ক্যামেরুন, সেনেগাল নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি। এবার মরক্কোর ভাগ্যেও কি তেমনটিই ঘটবে? অ্যাটলাস লায়ন্সরা কত দূর যাবে, সেটি এখনই বলার উপায় নেই। তবে শিরোপা-প্রত্যাশী দলগুলোর চলতি পথে যে মরক্কো-বাধা সবচেয়ে কঠিন হবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
মূলত আফ্রিকান দলগুলো বিশ্বকাপে বরাবরই পরিচিতি পেয়েছে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মাত্র এক ধাপ ওপরে, চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি তিন ধাপ পেছনে তাদের। এখান থেকেই পরিষ্কার, উত্তর আফ্রিকার দলটি এখন কোন পর্যায়ের ফুটবল খেলছে। সে জন্য এবারের বৈশ্বিক মঞ্চে ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের প্রথম ম্যাচটির দিকে অনেকেরই নজর, নেইমারদের শুরুটাও তাই হতে পারে অপ্রত্যাশিত ধাক্কায়। যদিও দলের সাবেক তারকা কারিমুও বলেছেন, ‘কাতারে মরক্কোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের অর্জন তাদেরকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দলে পরিণত করেছে।’
কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনাল পর্যন্ত পথটা মসৃণ ছিল না। ফেভারিট ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র এবং বেলজিয়ামকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। পরে শেষ ষোলোয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে, কোয়ার্টার ফাইনালে আরেক শক্তিশালী পর্তুগালকে হারালেও সেমিতে ফ্রান্সের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তাদের এমন সাফল্যের পেছনে একজনের অবদান সবচেয়ে বেশি, যিনি মূলত পুরো বিশ্বকেই করে দিয়েছেন হতবিহ্বল। গোলপোস্টে দুর্ভেদ্য পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইয়াসিন বোনু, আর আলোড়ন তুলেছেন পিএসজির অন্যতম তারকা আশরাফ হাকিমি। এ দুজন ছাড়াও কোচ মোহামেদ ওয়াহবি একঝাঁক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ে পরিপূর্ণ দলকে নিয়ে এবার বড় কিছুর আশা করতেই পারেন। কারণ অধিনায়ক হাকিমির সতীর্থ হিসেবে আছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের তারকা মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজ. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নুসাইর মাজরাউই, জিরোনার আজেদিন উনাহি এবং কাতারে খেলা সোফিয়ান আমরাবাত ও নায়েফ আগের্দ। আসন্ন আসরে ‘সি’ গ্রুপে মরক্কোর প্রাথমিক লড়াইটা খুব কঠিন হয়তো হবে না, কারণ ব্রাজিল ছাড়া তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ যে হাইতি ও স্কটল্যান্ড।