এই বিশ্বকাপের মৌসুমেও যেসব মেক্সিকান দেশে ফিরতে পারেননি, যেতে পারেননি আজতেকায়, নিউইয়র্কের সেই সব মেক্সিকানের একটাই গন্তব্য ছিল ফ্ল্যাশিং মিডোর টেনিস সেন্টার। মেট্রোতে মেক্সিকান জার্সি গায়ে নানা সাজে তাদেরই ভিড়। গায়ে উল্কি আঁকা, মাথায় মেক্সিকান টুপি, নেচেগেয়ে সবাই চলছে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে।
টেনিস কোর্টের এক পাশে বসানো হয় জায়ান্ট স্ক্রিন, আর তার তিন দিকে গ্যালারিতে দর্শক। মেক্সিকোর সবুজ জার্সিতে সেই গ্যালারি ছেয়ে গিয়েছিল। আজতেকায় ম্যাচের ক্ষণে ক্ষণে যেমন ঢেউ উঠছিল, গ্যালারিতে এখানেও তা-ই।
এদিন ফ্যান ফেস্ট থেকে বের হয়ে রেলস্টেশনের দিকে যেতেই অবশ্য আরো একটি বড় দলের সামনে পড়ে যেতে হয়। টেনিস সেন্টারের পাশেই বেসবলের সিটি ফিল্ড, যেখানে সেদিন ম্যাচ ছিল নিউইয়র্ক মেটসের। মনে হলো যত দর্শক ফ্যান ফেস্টে এসেছে, তত বা তার চেয়ে বেশি দর্শক মেটসের খেলা দেখে বের হচ্ছে সিটি ফিল্ড থেকে। সবার গায়ে মেটসের নীল-সাদা জার্সি। বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যেই এমন দৃশ্য ব্যতিক্রমই। কিন্তু আমেরিকায় আসলে এটিই স্বাভাবিক। কথা হয় মেটস ভক্ত পেইসের সঙ্গে। বিশ্বকাপের মধ্যেও বেসবল নিয়ে মেতে ওঠার ব্যাখ্যা দিলেন তিনি, ‘বিশ্বকাপের টিকিটের যে মূল্য, তাতে আমাদের মতো অনেকেরই সেখানে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব নয়। এখানে ৩০ ডলারে আমরা নিজের দলের ম্যাচ দেখছি। তবে অবশ্যই বিশ্বকাপ নিয়ে আমারও আগ্রহ আছে। ফ্যান ফেস্টেও ঢু দেব।’
আমেরিকানরা বেসবল, বাস্কেটবলের প্রাত্যহিক এই উন্মাদনায়ই অভ্যস্ত। ছেলে-বুড়ো সবাই নিজ দলের জার্সি পরে তৈরি হয়ে মাঠে যায়, দারুণ কিছু সময় পার করে। খেলা নিয়ে আগ্রহ বা মাতামাতি তাদের মজ্জাগত। বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনাও তাই তাদের কাছে হয়তো বেশি কিছু নয়। তবে নিউইয়র্ক বৈশ্বিক নগরী। ফ্যান ফেস্ট বা মেটলাইফ স্টেডিয়ামও তাই রং ছড়াবে তার সহজাত নিয়মেই।