সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ময়মনসিংহ টু মুম্বাই

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

আরিফিন শুভ–নামটির সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে এক অপূর্ণ সম্ভাবনার গল্প। সুঠাম দেহ, নায়কোচিত উপস্থিতি, ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ অভিনয়–বড়পর্দার নায়ক হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই রয়েছে তাঁর মধ্যে। তবুও দর্শকদের মনে এক ধরনের আক্ষেপ থেকেই যায়; যেন ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি এই শক্তিশালী সম্ভাবনাকে।
ঢালিউড বারবারই এমন একজন নায়ককে পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে–এমন অভিযোগ নতুন নয়। অথচ কল্পনা করা যায়, যদি এই মাপের একজন অভিনেতা বলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রির হাতে পড়তেন, তবে তাঁকে ঘিরে কত বৈচিত্র্যময়, শক্তিশালী আর আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা তৈরি হতে পারত! যার উজ্জ্বল উদাহরণ শুভর সদ্য মুক্তি পাওয়া বলিউড সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’। সিরিজটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন ঢাকাই সিনেমার এই শুভ। তাই বলা যায়, ২৫৭  টাকা নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসা আরিফিন শুভ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে। নিজের প্রথম বলিউড সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ ১৯ মার্চ মুক্তির পর ভারতীয় শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনায় বারবার উঠে আসছে তাঁর নাম। কখনও ‘স্ট্যান্ডআউট লিড’, কখনও বা সিরিজের সবচেয়ে ‌‘শক্তিশালী চরিত্র’ হিসেবে আরিফিন শুভকে মূল্যায়ন করছে।

ময়মনসিংহ টু মুম্বাই 
অনেকটা খালি হাতে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন আরিফিন শুভ। পুঁজি হিসেবে ছিল উচ্চাশা, পরিশ্রম আর কিছু করে দেখানোর চেষ্টা। এই তিন পুঁজি তাঁকে বিফল করেনি। দুই হাত ভরে দিয়েছে সফলতা। আরিফিন শুভ বলছিলেন, আমার মনে হয় এই তো সেদিনই ময়মনসিংহ থেকে খালি হাতে ঢাকায় এসেছিলাম। পরিশ্রম করে গেছি দীর্ঘদিন, সেটি এখনও চলমান রেখেছি। এই শহর আমার পরিশ্রম ভালোবাসা হিসেবে ফেরত দিয়েছে। এরপর ভিন্ন দেশে (মুম্বাই) কাজের সুযোগ এসেছে, সেখানেও পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রথম কাজে সেখানকার দর্শকদের ভালোবাসাও পাচ্ছি। আরও বড় স্বপ্ন দেখতে চাই এখন।’

ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রিতে আগেও কাজ করেছেন আরিফিন শুভ। সেখানকার ওটিটি জি-ফাইভে দেখা গেছে তাঁর কাজ। এরপর মুজিব সিনেমায় শ্যাম বেনেগালের নির্দেশনায় কাজের সূত্র ধরে বলিউডের নামি-দামি সব নির্মাতা ও হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক হয়। তবে সেটি কেবল সম্পর্কই। মাহেন্দ্রক্ষণটা আসে আরও পরে। সময়ের আলোচিত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া ‘জ্যাজ সিটি’র জন্য হঠাৎ করেই  যোগাযোগ করেছিলেন শুভর সঙ্গে। নায়কের ভাষ্যে এমন, ‘এই কাজের জন্য পরিচালক সৌমিকদা (সৌমিক সেন) নন, আমাকে প্রথম মেসেজ করেন কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। আমি তখন নেপালে। আমাকে বলেন, অডিশন দিতে হবে একটি ওয়েব সিরিজের জন্য। আমি এক কথাতেই রাজি হয়ে যাই।’

তবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই যে, এই এক অডিশনেই জ্যাজ সিটিতে সুযোগ মিলেছে শুভর। বলতে গেলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শুরু কেবল। শুভ বলেন, ‘এভাবে যুদ্ধের শুরুটা হয়েছে। বিদেশি যে কোনো প্রজেক্ট লম্বা প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত করা হয়। তেমনটাই হয়েছে; হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ও বাংলা চার ভাষায় অভিনয়ের জন্য আমাকে একাধিকবার অডিশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনটা না যে আমার একার অডিশন হয়েছে, ভারতের একাধিক অভিনেতা এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন। পরিচালক সৌমিক সেন লম্বা প্রক্রিয়া শেষে আমাকে চূড়ান্ত করেছেন।’ শুভ বরাবরই দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করার ইতিহাস দেখলে সেটি প্রতীয়মান। তাই কোনো ভালো প্রজেক্টের পেছনে শুভকে সময় দিতে বললে সেটি লুফে নেন তিনি। জ্যাজ সিটির সঙ্গেও ঘটেছে তেমনটি। শুভ এই প্রজেক্টটির জন্য প্রায় তিন বছর সময় দিয়েছেন। শুভ বলেন, ‘প্রায় তিন বছর সিরিজের জন্য সময় দিয়েছি। শুটের সময় ভারতে ছিলাম প্রায় ৭ মাস। মুক্তির পর হলিউড রিপোর্টারসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে আমার কাজের প্রশংসা দেখে সেটি আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে আরও পরিশ্রমী হওয়ার। ভারতসহ অনেক দেশ থেকে ফোন কলও পাচ্ছি। সূচনা ভালো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ জ্যাজ সিটি মোট ১০ পর্বের সিরিজ। প্রায় ৮ ঘণ্টার এই সিরিজে আরিফিন শুভর চরিত্রের নাম জিমি রায়। তাঁকে ঘিরেই এই সিরিজের গল্প। সে কাল্পনিক ক্লাব ‘জ‌্যাজ সিটি’র কর্ণধার; যে নিজের রিফিউজি পরিচয় মুছে এই এলিট ক্লাবের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। এই ক্লাব গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া। সিরিজটি মুক্তির পর আরিফিন শুভর অভিনয়ের দারুণ প্রশংসা করছে ভারতীয় শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শীর্ষ বিনোদন ম্যাগাজিন হলিউড রিপোর্টার তাদের ইন্ডিয়ান সংস্করণে ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজের পর্যালোচনায় লিখেছে, এই সিরিজে সবচেয়ে কার্যকর দিক হলো বাংলাদেশি তারকা আরিফিন শুভর প্রধান চরিত্রে অভিনয়। তাদের ভাষায়, তাঁর পারফরম্যান্সই দর্শককে ধরে রাখার অন্যতম প্রধান কারণ।

হলিউডের প্রজেক্ট অপেক্ষায়
বলিউডে তো কাজ করা হচ্ছে। শুভর এবারের টার্গেট হতে পারে হলিউড। কয়েক বছর আগে এমন গুঞ্জন উঠেছিল। সে গুঞ্জন পানি পায় সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসা দেখে। তাই অনেকটা আন্দাজে ডিল ছোড়ার মতো প্রশ্ন করা হয় এরপর কি হলিউডে কাজ করছেন? এমন প্রশ্নে নীরব আরিফিন শুভ। উত্তর দিলেন অল্পকথায়, ‘আমি বড় স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় অভিনয় করতে চাই। আল্লাহ যেন সেই সুযোগ দেন সেই দোয়া চাই আপাতত।’ শুভর এই উত্তরে বড় কিছুর ইঙ্গিত বিদ্যমান। তবে যদি এটা হয় তাহলে বিশাল কিছু ঘটে যাবে। বাংলাদেশের নায়কের হলিউড বিজয়ের ইতিহাসও রচিত হবে নতুন করে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com