সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই টিকে আছে যে মাছ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

সাধারণত প্রজননের জন্য পুরুষ ও নারী উভয়েরই দরকার হয়। দুজনের ডিএনএ থেকে জন্ম নেয় নতুন প্রাণ। প্রকৃতিতে এটিই প্রচলিত। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। পুরুষ সঙ্গীর ডিএনএ ছাড়াই প্রজনন ঘটিয়ে টিকে রয়েছে এক বিশেষ প্রজাতির মাছ। এক লাখ বছরের বেশি সময় ধরে এ প্রক্রিয়ায় প্রজনন ঘটাচ্ছে তারা। বিশেষ এই প্রজাতির মাছের নাম ‘অ্যামাজন মলি’। মেক্সিকো ও দক্ষিণ টেক্সাসের নদীগুলোতে এ মাছ দেখা যায়।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার, অ্যামাজন মলি প্রজাতির সব মাছই নারী। প্রজননের সময় ডিম্বাশয় নিষিক্ত করতে কাছাকাছি প্রজাতির পুরুষ মাছের সহযোগিতা নেয় তারা। কিন্তু প্রজননের আগেই এরা পুরুষ মাছের কাছ থেকে পাওয়া ডিএনএ ফেলে দেয়। ফলে নতুন যে পোনা আসে, সেটি হয় নারী। এটি ‘গাইনোজেনেসিস’ নামে পরিচিত একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। আরও সহজ করে বললে, এই প্রক্রিয়ায় স্ত্রী মাছটি ডিমের বিকাশ ঘটানোর জন্য শুধু পুরুষের শুক্রাণু ব্যবহার করে। কিন্তু দ্রুতই তার বংশগত উপাদান বাতিল করে দেয়। এভাবে অনেকটা নিজের ক্লোন তৈরি করে চলেছে অ্যামাজন মলি।

এই মাছের প্রজাতির নামের প্রথম অংশটি নেওয়া হয়েছে গ্রিক পৌরাণিক কাহিনি থেকে। সে কাহিনি অনুসারে, শুধু নারী সদস্য নিয়ে এক যোদ্ধা জাতি ছিল একসময়। তাদের ডাকা হতো ‘অ্যামাজন’। বিজ্ঞানীরা প্রায় এক শতক ধরে অ্যামাজন মলি প্রজাতির মাছ নিয়ে ভেবে চলেছেন। কীভাবে এ মাছ টিকে গেল, সে বিষয়ে কিছু ধারণা পেলেও এখনও অনেক উত্তর পাননি তারা।

জার্মানির মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী এডওয়ার্ড রাইসমায়ারের তথ্য অনুসারে, যৌন প্রজনন বেশ অদ্ভুত ও জটিল প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা। এখানে প্রতিটি একক প্রাণীকে সঙ্গী খুঁজে বের করতে হয় এবং তাকে পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। দিন শেষে দুই পক্ষ অর্ধেক করে নিজেদের ডিএনএ দেয়।

সাধারণত যৌন প্রজননের ক্ষেত্রে বাবা ও মায়ের কাছ থেকে যে ডিএনএ আসে, সেটি পুনঃসংযোজন নামের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় দুই পাশের কিছু কিছু ডিএনএ দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ তৈরি হয়। এজন্যই দেখা যায়, একই বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে মিলের পাশাপাশি বেশ কিছু অমিলও থাকে। কোনো কারণে এভাবে যদি এমন কোনো সংস্করণ তৈরি হয়ে যায়, যেটি ভুল বা দুর্বল– সেটি বিবর্তনের প্রাকৃতিক নিয়মেই হারিয়ে যায়। তাহলে যেখানে সঙ্গীর ডিএনএ নেই বা ক্লোনের মতো প্রক্রিয়া, সেক্ষেত্রে কী হয়?

বিজ্ঞানীরা বলেন, এ ভাবে প্রজনন হলে সে প্রজাতি বেশি দিন টেকে না। আর এখানেই সবাইকে বিস্মিত করে দিচ্ছে অ্যামাজন মলি। মাছটি বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে বহাল তবিয়তে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যামাজন মলি একাই যে শুধু এ রকম, তা নয়। এ ধরনের আরও প্রাণী আছে জগতে। একেবারে পোকা থেকে শুরু পিণ্ডের আকৃতির প্রাণের মধ্যেও এই প্রক্রিয়ায় প্রজনন দেখা যায়। এমনকি সাপ ও হাঙরও বন্দি থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ সঙ্গী ছাড়া একা একাই প্রজনন ঘটাতে পারে। তবে ব্যতিক্রম হলো, সেগুলো সাময়িক। পরিস্থিতি ঠিক হলে তারা আবার আগের স্বাভাবিক প্রজনন নিয়মে ফেরত যায়। তবে অ্যামাজন মলি যেভাবে আরেক প্রজাতির পুরুষকে দিয়ে ডিম্বাশয় নিষিক্ত করে ডিএনএ ছেঁটে ফেলে, সেটি এ প্রক্রিয়া থেকেও বেশ আলাদা। সূত্র: বিবিসি

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com