সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শৃংখল ভাঙ্গা বর্ণবাদী আন্দোলনে নারী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

সাত দশক আগের কথা। ১৯৫৬ সালের ৯ আগস্ট। বর্ণবাদের কালো থাবায় তখন পিষ্ট দক্ষিণ আফ্রিকা। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল বৈষম্যমূলক ‘পাস ল’ বা ছাড়পত্র আইন। এর প্রতিবাদে সেদিন প্রশাসনিক রাজধানী প্রিটোরিয়ায় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সব বর্ণের প্রায় ২০ হাজার নারী। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক ‘উইমেন্স মার্চ’-এর ৭০ বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালের আগস্টে। কিন্তু গ্রেপ্তার, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে যে নারীরা সেদিন বর্ণবাদী আইনের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, সাত দশক পর আজ তাদের উত্তরসূরিরা বলছেন–লড়াই আজও শেষ হয়নি। বর্ণবাদের শৃঙ্খল হয়তো ভেঙেছে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার নারীদের আজও প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, তীব্র দারিদ্র্য এবং কাঠামোগত বৈষম্যের মতো দানবদের বিরুদ্ধে।
১৯৫৬ সালের সেই পদযাত্রার সময় রামনি দিনাতের বয়স ছিল মাত্র ১৪। আজ ৮৪ বছর বয়সী এ নারী সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর মা, বর্ণবাদবিরোধী কর্মী আমা নাইডু কীভাবে সমাবেশের আগে নারীদের সংগঠিত করেছিলেন। সেদিন শুধু কৃষ্ণাঙ্গরাই নয়, নাইডুর মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমনকি অনেক শ্বেতাঙ্গ নারীও সেই মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন।

সংবাদ সংস্থা এপিকে দিনাত বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা যখন সংগঠিত হচ্ছিল, ভারতীয় নারীরা তখন চুপ করে বসে থাকেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ছিলাম সাধারণ কয়েকজন নারী, যারা বিশ্বাস করতাম আমরা পরিবর্তন আনতে পারি। আমরা কেবল বিশ্বাস করতাম, এটাই সঠিক কাজ।’
জোহানেসবার্গের কেন্দ্রে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নারীদের কারাগারটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার। আজ সেটি জাদুঘর। কনস্টিটিউশনাল কোর্টের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এ ভবনটি নিপীড়ন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের এক নীরব সাক্ষী।১৯৫৬ সালের পদযাত্রার অনেক নেত্রী ও অংশগ্রহণকারীকে এই কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। বর্ণবাদী শাসনের নিয়ম অনুযায়ী সেখানেও নারীদের বর্ণের ভিত্তিতে আলাদা রাখা হতো। এই জাদুঘরটি যে কমপ্লেক্সে অবস্থিত, সেই ‘কনস্টিটিউশন হিল’-এর ভিজিটরস সার্ভিস ম্যানেজার নোলুবাবালো মেমেসে বলেন, ‘এই কারাগারের নকশাই করা হয়েছিল নারীদের মনোবল ভেঙে দিতে, তাদের অপমানিত ও অমানবিকীকরণ করতে।’ তিনি জানান, বন্দি কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের অন্তর্বাস পরার বা ন্যূনতম স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের অনুমতিটুকুও ছিল না। আজ এই জাদুঘর শুধু নেলসন ম্যান্ডেলার দ্বিতীয় স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা বা আলবার্টিনা সিসুলুর মতো বিখ্যাত বর্ণবাদবিরোধী আইকনদেরই সম্মান জানায় না; বরং সেই হাজারো সাধারণ নারীকেও স্মরণ করে, যাদের নাম ইতিহাসের পাতায় খুব কমই লেখা হয়েছে। মেমেসে বলেন, ‘আমাদের আজকের স্বাধীনতা এই কারাগারে বন্দি থাকা সেসব নারীর কাঁধের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম প্যারা-অ্যাথলেট এবং ২০২৪ সালের উইম্বলডন হুইলচেয়ার ডাবলসের শিরোপাজয়ী ৪০ বছর বয়সী টেনিস তারকা কগোথাতসো মন্টজানে বলেন, ‘আজ আমি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান নারী হিসেবে চারটি প্রধান টেনিস টুর্নামেন্টেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এর মূল ভিত্তি ১৯৫৬ সালের নারীরাই তৈরি করে দিয়েছিলেন।’
দক্ষিণ আফ্রিকা যখন পুরোনো সেই বর্ণবাদী নারী কারাগারটি ভেঙে ফেলে, তখন সেখানকার পুরোনো ইটগুলো দিয়েই নতুন জাদুঘরটি তৈরি করা হয়। বিষয়টি মেমেসেকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের ইট ব্যবহার করেই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছি। আমরা যদি অতীত ভুলে যাই, তবে খুব সহজেই একই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করব।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com