সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কর আপিলের খরচ কমছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

করদাতাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থবিলে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত আপিল দায়েরের খরচ বা আগাম জমার হার ব্যাপকভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

আয়করের ক্ষেত্রে কমিশনার আপিল থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত তিন ধাপে আপিল করতে কর কর্মকর্তাদের দাবি করা করের মোট ৩৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তা কমিয়ে মোট ১৪ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করেছেন। এ ছাড়া ভ্যাট ও কাস্টমস দাবির ক্ষেত্রে মোট ৪ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করেছেন তিনি, যা আগে ছিল ২০ শতাংশ।
সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে করদাতাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে এবং কর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়া আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আয়কর আপিলে বড় ছাড় প্রস্তাবিত অর্থবিল অনুযায়ী, আয়কর কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা হয়েছে। এটি দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব ও ন্যায়ভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে প্রথম পর্যায়ের আপিল (কমিশনার আপিল) দায়েরের ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ করের (উপকর কমিশনারের নির্ধারিত কর ও করদাতার স্বীকৃত করের পার্থক্য) মাত্র ১ শতাংশ জমা দিতে হবে। আয়করের ক্ষেত্রে এ হার আগে শূন্য ছিল। তবে ভ্যাট ও কাস্টমসের দাবির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পরিশোধ করে আপিল করতে হতো। এখন সব ক্ষেত্রে ১ শতাংশ দিয়ে প্রথম আপিল করা যাবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে কর আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে, যেখানে আগে বিরোধপূর্ণ করের ১০ শতাংশ জমা দিতে হতো। নতুন অর্থবিলে তা কমিয়ে মাত্র ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভ্যাট ও কাস্টমস আপিলেও স্বস্তি ভ্যাট বা মূসক সংক্রান্ত আপিল দায়েরের শর্তও সহজ করা হয়েছে। মূসক কমিশনারের (আপিল) কাছে আপিল দায়েরের সময় এখন থেকে দাবীকৃত করের (জরিমানা ব্যতীত) মাত্র ১ শতাংশ জমা দিতে হবে।

একইভাবে কাস্টমস বা শুল্ক সংক্রান্ত আপিলের ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। কাস্টমস কমিশনারের কাছে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে দাবীকৃত শুল্ক-কর ও জরিমানার মাত্র ১ শতাংশ জমা দিলেই চলবে। হাইকোর্ট বিভাগে কাস্টমস আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। ‘ডিসক্রিশনারি পাওয়ার’ বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি এই বিলে কর কর্মকর্তাদের ওপর অর্পিত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বিলোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আপিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে এবং করদাতাদের হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের ওপর জোর দিয়েছেন, যার অর্থ হলো কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং জবাবদিহিমূলক করা। আপিল প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে তিনি কর প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, কর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে জটিলতা ও খরচ কমলে ব্যবসায়ীদের ওপর মানসিক ও আর্থিক চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের উৎপাদন-কর্মসংস্থানকে আরও গতিশীল করে তোলে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের ‘স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা’ থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে করদাতারা হয়রানির শিকার হন। ন্যায়বিচার সহজতর হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, আপিল, ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে জমাকৃত করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার মূল উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com