সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি প্রায় ভরা। একে তো ওয়ানডে ম্যাচ, তার ওপর সকালে খেলা হওয়ায় সর্বশেষ কয়েক সিরিজে খুব বেশি দর্শক হয়নি গ্যালারিতে।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি প্রায় ভরা। একে তো ওয়ানডে ম্যাচ, তার ওপর সকালে খেলা হওয়ায় সর্বশেষ কয়েক সিরিজে খুব বেশি দর্শক হয়নি গ্যালারিতে।
সকালের সূর্য দেখেই নাকি দিনটা কেমন যাবে, তা বোঝা যায়! টস হেরে ফিল্ডিং করতে নামা স্বাগতিকরা খেলার শুরুতে তেমন আভাসই দেয়। গ্যালারিতে তখন খুব বেশি দর্শকও প্রবেশ করেনি। যারা এসেছিল, তারাও পছন্দমতো বসার জায়গা খুঁজে পাওয়ার আগেই ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে। শূন্য রানে সফরকারীদের তিন উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার স্কোরবোর্ডে কোনো রান না করেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক জস ইংলিশ ও অ্যালেক্স ক্যারি। তবে এই জুটিকেও বড় হতে দেননি মুস্তাফিজ। ক্যারিকে ১৩ রানে থামিয়ে ২৫ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। এরপর ইংলিশ ৩৪ এবং ক্যামেরুন গ্রিন ২৫ রান করে আউট হলে ৮১ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে আবার অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে অজিরা। তবে এই উইকেটে যে থিতু হলে রান করা যায়, সেটি বুঝিয়ে দেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। দেখেশুনে খেলে ১০৩ রানের জুটিতে ফিফটি করেন দুজনই। এই জুটিতে যখন ২০০ ছাড়ানোর অপেক্ষায় সফরকারীরা, তখন আক্রমণে এসে জোড়া আঘাত তাসকিনের। ৪১তম ওভারে শুরুতে বার্টলেটকে (৫২) এবং পরে অ্যাডাম জাম্পাকে (০) আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। পরের ওভার শেষে যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন আট উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৮৭ রান। ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন লাবুশেন। কিন্তু মাঠ যতক্ষণে খেলার উপযোগী হয়, তখন আবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ ছিল না অজিদের। পরে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে।
নাগালের মধ্যে থাকা রান তাড়ায়ও শুরুতে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোলার বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন ওপেনার তানজিদ হাসান। একই ওভারে তানজিদের মতোই ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেনও। তবে এবার ধরতে পারেননি সফরকারী দলের পেসার। শেষ বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে সফলও হয় অজিরা। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বাঁচেন নাজমুল। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানের পরিবর্তে একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারকে নিয়ে হাল ধরেন তিনি। কিন্তু বেশ নড়বড়ে ছিলেন সৌম্য। দুইবার ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পরে অবশ্য থিতুও হন। গড়েন ৮৬ রানের জুটি; কিন্তু রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ৪২ রানে থামেন সৌম্য। একটু পর নাজমুলও ফেরেন ৪১ রানে। এতে ১০০ রানের আগে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। এই চাপ আরো বাড়িয়ে দ্রুত আউট হন লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫)। তবে বিপদে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। ষষ্ঠ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় (৪০) এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের (২২) অবিচ্ছেদ্য ৫১ রানের জুটিতে ৪২ বল আগেই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি সিরিজও জেতে বাংলাদেশ দল। এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতলেন মিরাজরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এত দিন সিরিজ জয়ের অপূর্ণতাও ঘুচল তাতে। এখন বাকি রইল শুধু ইংল্যান্ড!
অস্ট্রেলিয়া : ৪২ ওভারে ১৮৭/৮
বাংলাদেশ : ৩৫ ওভারে ১৯৫/৫
ফল : বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : মুস্তাফিজুর রহমান