সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কালজয়ী সৃষ্টি, “কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, সে কথা তুমি যদি জানতে.

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে
কালজয়ী সৃষ্টি, “কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, সে কথা তুমি যদি জানতে…. “
গানটি রেকর্ডিং করতে গিয়ে মা*রা যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল, কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর!
“উসিলা” সিনেমার জন্য, নজরুল ইসলাম বাবুর রচনা করেছিলেন এক অনন্য কাব্য। আর সুরকার সংগীতপরিচালক আলী হোসেন, তাতে দিয়েছিলেন এক হৃদয়ছোঁয়া মেলোডিয়াস সুর!
এবার কন্ঠ দিয়ে গানে প্রাণ দেয়ার পালা।
১৯৮৬ সালের কথা। পুরো গান একবারেই রেকর্ডিং হতো তখন, রাতের বেলা। কোথাও একটু ভুল হলে বা সন্তোষজনক না হলে, প্রথম থেকে আবার গাইতে হতো পুরো গান।
গান রেকর্ডিং হচ্ছিল, সুবীর নন্দীর কন্ঠে। মিউজিশিয়ান, রেকর্ডিং ইন্জিনিয়ার, সংগীত পরিচালক সবাই কাজ করছে একসাথে। টেক নেয়া হলো, একবার। না, হলো না! দ্বিতীয়বার, তাও না!
তৃতীয়, চতুর্থ….. এভাবে ৩৮ বার!
কোনোভাবেই পারফেক্টলি হচ্ছিলো না। গানে আবেগটা প্রোপারলি আসছিলো না।
এদিকে ৩৩ বছর বয়সী সুবীর নন্দীর অবস্থা তখন যায় যায়!
তখন, সাউন্ড ইন্জিনিয়ার উত্তেজিত হয়ে গেলেন। আলী হোসেন সাহেবকে বললেন, “ছেলেটাকে মেরে ফেলবেন না কি?”
সংগীত পরিচালক তখন শান্তভাবে বললেন, “আর একবার। এটাই লাস্ট।”
ক্লান্ত সুবীর নন্দী ৩৯তম টেকে, হৃদয়ের সমস্ত আবেগ কন্ঠে ঢেলে দিয়ে তখন গাইলেন,
“এই হৃদয় চিরে যদি দেখানো যেত, আমি যে তোমার, তুমি মানতে… সে কথা তুমি যদি জানতে…. “
সৃষ্টি হলো এক কালজয়ী মহাকাব্যের! ওই ৩৯তম টেকটিই হয়ে গেল এক অমর সৃষ্টির ইতিহাস!
সুবীর নন্দী চলে গেছেন ৭ বছর আগে, কিন্তু ৩৯ বারের সেই পরিশ্রমের ফসল হয়ে তিনি যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।
★ সুবীর নন্দী : (১৯৫৩ – ২০১৯), বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, যাকে বলা হয় “আধুনিক বাংলা গানের রাজকুমার”!
দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন এবং চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে, রেকর্ড ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন!
★ সুবীর নন্দী’র জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর তারিখে, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে, একটি সংগীত পরিবারে।
তাঁর সংগীত যাত্রা শুরু হয়েছিল নজরুলগীতি দিয়ে, তবে পরবর্তীতে তিনি আধুনিক গানের জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে:
“বন্ধু, তোর বারাত নিয়া আমি যাবো… “
“কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো… “
“আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়”
“বন্ধু হতে চেয়ে তোমার শত্রু হয়েছি”
“কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়”
“আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি”
“হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে.. “
‘দিন যায় কথা থাকে’
‘পাহাড়ের কান্না দেখে’,
‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’
‘একটা ছিল সোনার কন্যা’
‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে… ‘
সুবীর নন্দী,
‘মহানায়ক’ (১৯৮৪),
‘শুভদা’ (১৯৮৬),
‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ (১৯৯৯),
‘মেঘের পরের মেঘ’ (২০০৪) এবং
‘মহুয়া সুন্দরী’ (২০১৫)
চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
এছাড়াও ২০১৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।
২০১৯ সালের ৭ মে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চি*কিৎসাধীন অবস্থায় ৬৬ বছর বয়সে, এই ক্ষণজন্মা সংগীতশিল্পী মৃ*ত্যু*ব*রণ করেন।
★ পিছনের গল্প –
সুবীর নন্দীর ডাক নাম বাচ্চু। সুবীর নন্দী হবিগঞ্জে এক কায়স্থ সম্ভ্রান্ত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সুধাংশু নন্দী ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সংগীত প্রেমী। তার মা পুতুল রানীও গান গাইতেন কিন্তু রেডিও বা পেশাদারিত্বে আসেন নি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিতে শুরু করেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। তবে সংগীতে তার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই।
বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশবকাল চা বাগানেই কেটেছে। পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাগানেই ছিলেন। ১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণি থেকেই তিনি গান করতেন। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন।
সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে, ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’।
বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত “সূর্যগ্রহণ” চলচ্চিত্রে। ১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমান পরিচালিত “অশিক্ষিত” চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের ঠোঁটে তার গাওয়া ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
তিনি গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্যাংকে চাকরি করেছেন। ১৯৭৪ সালের দিকে, জনতা ব্যাংকে চাকরি করার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। চল্লিশ বছর ব্যাংকিং সেবা দিয়ে ২০১৩ সালে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে জনতা ব্যাংক থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
★ তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে:
সূর্যগ্রহণ (১৯৭৬)
অশিক্ষিত (১৯৭৮)
দিন যায় কথা থাকে (১৯৭৯)
মহানায়ক (১৯৮৪)
চন্দ্রনাথ (১৯৮৪)
শুভরাত্রি (১৯৮৫)
শুভদা (১৯৮৬)
পরিণীতা (১৯৮৬)
রাজলক্ষী শ্রীকান্ত (১৯৮৭)
রাঙা ভাবী (১৯৮৯)
পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১)
স্নেহ (১৯৯৪)
বিক্ষোভ (১৯৯৪)
মায়ের অধিকার (১৯৯৬)
আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭)
শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯)
চন্দ্রকথা (২০০৩)
মেঘের পরে মেঘ (২০০৪)
শ্যামল ছায়া (২০০৪)
হাজার বছর ধরে (২০০৫)
শত্রু শত্রু খেলা (২০০৭)
চন্দ্রগ্রহণ (২০১৮)
আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা (২০০৮)
অবুঝ বউ (২০১০)
দুই পুরুষ (২০১১)
মাটির পিঞ্জিরা (২০১৩)
ইত্যাদি।
★ সুবীর নন্দী ১৯৮১ সালে, পূরবী নন্দী’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র সন্তানের (মেয়ে) নাম ফাল্গুনী নন্দী।
সুবীর নন্দীর অসুস্থতা ও মৃ*ত্যু*র সময়, তা্র স্ত্রী এবং কন্যা সার্বক্ষণিকভাবে তার পাশে ছিলেন।
বাবার মৃ*ত্যুবার্ষিকীতে মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী বলেন,
“বাবাকে যখন “দাহ” করার জন্য গাড়ী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন জ্যামে গাড়ীটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। সে সময় এক রিক্সাচালক ও একজন মহিলা বাবার গাড়ী ধরে সে কি কান্না!”
“আবার আরেক মুসলিম মহিলা, বাবাকে দাহ করার পুরোটা সময় ওখানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিলেন।”
“বাবাকে যে মানুষ কি পরিমাণ ভালোবাসতো, বুঝাই গিয়েছিল!”
​কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণ দিবসে (৭ মে) জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com