স্কুলে তানজিমের অনেক বন্ধু। সবিশেষ বন্ধু দুজন। হাফসা ও নাইমা। নাইমা চশমিস।
এখন সন্ধ্যা। মা-ছেলে ঘরে। তামজিদ মায়ের ফোনে ‘মাশা অ্যান্ড দ্য বিয়ার’ কার্টুন দেখছে। তানিয়া ছেলের বই-খাতা গোছাচ্ছে।
‘তামজিদ।’
‘বলো।’
‘হাফসা নাইমার ছবি এঁকেছ, আমার একটা ছবি তো তুমি আঁকো নাই, বাবা।’
‘তোমার এ জন্য মন খারাপ হয়েছে?’
‘মন খারাপ হবে না, বলো?’
‘অল্প মন খারাপ হয়েছে, নাকি অনেক বেশি মন খারাপ হয়েছে?’
‘অল্পও, অনেক বেশিও।’
‘মন খারাপ কোরো না। কার্টুন শেষ হয়ে যাবে। তখন আমি তোমার ছবি এঁকে দেব।’
আশ্বস্ত হলো তানিয়া।
কার্টুন শেষ হয়ে গেল।
মায়ের লক্ষ্মী ছেলে তামজিদ। রং-পেনসিলের বাক্স আর ড্রয়িং খাতা নিল। ড্রয়িং করল, রং করল। মাকে দেখাল, ‘এই দেখো তুমি।’
তানিয়া ডবল না ট্রিপল মুগ্ধ হলো। মানে মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ।
‘ওরে, এটা সত্যি আমি তো! আমার নামটাও লিখে দাও তাহলে।’
‘তোমার নাম…?’
‘কেন আমার নাম তুমি জানো না? বলো, আমার নাম কী বলো?’
‘তানিয়া!’
‘হ্যাঁ, তানিয়া। লিখে দাও, তানিয়া।’
‘আচ্ছা লিখি।’
‘তানিয়া বানান?’
ত-এ আ-কার, ন-এ ই-কার…তামজিদ লিখল। তারপর? তারপর য়-এ আকার কী করে লিখতে হয় ভুলে গেল। মনেই করতে পারল না। একদম মনেই করতে পারল না।
তানিয়া বলল, ‘কী হলো তামজিদ?’
‘তোমার নাম তো তানি-ই ভালো, মা।’ তামজিদ বলল।
তানিয়া বলল, ‘অ-অ-অ! য়-এ আকার তুমি লিখতে পারছ না!’
‘তিন অক্ষরের নাম, মা!’
‘ও বাবা! তোমার বন্ধু হাফসা, নাইমার নাম কি দুই অক্ষরের নাকি? তাদের নাম তো ঠিকই লিখতে পেরেছ।’
‘তোমার নাম তো লিখতে পারছি না। কী করি বলো?’
‘কী আর করবে? তোমার দুই বন্ধুর নামও দুই অক্ষরে লিখে দাও তাহলে। দেখো কী হয়?’
‘কী হবে-এ-এ?’
‘কেন? হাফসার সা বাদ দিয়ে দেখো, হাফসা কেমন হাফ হয়ে যায়, নাইমার মা বাদ দিয়ে দেখো নাইমা কেমন নাই হয়ে যায়!’
তাইতো! তাইতো! এটা কি পারে তামজিদ? হাফসাকে হাফ মানে অর্ধেক করে দিতে পারে? নাইমাকে নাই করে দিতে পারে? একদম না। রক্ষা, য়-এ আকার কিভাবে লিখতে হয়, মনে পড়ে গেল তামজিদের। লিখেও দিল।—তানি এখন তানিয়া হলো। তানিয়ার পর তামজিদ লিখল, মা। ‘তানিয়া মা’ হলো। শেষ হয় নাই। তানিয়ার আগে তামজিদ লিখে দিল, আমার। কথাটা এখন হলো, ‘আমার তানিয়া মা’।
কেন, তানিয়ার তা, তামজিদের তা, মা-ছেলের গল্প, তাতার গল্প।