১৯১৯ সালে শুরু হয়েছিল তাঁর সাহিত্যজীবন। আর ১৯৪২ সালে দুরারোগ্য স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে থেমে যায় তাঁর কলম।
১৯১৯ সালে শুরু হয়েছিল তাঁর সাহিত্যজীবন। আর ১৯৪২ সালে দুরারোগ্য স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে থেমে যায় তাঁর কলম।
নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘পরাধীন ও শোষিত জাতির অন্ধকার সময়ে নজরুলের আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।
নজরুলের সাহিত্যকর্ম শুধু বাংলা সাহিত্যেই নয়, বিশ্বসাহিত্যেও বিরল। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির কথা। তিনি ছিলেন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। তাই মানুষ তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে ডাকে।
শুধু সাহিত্য নয়, সাংবাদিকতাতেও নজরুল ছিলেন সাহসী ও আপসহীন। ‘ধূমকেতু’, ‘নবযুগ’ ও ‘গণবাণী’র মতো পত্রিকায় তিনি ব্রিটিশবিরোধী সম্পাদকীয় লিখেছেন। এ জন্য তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছে। কিন্তু কারাগারও তাঁর কণ্ঠ থামাতে পারেনি। জেলে বসেই তিনি লিখেছিলেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’, যা আজও প্রতিবাদের এক অনন্য দলিল।
১৯৪২ সালে অসুস্থ হওয়ার পর ধীরে ধীরে নির্বাক হয়ে পড়েন নজরুল। যেন হঠাৎ করেই থেমে যায় এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। কিন্তু তিনি স্তব্ধ হলেও তাঁর রচনা যেন আরো তীব্র হয়ে ওঠে। আজও তাঁর গান গাওয়া হয়, কবিতা উচ্চারিত হয়, আর সাম্যের বাণী মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনে নজরুল যা সৃষ্টি করে গেছেন, তা বাংলা সাহিত্যকে যুগ যুগ ধরে সমৃদ্ধ করবে। তাঁর কীর্তি তাই শুধু একটি সময়ের নয়, অনন্ত যুগের সাক্ষী।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় যে কবির জন্ম হয়েছিল জ্যৈষ্ঠের ঝড় হয়ে, সেই ঝড় থেমে যায় ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্রে, ঢাকার পিজি হাসপাতালে। অঙ্কের হিসাবে তাঁর জীবনকাল ছিল ৭৭ বছরের, কিন্তু সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবন মাত্র বছরের। অল্প সময়েই কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে দিয়ে গেছেন অমূল্য সম্পদ। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় তাঁর অসামান্য অবদান বাংলা সাহিত্যকে করেছে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। তাই যুগ পেরিয়েও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, সমানভাবে উচ্চারিত।
জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তীতে আজ সারা দেশে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হবে তাঁকে। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত আয়োজন করা হয়েছে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত পরিবেশনার। রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত কবির সমাধি ছেয়ে যাবে বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসার ফুলে ফুলে।
কর্মসূচি : নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে শ্রদ্ধাভরে কবিকে স্মরণ করতে রাজধানী থেকে শুরু করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশনা ও স্মরণানুষ্ঠান। এবারের জন্মবার্ষিকী ঘিরে সরকারিভাবেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। যেখানে কবির স্মৃতিবিজড়িত জায়গায় আয়োজিত হয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনাসভা ও মেলা। গত শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে রাজধানীতে আলোচনাসভা, কবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতায়, যেখানে কবির স্ত্রী প্রমিলা নজরুলের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেখানেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান পালন করবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী।