সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পহেলা বৈশাখে সাজে আড্ডায় সারা বেলা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
লাল পাড় ও সাদা শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি—পহেলা বৈশাখে তরুণীদের জনপ্রিয় সাজ এটিই। পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া পরে পহেলা বৈশাখে ঘুরে বেড়াবেন তরুণরাও। কারো কারো মাথায় বা কোমরে পেঁচানো থাকবে লাল গামছা। গালে থাকবে আলপনা।

এতে লেখা থাকবে নতুন বর্ষকে বরণ করে নেওয়ার আহ্বান—এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…। 

বর্ণিল নানা আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উত্সবমুখর হয়ে ওঠে। এ জন্য যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে বর্ষবরণের কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন সবাই।

আজ রাত পোহালেই রমনার বটমূলে শুরু হবে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। চারুকলা থেকে বের হবে বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা। কেবল ঢাকায়ই নয়, বর্ষবরণের এমন নানা আয়োজন থাকবে দেশজুড়ে। এতে অংশ নেবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এক দিনের এই উৎসবে  অংশ নেওয়ার জন্য অনেকের প্রস্তুতি থাকে মাসজুড়ে। এদিন নতুন পোশাক না পরলে বর্ষবরণের আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। শুধু পোশাক নয়, সাজসজ্জা, খাবারদাবার ও অন্দরসজ্জাতেও দেখা যায় বৈশাখের মোটিফ। 

পহেলা বৈশাখে সাজে আড্ডায় সারা বেলা
বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে ঘুরে না বেড়ালে পহেলা বৈশাখের আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় না।ছবি : বিশ্বরঙ

প্রখর চৈত্রের গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এদিন ঘুরে বেড়ান তরুণ-তরুণীরা।

পহেলা বৈশাখের সাজে ঐতিহ্যবাহী লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরার চলই বেশি। কেউ কেউ বেছে নেন লাল-সাদা কামিজ, ফতুয়া, কুর্তা কিংবা স্কার্ট। দেশীয় ধাঁচের গাউনও পরেন তরুণীরা। তরুণরা গায়ে চাপান বৈশাখী মোটিফের নকশা করা পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া। 

যেমন পোশাকই পরুন না কেন, তা যেন আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘গরমের মধ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে হয়। এ জন্য পোশাকের ম্যাটেরিয়াল থেকে নকশা—সবকিছুতেই আমরা আবহাওয়ার দিকটাও প্রাধান্য দিয়েছি। বৈশাখের পোশাকে সুতির মতো ম্যাটেরিয়ালই বেশি ব্যবহার করা হয়, যেন সারা দিন ঘোরাঘুরিতে স্বস্তি পাওয়া যায়। আরামদায়ক এবং বাতাস চলাচল করে এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরে এদিন ঘুরতে বের হওয়া ভালো। এতে দাবদাহে অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকবে না।’

পহেলা বৈশাখে সাজে আড্ডায় সারা বেলা
এদিন শাড়ি পরার ঢংয়ে দেখা যায় ভিন্নতা। লাল শাড়ির সঙ্গে লম্বা ঝুলের সাদা ব্লাউজ, কানে বড় দুলে পহেলা বৈশাখের আদর্শ সাজ। মডেল : অভিনেত্রী পূজা চেরী, ছবি : এটুজেড

পরনে যে পোশাকই থাকুক না কেন, তাতে বৈশাখের মোটিফ যোগ করতে পছন্দ করেন তরুণ-তরুণীরা। গামছা, আলপনা, শখের হাঁড়ি, লক্ষ্মীর সরা, মাটির প্রদীপ, মুখোশ, ঢোল, তবলা, রিকশা ও লোকজ বিভিন্ন মোটিফ পহেলা বৈশাখের সাজের সঙ্গে মানানসই। রঙের ক্ষেত্রে লাল-সাদার পাশাপাশি বেগুনি, বাদামি, হলুদ কিংবা নীলও বেছে নিতে পারেন।

পহেলা বৈশাখে সাজে আড্ডায় সারা বেলা
বৈশাখের চিরায়ত সাজ। লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করা ব্লাউজ। হাতে লাল-সাদা চিকন রেশমি চুড়ি। কানে মাটির দুল, কপালে বড় লাল টিপ। চুলগুলো গুছিয়ে কয়েক পর্ব টেনে বাঁধা বেণি।ছবি : এটুজেড

বর্ষবরণের উত্সব এখন সকাল ছাড়িয়ে সারা দিন, এমনকি রাত পর্যন্ত গড়ায়। এ জন্য একেক বেলায় একেক পোশাক ও সাজের ধারা দেখা যায়। রেড বিউটি পার্লারের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন জানান, সকালে পরার জন্য সুতির পোশাক বেছে নিন। বিকেলের দিকে বেছে নিতে পারেন ফিউশনধর্মী উজ্জ্বল রঙের পোশাক। রাতের সাজে সিল্ক, হাফসিল্ক, লিনেন ও মসলিনের কাপড় বেছে নিতে পারেন। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না বেছে নিন। এদিন মাটি, পিতল, তামা, কাপড়, কাঠের দুল ও মালা এবং চুলে ফুলের মুকুট আপনার সাজে ভিন্নতা এনে দেবে। লাল পাড়ের শাড়ির সঙ্গে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মানানসই। চুল খোলা রাখলে মাঝ বরাবর সিঁথি ভালো লাগবে। চোখে গাঢ় করে কাজল ও মাশকারা দিতে পারেন। এদিন কপালে একটি লাল টিপ সাজে পূর্ণতা এনে দেবে। গরমের সময় ভারী মেকআপ বেমানান। এ জন্য হালকা ও ছিমছাম মেকআপ বেছে নিন।

পহেলা বৈশাখে সাজে আড্ডায় সারা বেলা
হাতের কাজ করা লেসযুক্ত লম্বা হাতার ব্লাউজ সঙ্গে শাড়ির সাবেকি সাজ। সুতার কাজ করা হাতপাখা এনে দিয়েছে পহেলা বাঙালিয়ানা। মডেল : শাবনাজ সাদিয়া ইমি ছবি : বিশ্বরঙ

সাজ সুন্দর রাখতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে রোদ ও গরম। এ জন্য ওয়াটার প্রুফ মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করুন। রিটাচ করে নিতে ফেস পাউডার বা কম্প্যাক্ট পাউডার রাখতে পারেন সঙ্গে। ত্বক যেন রোদে পুড়ে না যায় সে জন্য অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

বর্ষবরণ মানেই গ্রামীণ মেলার আয়োজন। সেই মেলা এখন আর গ্রামে আটকে নেই। এখন শহরের বিভিন্ন ফাঁকা স্থান, পার্ক থেকে শুরু করে চার দেয়ালের মাঝেও আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী মেলার। এসব মেলায় একা গিয়ে আনন্দ পাবেন না। এ জন্য দল বেঁধে মেলায় যাওয়াই ভালো। এতে আড্ডা-ঘোরাঘুরির ষোলো কলাই পূর্ণ হবে। ফুরফুরে মন নিয়ে ঘরে ফিরবেন। ঢাকার রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিল্পকলা একাডেমি, টিএসসি, মানিক মিয়া এভিনিউ, জিয়া উদ্যান, পূর্বাচল, নীলা মার্কেট, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, খিলগাঁও তালতলা, বনানী মাঠ, উত্তরা দিয়াবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গায় এদিন লোকসমাগম হয়। থাকে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ভ্রাম্যমাণ দোকান। বাসায় পান্তা-ইলিশের আয়োজন না থাকলে বসে যেতে পারেন এসব দোকানে। তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই দাম ঠিক করে নেবেন। নয়তো খাওয়ার পরে দোকানি বেশি দাম চেয়ে বসতে পারেন। বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টেও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পান্তা-ইলিশ, ভর্তাসহ বাহারি বাঙালি খাবারের আয়োজন থাকে। বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে খেতে যেতে পারেন সেখানেও। একসঙ্গে খাওয়া ও জম্পেশ আড্ডা দুটিই জমবে।

পহেলা বৈশাখে সাজে আড্ডায় সারা বেলা
হাতের কাজ করা কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে এদিন গলায় সুতার তৈরি রঙিন মালা পরতে পারেন। চুলে বেণি গরমের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে। মডেল : সংগীতশিল্পী সাবরিনা পড়শী

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com