সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নারী সাহাবিদের চিকিৎসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিত্সাসেবা এক মহত্ ও সম্মানজনক পেশা। অসুস্থের সেবা, আহতের পরিচর্যা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত:৩২)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারী সাহাবিরাও চিকিত্সা ও মানবসেবায় অনন্য অবদান রেখে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা, অসুস্থদের পরিচর্যা, খাদ্য ও পানি সরবরাহ, এসব ক্ষেত্রেই তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এসব মহীয়সী নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

১. রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.)
তিনি এই মহীয়সী নারীদের অগ্রভাগে রয়েছেন। তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী চিকিত্সক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিকিত্সা দক্ষতা, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার অপূর্ব সমন্বয় ছিল তাঁর মধ্যে। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের চিকিত্সার জন্য তিনি একটি অস্থায়ী চিকিত্সা শিবির পরিচালনা করতেন।

খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রা.)-এর বাহুর শিরায় আঘাত লাগে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাকে রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও; তিনি আহতদের চিকিত্সা করতেন। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর খোঁজ নিতে এসে সন্ধ্যায় জিজ্ঞেস করতেন, সন্ধ্যা কেমন কাটল? এবং সকালে জিজ্ঞেস করতেন, আজ সকাল কেমন হলো? (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১১২৯)

রুফাইদা ছিলেন একজন নারী, যিনি আহতদের চিকিত্সা করতেন। তিনি নিজ উদ্যোগে মুসলিমদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং আহতদের চিকিত্সা-পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতেন। (আল ইসাবাহ ৮/১৩৬, উসদুল গাবাহ ৭/১১১, তারজামাহ: ৬৮২৫, ফাতহুল বারি ৭/৬১৪)

এ ঘটনা রুফাইদা (রা.)-এর চিকিত্সা দক্ষতার প্রতি নববী স্বীকৃতির উজ্জ্বল প্রমাণ।

২. উম্মে আতিয়্যা আল-আনসারিয়া (রা.)
উম্মে আতিয়্যা আল-আনসারিয়া ছিলেন চিকিত্সাসেবায় আরেক অনন্য নাম। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি সৈন্যদের পেছনে অবস্থান করতাম, তাদের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতাম, আহতদের চিকিত্সা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা করতাম। (মুসলিম, হাদিস : ১৮১২)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, চিকিত্সা ও সেবাব্যবস্থায় নারী সাহাবিদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

৩. উম্মে সুলাইম (রা.)
উম্মে সুলাইম (রা.)-এর জীবনেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি সরবরাহ করতেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দিতেন এবং জরুরি মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে সেবায় আত্মনিয়োগ করতেন।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মে সুলাইম ও আনসারদের কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে যেতেন; তারা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিত্সা করতেন। (মুসলিম, হাদিস:১৮১০)

৪. রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.)
হাদিসে এসেছে, রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.)-ও চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের ময়দানে) নবী (সা.)-এর সঙ্গে থেকে লোকেদের পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং নিহতদের মদিনায় পাঠাতাম। (বুখারি, হাদিস: ২৮৮২)

এ বর্ণনা যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সাহাবিদের সেবামূলক ভূমিকার এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।

৫. নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.)
নুসাইবা বিনতে কা‘ব (রা.) শুধু বীর যোদ্ধাই ছিলেন না; যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের পানি পৌঁছে দেওয়া, সেবাযত্ন করা এবং প্রয়োজনে চিকিত্সাসহায়তা দেওয়ার মহান দায়িত্বও পালন করেছেন। (আল ইসাবাহ ৮/৩৩৪) তাঁর জীবনে বীরত্ব ও মানবসেবার অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ফিকহ, হাদিস ও শরিয়তে তাঁর গভীর প্রজ্ঞার পাশাপাশি চিকিত্সাবিদ্যাতেও তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।

উরওয়া ইবন যুবাইর বলেন, চিকিত্সাবিদ্যা, ফিকহ ও কবিতায় আমি আয়েশা (রা.)-এর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি। (আল ইসাবাহ, ৮/২৩৩)

৭. হামনা বিনতে জাহশ (রা.)
হামনা বিনতে জাহশ (রা.) উহুদের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাতেন এবং আহতদের সেবা করতেন। (আত তবাকাতুল কুবরা লি ইবনে সাদ ৮/১৯১, তারজামাহ: ৪১৭৮) তাঁর এই আত্মনিবেদন যুদ্ধকালীন মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নারী সাহাবিদের জীবন আমাদের সামনে এক অনন্য আলোকবর্তিকা। তাঁরা শিখিয়েছেন, পর্দা, শালীনতা ও তাকওয়ার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেও চিকিত্সা ও মানবসেবায় অসাধারণ অবদান রাখা সম্ভব।
উল্লিখিত নারী সাহাবিদের জীবনী আজকের নারী চিকিত্সক ও নার্সদের জন্য অনুপ্রেরণার উত্স।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com