ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুসলমানরা বিভিন্ন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেনধ। আমাদের দেশে বেশি জনপ্রিয় হলো গরু কোরবানি দেওয়া। গরুর মাংস পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। কোরবানির গরুর মাংস হলে তো কথাই নেই। যাঁর খেতে মানা, তিনিও চেখে দেখতে পিছপা হন না।
গরুর মাংস পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাবার। তার পরও অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতার কারণে গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন চিকিৎসকরা। যাঁরা হার্টের অসুখে ভুগছেন বা যাঁদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা হূদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য বুঝেশুনে গরুর মাংস খেতে হবে। হূদরোগীদের জন্য গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো পরিমিতিবোধ এবং চর্বিবিহীন মাংস খাওয়া।
সঠিক নিয়ম মেনে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করলে পরিমিত পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়া যাবে। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের রোগীরা সঠিক নিয়ম মেনে রান্না করলে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে নিরাপদে গরুর মাংসের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। তাঁদের জন্য রান্নায় অতিরিক্ত চর্বি এবং লবণের ব্যবহার এড়াতে হবে। আসুন, এখন জেনে নিই নিরাপদে কিভাবে কোরবানির গরুর মাংস মানা সত্ত্বেও খেতে পারবেন।

সঠিক মাংস নির্বাচন
Ad
গরুর মাংস রান্না করার আগে চর্বিবিহীন মাংস খুঁজে নিন। গরুর পাঁজর, রান বা সলোন অংশের মাংস চর্বিমুক্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাংসের গায়ে যে অতিরিক্ত চর্বি থাকে, তা সম্পূর্ণরূপে কেটে মাংস ঘণ্টাখানেক ফুটন্ত গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে মাংসের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যাবে।
অতিরিক্ত তেল ও লবণ পরিহার
রান্নায় স্বাদ বাড়াতে তেল, ঘি, বাটার ও লবণ ব্যবহার করতে হয়। রোগীদের গরুর মাংস রান্নায় এসব উপাদান কম ব্যবহার করতে হবে। গরুর ভুনা মাংস, বেক বা গ্রিলের পদের সঙ্গে সবজি বা সালাদ মিশিয়ে নিতে পারেন। গরুর মাংসে ভেষজ মসলা ব্যবহার করুন। যেমন—রসুন, পেঁয়াজ, লেবুর রস ইত্যাদি। এগুলো গরুর মাংসের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
Ad

ডায়েটারি ফাইবারযুক্ত শাক-সবজি ব্যবহার
Ad
শুধু গরুর মাংস না রেঁধে সঙ্গে শাক-সবজি যোগ করে রান্না করুন। গরুর মাংস রান্নায় পালংশাক, বাঁধাকপি, লাউ, কাঁচা পেঁপে, গাজর, বিটরুট ইত্যাদি যোগ করতে পারেন। এতে মাংসের স্যাচুরেটেড ফ্যাট সরাসরি শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলার আগে ডায়েটারি ফাইবারের কারণে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হয়। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে পারে। এতে হূিপণ্ড সুস্থ থাকবে। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁরাও গরুর মাংস খেয়ে সুস্থ থাকতে পারবেন।
পরিমাণমতো খাওয়া
গরুর মাংস যতই কোরবানির মাংস হোক কিংবা খুব পছন্দের খাবার হোক, পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে ভুল করা যাবে না। পরিমিত পরিমাণে, সঠিক নিয়মে যদি গ্রহণ করা হয়, ক্ষতির পরিবর্তে উপকার পাওয়াটা সহজ হবে। এক বেলার খাবারে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৮৫ গ্রাম অর্থাত্ দু-তিনটি ছোট টুকরা গরুর মাংস রাখতে পারেন আপনার খাবারের থালায়।
সময় বুঝে খাওয়া
রাতের বেলা বা ডিনারের সময় গরুর মাংস এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সকালে নাশতার টেবিলে কিংবা দুপুরের খাবারে গরুর মাংস রাখতে পারেন। অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে রাখতে হবে। কারণ রাতে আমাদের হজমের গতি ধীর থাকে। সকালে বা দুপুরে গরুর মাংস খেলে বিভিন্ন ধরনের এনজাইম তা হজম করতে সাহায্য করবে। গরুর মাংস খাওয়ার পর চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস, চিনিযুক্ত শরবত না খেয়ে বোরহানি কিংবা টক দই রাখতে পারেন। এতে হজমশক্তি বৃদ্ধি হবে।
সতর্কতা
যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে বা হার্ট ব্লকেস রয়েছে, তাঁরা গরুর মাংস খাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। অর্গান মিট; যেমন—মগজ, মাথার মাংস, কলিজা, হাড়ের মজ্জা বা নিহারি তাঁদের কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খারাপ কোলেস্টেরল থাকে। এ ছাড়া প্রসেস মিট, সসেজ, কোনো প্যাকেট বা ক্যানের শুকনা গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অতিরিক্ত লবণ ও প্রিজারভেটিভস থাকে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
সাবধানতা অবলম্বন করে তার সঙ্গে যদি মাংসের পরিমাণটা সঠিক রাখেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করে গরুর মাংস খেতে পারেন, তাহলে অপকার ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন গরুর মাংসের স্বাদ।








