সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মাটির নিচে এক জাদুর শহর

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে
মাটির ওপরের সবুজ ঘাস আর শান্ত নিস্তব্ধতা দেখে বোঝার উপায় নেই আমাদের পায়ের ঠিক কয়েক ফুট নিচেই চলছে এক মহাবিস্ময়কর কর্মযজ্ঞ। সেখানে বাস করে প্রকৃতির এক সুদক্ষ ইঞ্জিনিয়ার—প্রেইরি ডগ। দেখতে অনেকটা কাঠবিড়ালির মতো ছোট এই প্রাণীরা মাটির নিচে গড়ে তোলে এমন এক সুশৃঙ্খল ও আধুনিক শহর, যা দেখলে বড় বড় স্থপতিও অবাক হয়ে যাবেন। এদের এই জাদুকরী ঘরগুলো এক দিনে তৈরি হয় না, বছরের পর বছর ধরে কয়েক প্রজন্মের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে ওঠে একেকটি বিশাল নগরী।

একটি প্রেইরি ডগের ঘর তৈরির কাজ শুরু হয় খুব পরিকল্পিতভাবে। তারা তাদের শক্তিশালী নখরযুক্ত পা এবং দাঁত ব্যবহার করে মাটির গভীরে খুঁড়তে শুরু করে। একটি আদর্শ সুড়ঙ্গ মাটির নিচে ৫ থেকে ১০ ফুট গভীর হতে পারে এবং লম্বায় হতে পারে প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত। গর্ত খোঁড়ার সময় তারা যে মাটি তুলে আনে, তা দিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে ছোট ছোট পাহাড়ের মতো ঢিবি তৈরি করে।
এই ঢিবিগুলো তাদের জন্য পাহারা দেওয়ার টাওয়ার হিসেবে কাজ করে। এগুলো থেকে তারা শত্রুর ওপর নজর রাখে। একটি ছোট গর্তকে একটি পরিপূর্ণ ঘর বা কলোনিতে রূপ দিতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আর পুরো একটি শহর তৈরি হতে লাগে কয়েক বছর।
 

ঘর তৈরিতে প্রেইরি ডগরা প্রকৃতির সেরা সব উপাদান ব্যবহার করে। সুড়ঙ্গ খোঁড়ার সময় তারা মাটির সঙ্গে নিজের লালা মিশিয়ে এক ধরনের শক্ত আস্তর তৈরি করে, যা শুকিয়ে গেলে সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকতে পারে না এবং সুড়ঙ্গ ধসে যাওয়ার ভয় থাকে না। ঘরের ভেতরের অংশটুকু আরামদায়ক করার জন্য তারা শুকনো ঘাস, লতাপাতা, পশম এবং নরম তুলাজাতীয় জিনিস কুড়িয়ে এনে বিছানা পাতে। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য তৈরি করা ‘নার্সারি’ রুমটি তারা সবচেয়ে নরম উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে রাখে।

এই নার্সারি রুমে শীতের রাতেও বাচ্চারা ওম পায়। 

প্রেইরি ডগদের এই শহরের সবচেয়ে আধুনিক দিক হলো এর ঘরবিন্যাস। আমাদের বাড়ির মতোই এদের সুড়ঙ্গের ভেতর থাকে আলাদা আলাদা কক্ষ। খাওয়ার জন্য ডাইনিংরুম, শীতের জন্য খাবার জমিয়ে রাখার স্টোররুম এবং ঘুমানোর আলাদা ঘর। এমনকি তারা খুব স্বাস্থ্যসচেতন; তাই মলত্যাগের জন্য সুড়ঙ্গের এক কোণে আলাদা গর্ত খুঁড়ে রাখে, যা তারা নিয়মিত পরিষ্কার করে। গর্তের দুই দিকে মুখ থাকায় বাতাস আসা-যাওয়ার চমৎকার ব্যবস্থা থাকে, ফলে মাটির নিচেও কখনো গুমট লাগে না।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com