত ফলিক এসিড (ভীষণ জরুরি আয়রন ওষুধ) খেতে হবে। ফলিক এসিড এক ধরনের ভিটামিন বি। এই ভিটামিন গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিকাশ এবং বৃদ্ধির জন্য ভীষণ দরকারি। অনেকে মনে করেন, আয়রন ট্যাবলেট খেলেই হবে। শাক-সবজি দরকার নয়। এই ধারণা ভুল। নিয়মিত মৌসুমি দেশি-বিদেশি টাটকা ফল, শাক-সবজি খেতে হবে। ঘরের বাইরে কাজ করেন—এ ধরনের নারীদের গর্ভাবস্থায় বাসা থেকে নেওয়া খাবার ও বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। দূষিত খাবার ও নোংরা পানির মাধ্যমে ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, বমিসহ বহুবিধ অসুখ হতে পারে।

দশ মাস দশ দিন

রূপচর্চা : এই সময় চুল বা ত্বকে অতি মাত্রায় তাপ দেওয়া, রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে সৌন্দর্যচর্চা, সব ধরনের মাদক, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ফাস্ট ফুড, মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম, অতি মাত্রায় অলসভাবে দিন পার করা উচিত নয়। নিয়মিত গোসল, চুল, দাঁত, পোশাক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নখ রাখা অনুচিত। বাতাসে অসংখ্য রোগ-জীবাণু ভেসে বেড়ায়। নখ বাইরে থেকে দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও নখের ভেতরে রোগ-জীবাণু জমতে পারে। গর্ভাবস্থায় বেশির ভাগ নারীর রোগ প্রতিরোধ শক্তি অনেকটা কমে যায়। তাই নিজের অজান্তেই হাত-পায়ের নখে ফাঙ্গাল ইনফেকশনসহ বহুবিধ জীবাণু বাড়তে পারে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির আশায় কানের কার্টিলেজের জায়গায় একাধিক ছিদ্র, উল্কি, গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্লাস্টিক সার্জারি এবং ফিলার করানো অনুচিত।

 শরীরচর্চা : অনেকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চা করেন। তবে গর্ভাবস্থায় ঘরের কাজ, জিমে হালকা শরীরচর্চা করা যাবে। পেট বা কোমরে চাপ লাগে এমন ধরনের শরীরচর্চা ঝুঁকিপূর্ণ। শরীরচর্চার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি পায়। একেকজনের শারীরিক অবস্থা বুঝে চিকিত্সকের পরামর্শ মোতাবেক ওজন কমাতে বা বাড়াতে হবে।

সামাজিক মাধ্যমে ঝুঁকি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখে ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। অন্য একজনের উপকার হয়েছে—এ ধরনের ওষুধ আরেকজন গর্ভবতী নারীর কাজে না-ও লাগতে পারে। সন্তানের মেধা বৃদ্ধি, গর্ভস্থ শিশুর ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য অনেকে অনলাইন থেকে বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন। চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক, সাপ্লিমেন্ট খাওয়া অনুচিত। গর্ভাবস্থায় গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার মাধ্যমে অসংখ্য ওষুধ মা থেকে সন্তানের শরীরে পৌঁছে। কোনো ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর শরীরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা চিকিত্সকই ভালো জানবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখে কফি এনেমা ও আকুপাংচার চিকিত্সা নেওয়া উচিত নয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত লক্ষণ : আগের গর্ভাবস্থায় সন্তান ডাউন সিনড্রোম, ক্লিন ফেলটার সিনড্রোম বা কোনো ধরনের জন্মগত সমস্যা; যেমন—কান কাটা বা অনুপস্থিত, ঠোঁট কাটা, তালু কাটা, এক হাতে ছয়-সাতটি আঙুল, আঙুল জোড়া লাগানো, হূিপণ্ডে ছিদ্র, জনন অঙ্গের অস্বাভাবিক অবস্থা থাকলে চলমান গর্ভাবস্থায় আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। রক্তের আত্মীয়-স্বজন কারো সন্তান বা কেউ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হয়ে থাকলে চিকিত্সককে জানানো উচিত। এখানে লজ্জা বা সংকোচ করে লুকিয়ে রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ভ্রমণে সর্তকতা : অতিরিক্ত দূরের উঁচু-নিচু রাস্তায় ভ্রমণ, পেন্সিল হিল বা হাই হিল জুতা পরা বাদ দিতে হবে। জরুরি কাজের বাইরে অতি মাত্রায় লোকসমাগম ঘটে এ ধরনের জায়গা পরিহার করতে হবে। পেটে ধাক্কা লেগে কোনো বিপদ হতে পারে। আবার অনেক মানুষ থেকে সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে।

তথ্য সংরক্ষণ : বাসায় রক্তচাপ, রক্তে চিনির মাত্রা পরিমাপ করার মেশিন থাকলে খুব ভালো। মাতৃত্বজনিত ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসারের সমস্যায় নিয়মিত ব্লাড সুগার ও ব্লাড প্রেসার মেপে লিখে রাখবেন। কয়েক দিনের রেকর্ড দেখে চিকিত্সকের ওষুধ লিখতে সুবিধা হবে।

বিশ্রাম : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও পেটের ওজন বৃদ্ধি পায়। পুরো শরীরের ওজন বহন করে আমাদের হাড়গুলো। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার কাজ করার পরিবর্তে বিরতি দিয়ে কাজ করতে হবে। একটানা অনেক সময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে হাত, পা, পেট ও কোমরে পেইন বাড়তে পারে।

 সূর্যের আলো : সূর্যের তাপ আমাদের রক্তে ভিটামিন ডি’কে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত দুধ, ডিম, দই, টাটকা শাক-সবজি, রংধনু রঙের খাবার, সামুদ্রিক মাছ, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, বিভিন্ন ধরনের ফলের বীজ খাওয়ার পাশাপাশি সহ রোদের তাপ গায়ে লাগানো অপরিহার্য। তবে সকালের মিষ্টি রোদে ২০ থেকে ৩০ মিনিট থাকতে পারেন। অতিরিক্ত তাপে ত্বকের সমস্যা হতে পারে।

ঘুম : প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। যাঁদের রাতে ঘুমের সমস্যা হয়, তাঁরা রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ খাওয়া অনুচিত।

কায়িক শ্রম : একেবারে শুয়ে-বসে দিন পার করার পরিবর্তে হালকা কাজ করতে হবে। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর রক্ত জমাট বেঁধে যায়। হাতে-পায়ে পানি জমে যায়। নিয়মিত হাঁটাচলা, ধর্ম-কর্ম, ভালো মানের সৃজনশীল ও মুদ্রিত বই নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো রাখবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : বিছানা, বালিশ ও মশারি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসার আসবাবও পরিষ্কার থাকা দরকার। বাড়িঘরের চারদিকে যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু ও হাম হতে পারে। এখন বৃষ্টিও হচ্ছে, আবার গরমও বেশি। এ ধরনের আবহাওয়ায় ডেঙ্গুর জীবাণু বাড়তে থাকে। তাই দিনের বেলায়ও মশারির মধ্যে ঘুমাতে হবে। বাসার বাইরে থেকে যদি কোনো গৃহপরিচারিকা আসে, তাহলে সেই মানুষটারও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। বাসার টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করা অপরিহার্য। নোংরা টয়লেট থেকে যে কেউ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

খাবার : সহজে হজম হয় এ ধরনের খাবার খেতে হবে। অনেকের হজমশক্তি দুর্বল হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়। খাবারের মধ্যে পানিজাতীয় উপাদান, শাক-সবজি, আঁশজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। যেসব সবজি বা ফল খোসাসহ খাওয়া যাবে, সেসব সবজি, ফল, ওটসে আঁশজাতীয় উপাদান বেশি থাকে। আবার এসিডিটির সমস্যা থাকলে পানি ও পানিজাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি পরিমাণে। খাবারের পর ঘুমানোর আগে একটু হাঁটাচলার করা উচিত। দুধ খেলে অনেকের এসিডিটি বৃদ্ধি পায়। এসিডিটি কমানোর জন্য দুধ দিয়ে তৈরি খাবার খেতে পারেন। দুধজাতীয় খাবার শুধু গর্ভাবস্থায় নয়, সারা বছর খাওয়া দরকার। গর্ভাবস্থায় চা-কফি পান করা যাবে। তবে অতিরিক্ত নয়। কেনা ফলের জুসের পরিবর্তে বাসায় তৈরি ফলের রস বেশি উপকারী। গর্ভাবস্থায় যেসব নারীর ওজন অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বা যেসব নারী মাতৃত্বজনিত ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের চিনি ও মিষ্টির পরিমাণ কমিয়ে ফল ও অন্য খাবার খেতে হবে। নিয়মিত কাঁচা সবজি ও সালাদ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেলে খাদ্যতালিকার জন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

কুসংস্কার : নজর লাগতে পারে—এ ধরনের চিন্তা থেকে অনেকে ঘাস, লতা, পাতা, শিকড়, জংলি ফলের বীজ খেয়ে থাকেন। কেউ কেউ তাবিজ-কবজ ব্যবহার করেন। পুত্র বা কন্যা সন্তান লাভের আশায় কবিরাজ ও ঝাড়ফুকের আশ্রয় নেন। চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের মানত বা সেবা গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

পোশাক : অতিরিক্ত গরমে পোশাক হতে হবে সুতি, ঢিলেঢালা, আরামদায়ক। এ ধরনের পোশাক অথবা দেহের গড়ন বুঝে তৈরি করা পোশাক শরীর ও মনকে রাখবে প্রফুল্ল। অনেক অফিসে ইউনিফর্ম ও কোমরে বেল্ট পরতে হয়। পেটে চাপ লাগে—এ ধরনের পোশাক বাদ দিয়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। এই বিষয়ে অফিসের সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

ওজন : এ সময় অনেকের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায়। আবার অনেক নারীর ওজন কমে যায়। ওজন অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা কমে গেলে অবহেলার পরিবর্তে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ মায়ের ওজনের সঙ্গে গর্ভস্থ শিশুর ওজন, বৃদ্ধি ও পুষ্টি নির্ভর করে।

পূর্বপ্রস্তুতি : ডেলিভারিতে আনুমানিক খরচ, করণীয় কাজগুলো কী কী হবে, হাসপাতালে ও বাসায় মা ও শিশুর সঙ্গে কে থাকবেন, জরুরি প্রয়োজনে ব্লাড ডোনারের মতো বিষয়গুলো ডেলিভারির আগে থেকে ঠিক করে রাখা ভালো। এতে প্রয়োজনের সময় অহেতুক ঝামেলা হয় না। ডেলিভারির কিছুদিন সন্তানের জন্য জরুরি সব ধরনের কাপড়, টাওয়েল, মশারি ও বালিশ প্রস্তুত রাখতে হবে। যে বিছানায় সন্তান দিনে থাকবে, রাতে ঘুমাবে, সেই ঘরের দেয়াল, জানালার পর্দা, মেঝে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এসব জায়গা থেকেও রোগ-জীবাণু ছড়াতে পারে। ডেলিভারির শেষের দিকে কয়েকজন ডোনারকে (রক্তদাতা) খুঁজে রাখবেন। সব নরমাল ডেলিভারি বা সিজারিয়ান অপারেশনে রক্ত দরকার হয় না। কিন্তু বিপদ মানুষকে আগাম জানিয়ে আসে না। জরুরি মুহূর্তে একজন ডোনার নিজেও অসুস্থ থাকতে পারেন। এ জন্য ডেলিভারির কিছুদিন আগে যানবাহন, ডোনার ঠিক করে রাখতে হবে। শুধু গর্ভাবস্থা নয়, সব সময় রক্ত নেওয়ার জন্য রক্তের আত্মীয়-স্বজনকে বাদ দিতে হবে। কারণ রক্তের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে রক্ত গ্রহণ করলে ব্লাড রি-অ্যাকশন হতে পারে, যার পরিণতি ভয়ানক।

 

চিকিৎসককে যা জানাবেন

আগের গর্ভাবস্থা বা বর্তমানের গর্ভাবস্থা চলাকালে হূদরোগ, হার্টের কোনো অপারেশন, অতিরিক্ত ওজন অথবা বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত শুকনা-পাতলা দৈহিক গড়ন, কিডনির জটিলতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের সমস্যা, কেমোথেরাপি নেওয়ার ইতিহাস, আগে গর্ভপাত হওয়ার বা গর্ভপাত করানোর ইতিহাস, স্নায়ুরোগ, যক্ষ্মা, শরীরের কোথাও সিস্ট টিউমার পলিপ থাকলে, স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে, বর্তমানের গর্ভধারণের আগে এক বা একাধিক বিয়ের ইতিহাস থাকলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক নারী-পুরুষের সন্তান জন্মদানের আগে থেকে যৌনরোগ ও রক্তবাহিত রোগ থাকে। এসব তথ্য চিকিত্সকের কাছে লুকাবেন না। চিকিত্সকের পরামর্শ মোতাবেক নারীর রক্তে হিমোগ্লোবিন, ভিটামিন ডি লেভেল, কোলেস্টেরল, চিনি, বিলিরুবিন লেভেল, লবণের মাত্রাসহ পরীক্ষা করা উচিত। অনেকে পেটের সন্তান ছেলে, নাকি মেয়ে—এটি জানার জন্য একাধিকবার আলট্রাসনোগ্রাফি করান। চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া একই পরীক্ষা বারবার করাবেন না। গর্ভাবস্থায় চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া যাবতীয় পরীক্ষা করানো অনুচিত। বাসার কাছে বা যাতায়াতের সুবিধা হয় শুরু থেকেই এমন একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে থাকতে হবে। হঠাত্ কোনো বিপদ হলে তাড়াতাড়ি চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া যাবে। সব ধরনের ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নয়। টিটি টিকাসহ চিকিত্সকের পরামর্শ মোতাবেক টিকা নিতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে।

 

অ্যান্টিনেটাল ভিজিট

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গর্ভকালে কমপক্ষে আটবার চিকিত্সকের কাছে চেকআপের জন্য যেতে হবে। এটিকে বলা হয় অ্যান্টিনেটাল ভিজিট। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, পরিবেশ-পরিস্থিতি বিচার করে অ্যান্টিনেটাল ভিজিট কমপক্ষে চারবার করা হয়েছে। আট থেকে ১২ সপ্তাহে একবার, ২৪ থেকে ২৬ সপ্তাহ, ৩৪ ও ৩৮ সপ্তাহে অন্তত একবার চিকিত্সকের কাছে যেতে হবে। তবে প্রয়োজনভেদে এই চেকআপের পরিমাণ একেকজন নারীর ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়।

 

কখন হাসপাতালে যেতে হবে

অতিরিক্ত বমি, চোখের নিচে দেবে গিয়ে কালচে হয়ে যাওয়া, মূত্রের পরিমাণ একেবারেই কম, বমির জন্য গলা দিয়ে রক্ত যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, বিছানা থেকে উঠতে না পারা,

হূত্স্পন্দন একেবারে ধীর হয়ে যাওয়া অথবা অতিরিক্ত বেশি হওয়া, রোগীর মাথা নুয়ে পড়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, খিঁচুনি, ভয়াবহ মাথা ঘোরানো, অনেক জ্বর, পানি ভেঙে যাওয়া, দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান নড়াচড়া না করলে, পেট-কোমর বা মাথা ব্যথা হলে হাসপাতালে যেতে হবে।

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com