* করোনারি আর্টারির রোগ
* হার্ট অ্যাটাক
* হার্ট ফেইলিউর
* কার্ডিওমায়োপ্যাথি
* বাতজ্বর
* হার্ট ব্লক
* হৃৎপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটি।
এ ছাড়া হৃদয়ের আরো অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ফলে অনেকের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে জটিল হয়ে ওঠে হৃদরোগ। অবশেষে যখন তাঁরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তত দিনে পুরোপুরি সেরে ওঠার সম্ভাবনা আর থাকে না।
ঝুঁকিতে যাঁরা
* উচ্চ রক্তচাপের রোগী, বিশেষত যাঁরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উদাসীন।
* ডায়াবেটিস আছে যাঁদের।
* ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন বা মদ্যপান করেন যাঁরা।
* দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপে রয়েছেন যাঁরা।
* কর্মহীনতা ও নিয়মিত ব্যয়াম না করা।
* অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যেমন—জাংক ফুড, তেল-চর্বিযুক্ত খাদ্য, রেড মিট, ফল, সবজি না খাওয়া ইত্যাদি অভ্যাস রয়েছে যাঁদের।
* বংশে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে।
* রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল ইত্যাদি।
জটিল হৃদরোগের লক্ষণ
* হঠাৎ বুক ব্যথা, যা ধীরে ধীরে গলার দিকে বা বাঁ হাতের দিকে যেতে থাকে
* শ্বাসকষ্ট
* বুক ধড়ফড় করা
* অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
* মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া
* পায়ে পানি আসা
* হৃৎপিণ্ডে অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া
* হৃত্স্পন্দনের হার কমে বা বেড়ে যাওয়া
* রক্তচাপ অতিরিক্ত বেড়ে বা কমে যাওয়া।
প্রাথমিক চিকিৎসা
উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ হৃদচিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। হৃদরোগের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেও রোগীর মারা যাওয়ার আশঙ্কা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। কোনো অবস্থায়ই রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসার চেষ্টা করা যাবে না। অনেকে ঠাণ্ডা পানি, শরবত ও অন্যান্য ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন, এতে কার্যকর চিকিৎসা ব্যাহত হয়। হৃদরোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শে জরুরি অবস্থায় ব্যবহার্য ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র সেটি গ্রহণ করতে হবে।
আধুনিক চিকিৎসা দেশেই
অনেকেই হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন করেন। এতে নষ্ট হয় মূল্যবান সময়। আধুনিক পদ্ধতিতে হৃদরোগের মানসম্মত চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। যেমন—
* করোনারি এনজিওগ্রাম
* ইটিটি
* কালার ডপলার ইকোকার্ডিওগ্রাফি
* হলটার মনিটরিং
* পেসমেকার লাগানো
* করোনারি স্টেনটিং
* বিভিন্ন কার্ডিওভাস্কুলার সার্জারি
* পাঁজরের হাড় না কেটে মাত্র ২ ইঞ্চি ফুটো দিয়ে হার্টের অপারেশন (MICS)।
তাই সময় নষ্ট না করে দেশেই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
প্রতিরোধ
হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের যে জিনিসগুলো মেনে চলতে হবে—
* খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন : শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে। অতিরিক্ত শর্করা ও তৈলাক্ত খাদ্য পরিহার করা জরুরি।
* শরীরচর্চা : নিয়মিত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে।
* মানসিক প্রশান্তি : অযথা দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা বাদ দিতে হবে। অশান্তি সৃষ্টি করে এমন জীবনযাপন বাদ দেওয়া জরুরি।
* ক্রনিক রোগ নিয়ন্ত্রণ : উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
লেখক : সিনিয়র ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট
ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ঢাকা
বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি, ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা