ক্র্যাশ ডায়েট নয়
ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন অনেকেই, এক বা দুই বেলা অনাহারে থাকতে (fasting) শুরু করেন কেউ কেউ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হুট করে এমন কঠিন ডায়েট বা না খেয়ে থাকা (Crash Diet) উল্টো দেহের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়াকে (metabolism) মন্থর করে দেয়।
খাবার পরিকল্পনা
সুষম খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম অনুযায়ী, তিন বেলার আহারে বেশি পরিমাণে খেতে হবে উদ্ভিজ্জ ও চর্বিহীন প্রোটিন। প্রতি বেলার খাবারের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ হতে হবে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত শর্করা (লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস ইত্যাদি)।
ঝেড়ে ফেলুন অতিরিক্ত সোডিয়াম
ঈদের গুরুপাক খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে (Water Weight)। এর ফলে দেহের ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। দেহে জমা অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক। তবে যাঁদের কিডনি বা অন্যান্য রোগ আছে, তাঁরা অবশ্যই পানির পরিমাণ চিকিৎসকের কাছে জেনে নেবেন। মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে পানি। এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম বেরিয়ে যাবে এবং ওয়াটার ওয়েট কমবে। চিনিযুক্ত জুস বা কোমল পানীয় পুরোপুরি বর্জন করে লেবুর পানি, ডাবের পানি কিংবা আদা-জোয়ানের ভেষজ চা পান করতে পারেন।
শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম
ওজন কমাতে শুধু ডায়েটই যথেষ্ট নয়, শারীরিক কসরতও জরুরি। জিমে গিয়ে তীব্র ‘পানিশমেন্ট ওয়ার্কআউট’ না করে দৈনিক ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা বা মাঝারি শরীরচর্চা করুন। জিমে যেতে না চাইলে সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনিক সাত-আট ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমানোর হরমোনগুলো সচল রাখে। ঘুমের অভাব হলে ‘ঘেরলিন’ (ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোন) বৃদ্ধি পায় এবং ‘লেপটিন’ (তৃপ্তি কমানোর হরমোন) কমে যায়। এতে মিষ্টি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে; দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়ে পড়ে কঠিন।
ওজন না কমলে করণীয়
সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো পরিবর্তন না দেখেন, তাহলে অবহেলা না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিন। অনেক সময় থাইরয়েড কিংবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো হরমোনাল জটিলতার কারণে শরীর মেদ ধরে রাখে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সঠিক চিকিৎসা জরুরি।
লেখক : কনসালট্যান্ট
হরমোন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ
অরোরা হাসপাতাল