১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ায়। স্প্যানিশ ভাষাভাষীর লোকজন সে অঞ্চলে বেশি বলে ফুটবলটাও তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয়।
৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা এই স্টেডিয়ামের। মূলত ‘আমেরিকান ফুটবল’-এর দল নিউইয়র্ক জায়ান্টস ও নিউইয়র্ক জেটসের হোম স্টেডিয়াম এটি। আমেরিকান ফুটবলের মাঠগুলো সরু হয়, আর খেলা হয় আর্টিফিশিয়াল টার্ফে। ফুটবলের জন্য চাই চওড়া মাঠ আর ঘাস। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আর প্রায় সব স্টেডিয়ামের মতোই মাঠের ব্যাপক সংস্কার হয়েছে এখানে। ২০১৬ সালে শতবর্ষী কোপার ফাইনাল হয়েছে এ মাঠে। সে সময় আসরের প্রতিটি মাঠ নিয়েই অভিযোগ ছিল লাতিন খেলোয়াড়দের। মাঠগুলো ফাঁপা মনে হচ্ছিল তাদের কাছে। তখন আসলে এনএফএলের (ন্যাশনাল ফুটবল লিগ) পিচের ওপরই ফুটবল মাঠ বসানো হয়েছিল। এবার সেই মাঠ নিয়ে ফিফা শুরু থেকেই সতর্ক। প্রতিটি মাঠের এনএফএলে ব্যবহৃত পিচ পুরোপুরি তুলে ফেলে নতুন প্রাকৃতিক ঘাসের স্তর বসানো হয়েছে এখানে। গ্যালারির সামনের দিক থেকে কমিয়ে চওড়া অংশ বাড়ানো হয়েছে মাঠের। বিশ্বকাপ শেষে অবশ্য এই মাঠগুলোকে আবারও এনএফএলের উপযোগী করে ফেলা হবে।
তবে এই মাঠে ফুটবল নতুন নয়। শতবর্ষী কোপার পর গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপেরও খেলা হয়েছে এখানে। সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজির। তার আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম একটি এল ক্লাসিকোতেও দেখা হয়েছে তাদের এখানে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্টেডিয়ামের প্রধান নির্বাহী রন ভ্যানডেভিন বলছিলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনা, আটটি ম্যাচ। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলেছে মেক্সিকো, এর পরই রিয়াল মাদ্রিদ।’ ফুটবলে স্টেডিয়ামটির সম্পৃক্তি বোঝাতেই বড় দলগুলোর নামে জোর দিয়েছেন ভ্যানডেভিন।
জুনের কড়া রোদে নিউজার্সির এই অঞ্চলটায় খেলা সহজ হবে না। গতকাল স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়েও ঝকঝকে আকাশের নিচে সূর্যের উত্তাপ ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছিল। ব্রাজিলের ম্যাচ শুরু হবে অবশ্য সন্ধ্যা ৬টায়। তখন ধীরে ধীরে গা জুড়াতে থাকে আমেরিকান সামারের এই সময়টা। তবে ১৬ জুন কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মাঠে নামতে হবে দুপুরের কড়া রোদের মধ্যেই, সেই ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। অবশ্য আকাশে মেঘ করে এলে ভিন্ন বিষয়, এই সময়টায় সেই সম্ভাবনাও থাকে। তবে ফুটবল শেষ পর্যন্ত সবকিছু ছাপিয়ে যায়, এটিই দেখা গেছে বিশ্বকাপে। কাতারের গরমেও সফল একটি আসর হয়ে গেছে। ব্রাজিল, ফ্রান্সকে স্বাগত জানিয়ে মেটলাইফও ক্রমেই প্রস্তুত হয়ে যাবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের জন্য।