সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সুস্থ থাকুক আপনার হার্ট

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সচেতন জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে। হার্ট বা হৃদযন্ত্র আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি সারাক্ষণ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। রক্তের সঙ্গে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও কোষে পৌঁছায় এবং বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণেও সহায়তা করে। বিশ্রামের সময় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃদযন্ত্র সাধারণত প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ লিটার রক্ত পাম্প করে; শারীরিক পরিশ্রমের সময় এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ঘড়ির কাঁটার মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করলেও হৃদযন্ত্র সবসময় সুস্থ থাকবে–এমন নিশ্চয়তা নেই। আধুনিক জীবনযাত্রায় শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তামাক বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।

কেন বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি?
হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো করোনারি ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ বা প্লাক জমে ধমনির পথ সরু হয়ে যাওয়া। এই প্রক্রিয়াকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। ধমনির ভেতরের পথ সংকুচিত হলে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা তৈরি হতে পারে। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এ ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও হৃদরোগ শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। পারিবারিক ইতিহাস, কিছু জেনেটিক কারণ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সে হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি হৃদরোগ, হার্ট ফেইলিউর, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুকের ব্যথা মানেই কি গ্যাস?
বুকের ব্যথাকে অনেক সময় গ্যাস বা বদহজম ভেবে অবহেলা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা হৃদযন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতির সংকেত হতে পারে। করোনারি হৃদরোগজনিত এনজাইনার ক্ষেত্রে সাধারণত বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। হাঁটা, দৌড়ানো, সিঁড়ি ওঠা বা পরিশ্রমের সময় ব্যথা বাড়তে পারে এবং বিশ্রামে কমে আসতে পারে। ব্যথা বা অস্বস্তি হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা ওপরের পেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে সব রোগীর উপসর্গ একই রকম হয় না। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বুকের ব্যথা ছাড়াও শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনুন
হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা কয়েক মিনিট ধরে থাকতে পারে কিংবা কমে আবার ফিরে আসতে পারে। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঝিমঝিম করা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। ব্যথা এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়াও সম্ভব।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। শুধু ব্যথা কমে যাওয়ার অপেক্ষায় বাড়িতে বসে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com