এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ইমরান মাহমুদুল, দিলশাদ নাহার কণা, বেলাল খানের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা।ইমরান এবার দেশটির ১৬টি রাজ্যে শো করবেন। এরই মধ্যে তালিকা এবং কবে কোথায় শো করবেন সেটাও প্রকাশ করেছেন। ইমরানের চেয়ে আরো দুটি বেশি শো করবেন দিলশাদ নাহার কণা, সংখ্যাটা ১৮। ফেসবুকে তিনিও প্রকাশ করেছেন শিডিউল। দেশ ছাড়ার আগে কণা জানিয়েছিলেন, এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো শো করতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্র থেকে কণা বলেন, ‘২০০৫ সালে প্রথমবার এখানে এসেছিলাম। তখনো যেমন সাড়া পেয়েছিলাম এবারও তেমন পাচ্ছি। মানুষের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় শো করেছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। তাঁর সঙ্গে ছিল ইমন চৌধুরীর ব্যান্ড ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’। এই মুহূর্তে ইউরোপ ট্যুরে আছেন দেশের সবচেয়ে বড় ‘রকস্টার’ মাহফুজ আনাম জেমস। রবিবার তিনি শো করেছেন সাইপ্রাসে, ১৬ আগস্ট রোমে শো করবেন। ২২ আগস্ট ভেনিস, ৫ সেপ্টেম্বর সুইডেনে তাঁর শো। এর পরই তিনি দেশে ফিরবেন। কিছুদিন বিরতি নিয়ে পরের মাসেই তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জেমসের মতো সিঁথি সাহাও এখন আছেন ইউরোপে। এ বছর পহেলা বৈশাখে তিনি অস্ট্রেলিয়াতে দুটি শো করেছিলেন। সেখান থেকে যান নিউজিল্যান্ডে। এখন আছেন ইতালিতে। রোম শহরে জাঁকজমক শো করেছেন সম্প্রতি। গত মাসেই ইউরোপ ট্যুর থেকে ফিরেছেন কিশোর দাস ও মৌসুমী আক্তার সালমা।
এখন কথা হলো, দেশের বাইরে শিল্পীদের এত চাহিদা হলেও দেশে কেন তাঁদের কনসার্ট নেই? তা ছাড়া বিদেশি শিল্পীরাও তো নিয়মিত বাংলাদেশে এসে কনসার্ট করছেন। দেশি শিল্পীরা কেন দেশে উপেক্ষিত? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রীতম দের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যাঁরা কনসার্টের আয়োজন করি তাঁরা আসলে এই মুহূর্তে দেশি শিল্পীদের নিয়ে কনসার্ট করতে পারছি না নানা কারণে। দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখবেন বছরে তিন-চারটা করে কনসার্টের আয়োজন করে। সেগুলোতে অংশ নেন জনপ্রিয় সব শিল্পীরা। ছাত্র-ছাত্রীরা সেগুলো ফ্রি-তে উপভোগ করেন। তা ছাড়া বিভিন্ন কম্পানি সাকসেস পার্টিসহ অন্যান্য পার্টিরও আয়োজন করেন। সেখানেও দেশসেরা শিল্পীরা গান করেন। এখানেও কিন্তু ফ্রিতে গান শোনেন সবাই। এখন যাঁদের গান ফ্রিতে উপভোগ করার অপশন অ্যাভেইলেবল, তাঁদের গান টিকিট কেটে শুনবেন কেন? আরো ব্যাপার আছে, দুই হাজারের বেশি দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মাঠ ভাড়া নিতে গেলে লাগে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। আমরা যদি টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকাও রাখি আর দুই হাজার টিকিট বিক্রি হয়, তাহলে মোট আয় হয় ২০ লাখ টাকা। এখন এই টাকা থেকে মাঠ ভাড়া কী দেব, শিল্পীকে কী দেব আর আমরাই বা কী লাভ পাব? তা ছাড়া দুই হাজার টিকিট যে বিক্রি হবে সেটারও তো গ্যারান্টি নেই।’
দেশে বিদেশি শিল্পীদের এনে কনসার্ট করানো সম্পর্কে প্রীতম বলেন, ‘আমাদের তো এটা ব্যবসা। আমরা যদি বিদেশি জনপ্রিয় একজন শিল্পী আনতে পারি তাহলে একই সঙ্গে টিকিটের মূল্য বাড়াতে পারি আবার স্পন্সরও পাই অনেক। ফলে ব্যবসাটা নিশ্চিত হয়।’
কিছুদিন আগেই শো করে গেলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম। যদিও ভারতীয় অনুপম রায়ের শো তিন তিন বার পিছিয়েছে। আবার সামনেই [২৮ আগস্ট] আসবেন পাকিস্তানি র্যাপার হাসান রহিম।