পুরো ঘটনাটি ঘটে নিভৃতে।
ছত্রাকটি পিঁপড়াকে দিয়ে ঠিক সেই কাজটিই করায়, যা তার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আক্রান্ত পিঁপড়া বনের অন্ধকার অংশ ছেড়ে আলোর দিকে আসার চেষ্টা করে এবং একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় গাছের পাতায় গিয়ে উঠে পড়ে। এরপর সে সেই পাতার উল্টো পিঠে অর্থাৎ শিরার ওপর তার শক্ত চোয়াল দিয়ে কামড় বসায়। একে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ডেথ গ্রিপ’ বা মরণকামড়। এই কামড় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পিঁপড়াটি মারা যায়। কিন্তু পিঁপড়া মারা গেলেও ছত্রাক বেঁচে থাকে। সে মৃতদেহের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং পিঁপড়ার মাথার ঠিক মাঝখান দিয়ে সরু একটি দণ্ডের মতো ডাল বের করে আনে। এই দণ্ডটি যখন পূর্ণতা পায়, তখন এটি ফেটে গিয়ে আবার হাজার হাজার নতুন রেণু বাতাসে ছেড়ে দেয়। যেহেতু পিঁপড়াটি উঁচু জায়গায় মারা গিয়েছিল, তাই বাতাস সেই রেণুগুলোকে অনেক দূরে ছড়িয়ে দিতে পারে। এভাবেই বনের অন্য কোনো সুস্থ পিঁপড়াকে আক্রমণ করার জন্য নতুন এক জাল বিছিয়ে দেয় এই মগজ দখলকারী ছত্রাক।
প্রকৃতিতে এই ছত্রাকের উপস্থিতি কিছুটা ভয়ংকর মনে হলেও এটি কিন্তু বাস্তুতন্ত্রের জন্য বেশ জরুরি। কোনো বিশেষ প্রজাতির পোকা-মাকড়ের সংখ্যা যেন বনের মধ্যে খুব বেশি বেড়ে না যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে এই ছত্রাক প্রাকৃতিক পাহারাদারের মতো কাজ করে। পোকা-মাকড়ের জন্য এটি কালজয়ী শত্রু হলেও জম্বি ছত্রাক কিন্তু মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। উল্টো তিব্বত বা চীনের পাহাড়ি এলাকায় এই ছত্রাকের কিছু প্রজাতি মানুষ কয়েক হাজার বছর ধরে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রকৃতির এই বিচিত্র এবং কিছুটা রহস্যময় ভারসাম্য আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, আমাদের চারপাশের ক্ষুদ্র একেকটি প্রাণের জগতেও কত বিস্ময়কর আর রোমাঞ্চকর সব কাণ্ড ঘটে চলেছে!
তথ্যসূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, আর্থ ডটকম