সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

গর্জে ওঠার আগে মেটলাইফের নীরবতা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
নিউইয়র্ক সিটি থেকে মাত্র আট মাইলের দূরত্বে নিউজার্সি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সামনে থেকেই ম্যানহাটানের বিখ্যাত ‘স্কাইলাইন’ পরিষ্কার দেখা যায়।

ফিফা বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়ামের নামও বদলে দিয়েছে, ‘নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়াম’। আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত শহরটাই যে ফাইনালের ভেন্যু, সেটি বোঝাতেই। 

গর্জে ওঠার আগে মেটলাইফের নীরবতা১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ায়। স্প্যানিশ ভাষাভাষীর লোকজন সে অঞ্চলে বেশি বলে ফুটবলটাও তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয়।

তবু নিউইয়র্কে ফাইনাল নিয়ে আসা শহরটির বৈশ্বিক মর্যাদার কারণেই হয়তো বা। সেই ফাইনালের আগে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পা পড়বে এখানে, হালের হট ফেভারিট ফ্রান্সও নামবে। তবে বিশ্বকাপের যে ছবিটা দেখে অভ্যস্ত সবাই, সমর্থকদের দল জার্সি পরে প্রিয় দলের ম্যাচের কয়েক দিন আগে থেকেই সেই শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, এখানে তেমনটি নেই। দুই দিন আগেও মেটলাইফের সামনে গিয়ে দেখা গেল সুনসান নীরবতা।
নিউইয়র্কের ভিড়, ব্যস্ততা পেছনে ফেলে নিউজার্সির বিশাল বিরান ভূমির মতো জায়গাটায় এই স্টেডিয়াম, লাগোয়া আরো বেশ কিছু ক্রীড়া স্থাপনা। পুরো অঞ্চলটার এই নীরবতাই যেন বলছিল ম্যাচের দিন ফুটবলের উচ্ছ্বাস কিভাবে আচমকাই আছড়ে পড়বে এখানে। বিশাল স্টেডিয়ামের ভেতরের কর্মযজ্ঞ অবশ্য বাইরে থেকেও টের পাওয়া যাচ্ছিল। ম্যাচের সময়টায় সবকিছু যেন ঠিকঠাক থাকে, তার মহড়া চলছে। গান, ড্রামস আর ঘোষকের চড়া আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল বাইরে থেকেই।
 

৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা এই স্টেডিয়ামের। মূলত ‘আমেরিকান ফুটবল’-এর দল নিউইয়র্ক জায়ান্টস ও নিউইয়র্ক জেটসের হোম স্টেডিয়াম এটি। আমেরিকান ফুটবলের মাঠগুলো সরু হয়, আর খেলা হয় আর্টিফিশিয়াল টার্ফে। ফুটবলের জন্য চাই চওড়া মাঠ আর ঘাস। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আর প্রায় সব স্টেডিয়ামের মতোই মাঠের ব্যাপক সংস্কার হয়েছে এখানে। ২০১৬ সালে শতবর্ষী কোপার ফাইনাল হয়েছে এ মাঠে। সে সময় আসরের প্রতিটি মাঠ নিয়েই অভিযোগ ছিল লাতিন খেলোয়াড়দের। মাঠগুলো ফাঁপা মনে হচ্ছিল তাদের কাছে। তখন আসলে এনএফএলের (ন্যাশনাল ফুটবল লিগ) পিচের ওপরই ফুটবল মাঠ বসানো হয়েছিল। এবার সেই মাঠ নিয়ে ফিফা শুরু থেকেই সতর্ক। প্রতিটি মাঠের এনএফএলে ব্যবহৃত পিচ পুরোপুরি তুলে ফেলে নতুন প্রাকৃতিক ঘাসের স্তর বসানো হয়েছে এখানে। গ্যালারির সামনের দিক থেকে কমিয়ে চওড়া অংশ বাড়ানো হয়েছে মাঠের। বিশ্বকাপ শেষে অবশ্য এই মাঠগুলোকে আবারও এনএফএলের উপযোগী করে ফেলা হবে।

তবে এই মাঠে ফুটবল নতুন নয়। শতবর্ষী কোপার পর গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপেরও খেলা হয়েছে এখানে। সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজির। তার আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম একটি এল ক্লাসিকোতেও দেখা হয়েছে তাদের এখানে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্টেডিয়ামের প্রধান নির্বাহী রন ভ্যানডেভিন বলছিলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনা, আটটি ম্যাচ। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলেছে মেক্সিকো, এর পরই রিয়াল মাদ্রিদ।’ ফুটবলে স্টেডিয়ামটির সম্পৃক্তি বোঝাতেই বড় দলগুলোর নামে জোর দিয়েছেন ভ্যানডেভিন।

জুনের কড়া রোদে নিউজার্সির এই অঞ্চলটায় খেলা সহজ হবে না। গতকাল স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়েও ঝকঝকে আকাশের নিচে সূর্যের উত্তাপ ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছিল। ব্রাজিলের ম্যাচ শুরু হবে অবশ্য সন্ধ্যা ৬টায়। তখন ধীরে ধীরে গা জুড়াতে থাকে আমেরিকান সামারের এই সময়টা। তবে ১৬ জুন কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মাঠে নামতে হবে দুপুরের কড়া রোদের মধ্যেই, সেই ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। অবশ্য আকাশে মেঘ করে এলে ভিন্ন বিষয়, এই সময়টায় সেই সম্ভাবনাও থাকে। তবে ফুটবল শেষ পর্যন্ত সবকিছু ছাপিয়ে যায়, এটিই দেখা গেছে বিশ্বকাপে। কাতারের গরমেও সফল একটি আসর হয়ে গেছে। ব্রাজিল, ফ্রান্সকে স্বাগত জানিয়ে মেটলাইফও ক্রমেই প্রস্তুত হয়ে যাবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের জন্য।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com