সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিএসএফকে অবিলম্বে পুশইন বন্ধের আহ্বান বিজিবির

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

পুশইন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনের সীমান্ত সম্মেলন শেষ হলো। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে অনুষ্ঠেয় এবারের সম্মেলনে ১১টি সিদ্ধান্ত এসেছে।

গতকাল শুক্রবার বিজিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বিএসএফের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশইনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এটি সীমান্তবিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজিবির পক্ষ থেকে সম্মেলনে বলা হয়, ভারতে যাচাইয়ের পর ‘অবৈধ’ কেউ যদি বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশ গ্রহণ করবে। বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণের আহ্বান জানান বিজিবির মহাপরিচালক।

বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতীয়তা যাচাইকরণের বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বলে বিজিবির বিবৃতিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, উভয়পক্ষই সম্মত হয় যে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বিজিবি মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, সীমান্তে ‘পুশইন’ করা ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় আছেন। কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত। প্রবীণ ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন।

৮ জুন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়। এতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাহিনীর ডিজি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্য পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার। তবে এবার সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়নি।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের কারণে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখ করে সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উভয়পক্ষই সম্মত হয় যে, এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয়পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়, যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয়, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদকের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করে এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়। মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন বিজিবি মহাপরিচালক। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। তারা সমন্বিত টহল জোরদার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

বিএসএফ মহাপরিচালকের বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশসংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুপরিচিত। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না বাংলাদেশ। কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি আটক করেছে।

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান-সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে।

বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সব সশস্ত্র বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। তিনি উল্লেখ করেন– পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলনসংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন। প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খননকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সম্মতি দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান।

নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনও বাকি আছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোসংক্রান্ত বিষয়সমূহ সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বেড়া, গবাদি পশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামো নির্মাণ চালু থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিটলাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়েও উদ্বেগ জানান।

জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎসংক্রান্ত কার্যক্রম মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারিসংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে।

বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান।

১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরে বিএসএফ ওই ১২ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু। এ নিয়ে গতকাল বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, ভোরের দিকে ভারত থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এদিকে প্রাগপুর সীমান্তের ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে দৌলতপুর সীমান্তের ধর্মদহসহ আরও কয়েকটি এলাকা দিয়ে নতুন করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিজিবির ধারণা, রাতের অন্ধকারে বিএসএফ পুশইনের জন্য আরও জোর প্রচেষ্টা চালাতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে সীমান্তজুড়ে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর যৌথ নজরদারি এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়।

পুশইন নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ শুভেন্দু
কলকাতা প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশে ‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল কলকাতার উপকণ্ঠ নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। এ সময় ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। যদি এমন কিছু হয়ও, তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নয়, আরও পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজন হলে তারাই মন্তব্য করবে।’

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com