অনেকে যদি মরক্কোর সম্ভাব্য জয়কে অঘটন বলে, আমি বলব সেটা অবশ্যই চমক হবে, তবে একেবারে অবিশ্বাস্য কিছু হবে না। কারণ মরক্কো এখন আর ছোট দল নয়। তাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বড় বড় লিগে খেলছে এবং দল হিসেবে তারা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি আমার কাছে তাদের দুই উইং। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনিয়া যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য ভয়ংকর।
মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত ট্রানজিশন। তারা খুব ধৈর্য ধরে খেলে এবং প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকে। তাই ব্রাজিল যদি ম্যাচের শুরুতেই গোল না পায়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচটা আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, প্রথম ২০ থেকে ২৫ মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। ব্রাজিল যদি ওই সময়ের মধ্যে গোল করে, তাহলে মরক্কোকে সামনে উঠে আসতে হবে। তখন খেলা ওপেন হবে এবং ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের গতি কাজে লাগবে। কিন্তু গোল না এলে চাপ বাড়তে থাকবে ব্রাজিলের ওপরই। কারণ মরক্কোর জন্য এক পয়েন্টও ভালো ফল, কিন্তু ব্রাজিলের জন্য প্রত্যাশা সব সময় জয়ের। আক্রমণভাগ নিয়ে কথা বলতে গেলে, এনদ্রিককে নিয়ে আমি আশাবাদী। বয়স কম হলেও সে এরই মধ্যে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছে। ইগোর থিয়াগোও ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে আমার ধারণা, শুরুতে মাতেয়াস কুনিয়া সুযোগ পেতে পারে। কারণ ব্রাজিলের ঐতিহ্য থাকলেও এখন বিশ্বমানের কোনো নাম্বার নাইন নেই, তাই আক্রমণভাগে কিছুটা ভিন্ন কৌশল দেখা যেতে পারে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো কার্লো আনচেলোত্তি। বিশ্বের সবচেয়ে সফল কোচদের একজন এখন ব্রাজিলের ডাগ আউটে। বড় টুর্নামেন্টে কিভাবে দলকে সামলাতে হয়, সেটা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য অবশ্যই বাড়তি সুবিধা। তবে ফুটবল সব সময়ই পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে গল্প লেখে। বিদেশি কোচের অধীনে ব্রাজিল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি—এ তথ্যটাও আলোচনায় আছে। আনচেলোত্তি সেই ইতিহাস বদলাতে পারবেন কি না—সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমি একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে চাই, ব্রাজিল ভালো শুরু করুক। তবে একই সঙ্গে আমি মনে করি, মরক্কো তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এর চেয়ে বেশি আর কি-ই বা চাওয়া যায়? এমন এক লড়াই, যেখানে ফেভারিট আছে, কিন্তু ফলাফল নিশ্চিত নয়। এটাই তো বিশ্বকাপের সৌন্দর্য।
লেখক : বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক