লামিনে ইয়ামালকে অনেকেই বর্তমান প্রজন্মের সেরা ফুটবলার মনে করেন। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও বার্সা তারকাকে সময়ের সেরা প্রতিভা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে লিওনেল মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা করতে রাজি নন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রভাবশালী গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্পেনের কোচ বলেছেন, দুজনেই ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট।
টিনএজ বয়সেই বার্সেলোনার মতো বড় দলের আক্রমণভাগ বয়ে চলেছেন ইয়ামাল। স্পেন দলেও সমান কার্যকর তিনি। এরই মধ্যে স্পেনকে ইউরো জিতিয়েছেন। তাঁকে মেসির মতো সহজাত প্রতিভা বলে মনে হয় দে লা ফুয়েন্তের। তাঁর মতে, ইয়ামাল যে নৈপুণ্য দেখান, তা শুধু ফুটবলের সত্যিকার জিনিয়াসদের মধ্যেই দেখা যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেললেও কোচের বিশ্বাস, চাপে এলোমেলো হয়ে যাবে না ইয়ামাল, বরং বড় মঞ্চে আরও বেশি উজ্জীবিত থাকবে, ‘ইয়ামালের জন্মই হয়েছে এটার জন্য। সে সাহসী এক চরিত্র। সম্ভবত আমাকে বা আপনাকে চাপ হতবিহ্বল করে ফেলতে পারে। তবে এই ছেলেরা স্পেশাল। কতবার আমরা একজন খেলোয়াড় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি; ‘সে কতটা ভালো। তার কী হয়েছে? সে কেন এটা করতে পারল না? কারণ, ফুটবলে ভালো হতে হবে এবং আরও হাজারটা বিষয়ে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘লামিনের বয়স মাত্র ১৬ ছিল (গত ইউরোর সময়)। এখন তাঁর বয়স ১৮। তাঁকে গণমাধ্যমের নির্মম চাপ সহ্য করতে হয় এবং সে খুব কমই ভুল করে।’ তরুণ ফুটবলাররা ভুল করলেও কম সমালোচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি, ‘এক মিনিট, একটা ভুল, ব্যস তখনই ওই ফুটবলারকে নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে যায়। ওরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন পরিশ্রম করে। ফিজিও, পুষ্টিবিদ, মনোবিদের সঙ্গে সময় কাটায়। সেটার মূল্য দেওয়া উচিত।’
দেড় দশক আগে ছোট ইয়ামালকে কোলে নিয়ে মেসিকে ফটোশুট করতে দেখা গিয়েছিল। তবে ফুটবল মাঠে এখনও তারা মুখোমুখি হননি। যদিও বার্সায় খেলার কারণেই মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনাটা একটু বেশিই হয়। ফুয়েন্তের মতে, ইয়ামাল প্রতিভাবান। কিন্তু মেসির সঙ্গে তুলনা করে তাঁর কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ইয়ামাল নিজেও এই ধরনের তুলনা উড়িয়ে দিয়েছেন অনেকবার। ফুয়েন্তেও মেসিকেই এগিয়ে রাখলেন, ‘মেসি শব্দটার ভার অনেক বেশি। মেসিই ফুটবল, সে ছিল, আছে ও থাকবে।’
তবে মেসির মতো ইয়ামালও ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট বলে মনে করেন ফুয়েন্তে, ‘ফুটবলাররা সবাই বড় কিছু করার সামর্থ্য রাখে। তারা খুবই বুদ্ধিমান। তারা জিনিয়াস। কিন্তু তাদের কেউ কেউ ঈশ্বরের আশীর্বাদও পেয়ে থাকেন। এই যেমন মেসি, লামিনে…।’ চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে আছেন ইয়ামাল। তবে কোচের আশা, বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁকে পাওয়া যাবে। ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে স্পেন।