মাথার ওপর খোলা আকাশে শরতের মেঘের ভেলা। রোদের ঔজ্জ্বল্যে চোখ আধবোজা হয়ে আসে, কিন্তু তীব্র তাপ নেই তাতে।বরং মাঝেমধ্যে বাতাসে গা জুড়িয়ে যায়। সেই বাতাস গায়ে মেখে সোনাই নদীর দুই তীরে হাজার হাজার মানুষের ঢল। সবার কৌতূহলী চোখ নদীর জলে। ঠিক ৪টা বাজতেই শুরু হলো প্রতিযোগিতা।ঝিলমিল ঝিলমিল’ নৌকাগুলো নেমে পড়ল একে অপরকে পেছনে ফেলে যাওয়ার লড়াইয়ে।
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় গতকাল সোনাই নদীর চিত্র এটি। তিন দশক ধরে এই নদীতে বছরের এই সময়টায় অনুষ্ঠিত হয় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।সিলেট নগর থেকেও কৌতূহলী অনেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে গেছে সোনাই নদীর তীরে নৌকাবাইচ উপভোগে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীও।
প্রতিযোগিতায় এবার সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বড় লেখা উপজেলা থেকে দুটি মিলিয়ে তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম—‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, পূর্বনির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
আয়োজক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় এর সমাধান হয়। সমঝোতা প্রক্রিয়ার অন্যতম শর্ত ছিল, এবার আয়োজন করলেও আগামী দিনে সোনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে না।