শিক্ষাব্যবস্থার এক অপরিহার্য ও শক্তিশালী ভিত্তি হলো পরিবার, বিশেষ করে অভিভাবকসমাজ। একজন শিশু বা কিশোর তার জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কাটায় ঘর ও পরিবারের উষ্ণ সান্নিধ্যে।তাই সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গভীর সচেতনতা এবং দূরদর্শিতার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে শহরাঞ্চলের সচেতন অভিভাবকরা সন্তানদের পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশ নিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি মনোযোগী হয়েছেন। তবে গ্রাম বা মফস্বল এলাকার চিত্রটি এখনো অনেকটাই ভিন্ন। একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিদিন ক্লাসরুমে ও প্রাত্যহিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে আমি অভিভাবকদের ব্যাপক অসচেতনতা ও উদাসীনতা নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করি।শিক্ষকতার টেবিলে বসে যখন খাতা মূল্যায়ন করি কিংবা ক্লাস নিতে গিয়ে দেখি বহু শিক্ষার্থী ক্লাসে চরম অমনোযোগী, ক্লান্ত কিংবা অদ্ভুত এক মানসিক শূন্যতায় ভুগছে; তখন হৃদয়ে গভীর বেদনা সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে প্রায়ই দেখা যায়, সচেতনতার অভাবে অভিভাবকরা সন্তানদের সঠিক মানসিক দিকনির্দেশনা বা কাউন্সেলিং দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছেন। এর ফলে সংবেদনশীল বা ভিন্ন প্রতিভার অধিকারীরা অনেকেই সঠিক পথ হারিয়ে বিপথগামী হয়ে পড়ছে, যা আমাদের সমাজব্যবস্থার জন্য একটি নীরব অশনিসংকেত।