সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

একদিনে ডেঙ্গুতে ৯৯৪ রুগী হাসপাতালে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৯৪ জন। চলতি বছরে এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে ১৬ আগস্ট ৮০৫ জন এবং ১১ আগস্ট ৭৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৯৭ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৬ জন এবং এর বাইরে ঢাকা অঞ্চলে ১৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে, ২১৫ জন। এ ছাড়া বরিশালে ১১৭, চট্টগ্রামে ১০৭, ময়মনসিংহে ৭১, রাজশাহীতে ৭৬, রংপুরে ২৩ এবং সিলেটে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছেন ৩১ জন। গত ১ জানুয়ারি থেকে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৯২৩ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মে মাসে দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ৭১৪ জন। জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০৭ জন। জুলাইয়ে হয় ৯ হাজার ২০৬ জন। গতকাল ২৪ আগস্ট পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৩ জন ডেঙ্গু রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশের ছয়টি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলাগুলো হলো ঝালকাঠি, খুলনা, পিরোজপুর, বান্দরবান, ঢাকা ও ময়মনসিংহ।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান বলছে, আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নতুন গতি পেয়েছে। কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরেও সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে পারে। এখনই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মশানাশকগুলোর বিরুদ্ধে এডিস মশার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়া মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন কোনো কীটনাশক প্রয়োগ করলেও তা অকার্যকর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে পারে। এখনই মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, ২৫ বছরেও ঢাকায় কার্যকরভাবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ঢাকার বাইরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও সীমিত। ফলে সামনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হতে পারে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com