সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কাশি কমছে না? কারণ জেনে নিন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় আমরা কাশি দিয়ে থাকি। হঠাৎ ও সজোরে ফুসফুসের ভেতরের বাতাস সশব্দে বাইরে বের হয়ে আসে কাশির মাধ্যমে। শ্বাসনালি ও ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা, ধুলাবালি, জীবাণু ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে কাশি আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই কাশি একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক রিফ্লেক্স। এই রিফ্লেক্সের রিসেপ্টর থাকে শ্বাসনালিতে। তবে কাশি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক হলে তা বিভিন্ন রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কাশির প্রকারভেদ
স্বল্পমেয়াদি কাশি সাধারণত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, জীবাণু সংক্রমণ-পরবর্তী অবস্থা বা নিউমোনিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এই ধরনের কাশি সাধারণত তিন থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক কাশি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আট সপ্তাহের বেশি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বলা হয়। দীর্ঘদিন কাশি থাকলে তা শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ঘুমের ব্যাঘাত, ক্লান্তি, বুক ব্যথা, মাথা ঘোরা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, হার্নিয়া–এমনকি পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ
অ্যাজমা দীর্ঘস্থায়ী কাশির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এটি সাধারণত বংশগত এবং ধুলাবালি, দূষিত বাতাস, অ্যালার্জেন বা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বেড়ে যায়। এতে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ও শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হয়। অনেক ক্ষেত্রে কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমায় শুধু কাশি থাকে, অন্য উপসর্গ থাকে না, বিশেষ করে রাতে কাশি বেশি হয়।
গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে। এ অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসে, ফলে গলা জ্বালা, মুখে টক স্বাদ এবং দীর্ঘদিন কাশি দেখা দেয়।
ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি ধূমপায়ীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এতে দীর্ঘদিন কফযুক্ত কাশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যায়।
কিছু ওষুধ যেমন এসিই ইনহিবিটার বা কিছু বিটা ব্লকার ব্যবহারের কারণে শুকনো কাশি হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে রোগীর ওষুধের ইতিহাস জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট ফেইলিউরের ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে। এতে শরীরে পানি জমা, দুর্বলতা এবং শোয়ার সময় কাশি ও শ্বাসকষ্ট বাড়ে।
ফুসফুসের সংক্রমণ, বিশেষ করে যক্ষ্মা, আমাদের দেশে দীর্ঘস্থায়ী কাশির একটি বড় কারণ। দুই সপ্তাহের বেশি কাশি হলে যক্ষ্মা পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া বিকেলের দিকে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা ও কফের সঙ্গে রক্ত আসা এর লক্ষণ হতে পারে।
ফুসফুসের ফাইব্রোসিস ও ফুসফুসের ক্যান্সারও দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধূমপায়ীদের নতুন করে কাশি শুরু হওয়া বা কাশির ধরন পরিবর্তন হওয়া, গলার স্বর বদলে যাওয়া, ক্লান্তি ও ওজন কমে যাওয়া হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
l কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে
l কফের সঙ্গে রক্ত এলে
l যে কাশি ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে
l কাশির সঙ্গে বুক ব্যথা, জ্বর, ক্ষুধামন্দা বা ওজন কমে গেলে
l দীর্ঘদিন কাশি থেকে গেলে বা কষ্ট বাড়তে থাকলে
l বুকের এক্স-রেতে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা করেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে। যেমন রক্তের সিবিসি পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ, বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, স্পাইরোমেট্রি এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্রঙ্কোস্কপি।

চিকিৎসা ও করণীয়
সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে,
ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে,
ধুলাবালি ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে,
বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত,
ঠান্ডা মৌসুমে হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, ভালো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের কাশি কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এটি শরীরের ভেতরে কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
[অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা ও কনসালট্যান্ট, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড]

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com