সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শুরুতে গোল না পেলে বিপদ আছে ব্রাজিলের

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের শুরুতে সবাই ফিট ও অনুপ্রাণিত থাকে

আর কেউই ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের আগে আমি মনে করি, অনেকেই যতটা সহজ ভাবছেন, বাস্তবে ম্যাচ ততটা সহজ হবে না। ব্রাজিল অবশ্যই ফেভারিট। দলটির স্কোয়াড, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে তারা এগিয়ে।
কিন্তু মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সবাই দেখেছি, গত বিশ্বকাপে তারা কতটা ভালো খেলেছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তারা প্রমাণ করেছে, সংগঠিত ফুটবল খেললে বড় দলগুলোকেও সমস্যায় ফেলা যায়।
 

অনেকে যদি মরক্কোর সম্ভাব্য জয়কে অঘটন বলে, আমি বলব সেটা অবশ্যই চমক হবে, তবে একেবারে অবিশ্বাস্য কিছু হবে না। কারণ মরক্কো এখন আর ছোট দল নয়। তাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বড় বড় লিগে খেলছে এবং দল হিসেবে তারা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি আমার কাছে তাদের দুই উইং। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনিয়া যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য ভয়ংকর।

যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের অভিজ্ঞতা আছে, আর রক্ষণে মার্কিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েলের জুটি যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে আমি মনে করি ফুলব্যাক পজিশনে ব্রাজিলের কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে ইনজুরির কারণে কিছু পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে। আধুনিক ফুটবলে ফুলব্যাকদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই জায়গাটা ব্রাজিলকে কিছুটা চিন্তায় রাখতেই পারে। 

মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত ট্রানজিশন। তারা খুব ধৈর্য ধরে খেলে এবং প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকে। তাই ব্রাজিল যদি ম্যাচের শুরুতেই গোল না পায়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচটা আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, প্রথম ২০ থেকে ২৫ মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। ব্রাজিল যদি ওই সময়ের মধ্যে গোল করে, তাহলে মরক্কোকে সামনে উঠে আসতে হবে। তখন খেলা ওপেন হবে এবং ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের গতি কাজে লাগবে। কিন্তু গোল না এলে চাপ বাড়তে থাকবে ব্রাজিলের ওপরই। কারণ মরক্কোর জন্য এক পয়েন্টও ভালো ফল, কিন্তু ব্রাজিলের জন্য প্রত্যাশা সব সময় জয়ের। আক্রমণভাগ নিয়ে কথা বলতে গেলে, এনদ্রিককে নিয়ে আমি আশাবাদী। বয়স কম হলেও সে এরই মধ্যে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছে। ইগোর থিয়াগোও ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে আমার ধারণা, শুরুতে মাতেয়াস কুনিয়া সুযোগ পেতে পারে। কারণ ব্রাজিলের ঐতিহ্য থাকলেও এখন বিশ্বমানের কোনো নাম্বার নাইন নেই, তাই আক্রমণভাগে কিছুটা ভিন্ন কৌশল দেখা যেতে পারে।

আরেকটি বড় বিষয় হলো কার্লো আনচেলোত্তি। বিশ্বের সবচেয়ে সফল কোচদের একজন এখন ব্রাজিলের ডাগ আউটে। বড় টুর্নামেন্টে কিভাবে দলকে সামলাতে হয়, সেটা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য অবশ্যই বাড়তি সুবিধা। তবে ফুটবল সব সময়ই পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে গল্প লেখে। বিদেশি কোচের অধীনে ব্রাজিল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি—এ তথ্যটাও আলোচনায় আছে। আনচেলোত্তি সেই ইতিহাস বদলাতে পারবেন কি না—সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমি একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে চাই, ব্রাজিল ভালো শুরু করুক। তবে একই সঙ্গে আমি মনে করি, মরক্কো তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এর চেয়ে বেশি আর কি-ই বা চাওয়া যায়? এমন এক লড়াই, যেখানে ফেভারিট আছে, কিন্তু ফলাফল নিশ্চিত নয়। এটাই তো বিশ্বকাপের সৌন্দর্য।

লেখক : বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com