সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

এবার মিশন ওজন নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে
ঈদ উদযাপনে ঘরে ঘরে রান্না হয় হরেক রকমের মজাদার সব খাবার। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় সেমাই-মিষ্টান্নের পাশাপাশি চর্বিযুক্ত মাংসের পদ ও বিরিয়ানি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়-স্বজনের দাওয়াতের ধাক্কায় অনেকেরই ওজন কিছুটা বেড়ে গেছে, শরীর লাগছে ভারী। অতিরিক্ত খাওয়ার (Binge Eating) ফলে শরীরে যে বাড়তি মেদ ও মেটাবলিজমের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা ঝরিয়ে স্বাভাবিক ওজনে ফেরা এখন জরুরি। 

 

ক্র্যাশ ডায়েট নয়

ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন অনেকেই, এক বা দুই বেলা অনাহারে থাকতে (fasting) শুরু করেন কেউ কেউ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হুট করে এমন কঠিন ডায়েট বা না খেয়ে থাকা (Crash Diet) উল্টো দেহের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়াকে (metabolism) মন্থর করে দেয়।

ফলে উল্টো ওজন কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আরো বেশি খাওয়ার প্রবণতা ( Bingeing Cycle) তৈরি হতে পারে, যার প্রভাবে ওজন না কমে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তাই না খেয়ে থাকার পরিবর্তে খাদ্যাভ্যাস বদলানো জরুরি। খাবারে রিফাইন্ড বা পরিশোধিত শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিন।
চিনি পরিহার করুন। সাদা চাল বা ময়দার পরিবর্তে লাল চালের ভাত, ওটস বা লাল আটার রুটির মতো ‘হাই-ফাইবার কার্বোহাইড্রেট’ বেছে নিন। উচ্চ আঁশযুক্ত এই খাবারগুলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

 

খাবার পরিকল্পনা

সুষম খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম অনুযায়ী, তিন বেলার আহারে বেশি পরিমাণে খেতে হবে উদ্ভিজ্জ ও চর্বিহীন প্রোটিন। প্রতি বেলার খাবারের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ হতে হবে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত শর্করা (লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস ইত্যাদি)।

খাবারের বাকি ২৫ শতাংশ হতে হবে লিন প্রোটিন (যেমন—চর্বিহীন মাংস, মাছ বা ডিম) এবং বাকি ২৫ শতাংশ হবে শাক-সবজি বা সালাদ। এর পাশাপাশি মেনে চলতে হবে ‘৮০/২০ নিয়ম’। এর অর্থ, ভরপেট না খেয়ে পেটের ২০ শতাংশ খালি রেখে খাওয়া। এটি আপনার পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ কমাবে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতাও দূর করবে। 

 

ঝেড়ে ফেলুন অতিরিক্ত সোডিয়াম

ঈদের গুরুপাক খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে (Water Weight)। এর ফলে দেহের ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। দেহে জমা অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক। তবে যাঁদের কিডনি বা অন্যান্য রোগ আছে, তাঁরা অবশ্যই পানির পরিমাণ চিকিৎসকের কাছে জেনে নেবেন। মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে পানি। এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম বেরিয়ে যাবে এবং ওয়াটার ওয়েট কমবে। চিনিযুক্ত জুস বা কোমল পানীয় পুরোপুরি বর্জন করে লেবুর পানি, ডাবের পানি কিংবা আদা-জোয়ানের ভেষজ চা পান করতে পারেন।

 

শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম

ওজন কমাতে শুধু ডায়েটই যথেষ্ট নয়, শারীরিক কসরতও জরুরি। জিমে গিয়ে তীব্র ‘পানিশমেন্ট ওয়ার্কআউট’ না করে দৈনিক ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা বা মাঝারি শরীরচর্চা করুন। জিমে যেতে না চাইলে সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনিক সাত-আট ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমানোর হরমোনগুলো সচল রাখে। ঘুমের অভাব হলে ‘ঘেরলিন’ (ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোন) বৃদ্ধি পায় এবং ‘লেপটিন’ (তৃপ্তি কমানোর হরমোন) কমে যায়। এতে মিষ্টি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে; দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়ে পড়ে কঠিন।

 

ওজন না কমলে করণীয়

সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো পরিবর্তন না দেখেন, তাহলে অবহেলা না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিন। অনেক সময় থাইরয়েড কিংবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো হরমোনাল জটিলতার কারণে শরীর মেদ ধরে রাখে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সঠিক চিকিৎসা জরুরি।

 

লেখক : কনসালট্যান্ট

হরমোন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ

অরোরা হাসপাতাল

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com