সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ক্রনিক রোগ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো বেশ কয়েকটি ক্রনিক রোগের মূলে রয়েছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। মেটাবলিক এই রোগের মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কেন হয় এবং প্রতিকারে করণীয় নিয়ে লিখেছেন ডা. মো. মাজহারুল হক তানিমঅস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মেটাবলিক বা বিপাকীয় ব্যাধির প্রকোপ। মেটাবলিক ডিজিজ হুট করে দেখা দেয় না।সময়ের সঙ্গে নানা কারণে দেহের মেটাবলিক সিস্টেম ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে এসব রোগ হয়ে থাকে। মেটাবলিক সিস্টেমে ক্ষতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো জটিল সব মেটাবলিক ডিজিজের মূল     কারণ এটি।

    ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কী

    অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে নিঃসৃত একটি প্রয়োজনীয় হরমোন ইনসুলিন।রক্তের শর্করা বা সুগারকে কোষের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে এটি। অনেকের দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি হওয়া সত্ত্বেও পেশি ও লিভারের কোষগুলো ঠিকমতো ইনসুলিন কাজে লাগাতে পারে না। ফলাফল, রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্লুকোজ থাকলেও সেটি কোষের ভেতর প্রবেশ করে না। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তেই থাকে।মাত্রাতিরিক্ত গ্লুকোজ কমাতে অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হয় বাড়তি ইনসুলিন। এই অবস্থাকে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।

     

    উপসর্গ

    প্রাথমিক অবস্থায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। সময়ের সঙ্গে রোগের প্রকোপ বাড়লে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে; এর মধ্যে আছে—

    ♦ ত্বকের পরিবর্তন (Acanthosis Nigricans) : ঘাড়, বগল বা শরীরের ভাঁজ পড়া অংশে কালো বা ভেলভেটের মতো ছোপ ছোপ দাগ হওয়া।

    ♦ ওজন বৃদ্ধি : বিশেষত পেট বা কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা।

    ♦ হরমোনজনিত জটিলতা : নারীদের ক্ষেত্রে মুখে অবাঞ্ছিত লোম, ব্রণ এবং অনিয়মিত ঋতুস্রাব।

    ♦ অবসাদ : মিষ্টি খাবারে অতিরিক্ত আগ্রহ এবং শরীর সব সময় ক্লান্ত অনুভূত হওয়া। পাশপাশি ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। এর সঙ্গে ডায়াবেটিসের উপসর্গের বেশ মিল রয়েছে।

    কেন হয়

    ♦ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন : শারীরিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন।

    ♦ খাদ্যাভ্যাস : অতিরিক্ত পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার, রিফাইন্ড সুগার ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ।

    ♦ অনিয়মিত ঘুম ও মানসিক চাপ : পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ।

    ♦ ধূমপান ও মদ্যপান : এগুলো শরীরের ইনসুলিন কার্যক্ষমতা নষ্ট করে।

    রোগ নির্ণয়

    ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসক কিছু রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন; যেমন—

    ♦ ফাস্টিং ইনসুলিন লেভেল

    ♦ হোমা-আইআর : ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপের পরীক্ষা

    ♦ ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (GTT)।

    জটিলতা

    সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থেকে দেখা দিতে পারে জটিল সব ব্যাধি। এর মধ্যে রয়েছে—

    ♦ টাইপ-২ ডায়াবেটিস : অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করতে করতে একসময় অগ্ন্যাশয়ের সক্ষমতা কমে যায় এবং দেখা দেয় টাইপ-২ ডায়াবেটিস।

    ♦ পিসিওএস (PCOS) ও বন্ধ্যত্ব : নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এবং প্রজনন জটিলতা বাড়ায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।

    ♦ অন্যান্য সমস্যা : ফ্যাটি লিভার, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

    প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

    ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রকোপ কমাতে এবং প্রতিরোধ করতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    ♦ খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ : সরল শর্করা (ভাত, চিনি, ময়দা) ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে শাক-সবজি, প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে হবে বেশি বেশি।

    ♦ নিয়মিত ব্যায়াম : সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করতে হবে।

    ♦ ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ : রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুমাতে হবে এবং ঝেড়ে ফেলতে হবে দেহের অতিরিক্ত ওজন।

    জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি হরমোন বা ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু ওষুধ দেহের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং লিভার থেকে গ্লুকোজ নিঃসরণ কমায়। এ ছাড়া জিএলপি-১ অ্যানালগস (GLP-1 Receptor Agonists) ব্যবহারে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমানো এবং ইনসুলিন কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা যাবে না।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো জটিলতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব। তাই এর উপসর্গ দেখা দিলে দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com