সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

রঙিন দিনের খুশি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বাতাসী বুয়ার সবেধন নীলমনি লতু। পরানের বেটা। বুয়া যায় পরীবাগে মোমেন সাহেবের প্রিয়প্রাঙ্গণ ফ্ল্যাট বাড়িটায়। ভোরবেলা থেকে সাঁঝনামা পর্যন্ত। কত্তো যে কাম-কাজ! গোনা গুনতি নাই। সাত বছরের লতু বস্তির খুপরি ঘরে হাঁপিয়ে ওঠে! কতো আর একলা ঘরে ‘আতা গাছে তোতা পাখি’ মুখস্থ করা যায়?
বেচারা লতু মিয়া। ওই বাড়িতে তার বয়সী সাহেবের ছেলে ইমরান ভাই আছে। কী সুন্দর সে, আর কী ভালো! একটুও দেমাগ নাই। তার সাথে এক আধটু ভাব হয়েছে লতুর। কোনোদিন ওর লাল গদিমোড়া সাইকেলে লতুকে পেছনে বসায়, তারপর প্যাডেল চালায় ইমরান ভাই। দুজনে খিলখিল করে হাসে। কী আনন্দ। বাপরে কী তাজ্জব ঘটনা। মাহমিদা ম্যাডামও ছেলের হাসিখুশিতে আনন্দ পায়। লতু ঝোপ থেকে গঙ্গাফড়িং ধরে আনে। সুতোয় বেঁধে দুজনে খেলে। মা রাগ করেন, ‘ফড়িং কষ্ট পাচ্ছে বাবু!’
অমনি জানালা গলিয়ে উড়িয়েও দেয় ফড়িংটাকে ওরা। লেজে লম্বা সুতো দোলাতে দোলাতে ও উড়ে যায় আকাশে। যেদিন ভাইয়ার অঙ্কের মাস্টারসাব আসেন সেদিন লতু বেকার। খেলা নাই, মজা নাই। আবার ভাইয়ার বাবার ভয়!
সকালে  লতু আমপারা পড়ে ফুলিদের একফালি উঠানে। ফুলির মা খুব রাগি। বিকেলে সে মাঝে মাঝে মায়ের কামের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। ‘রোজ দিন যাওয়া যাইবে না। ছারে তোরে দ্যাখলে ঠ্যাং ভাইঙ্গা দিবার পারে। রোজ যাবি না কইলাম বাজান আমার।’
লতু মাঝে মধ্যে রসুইঘরে মায়ের পাশে চুপটি করে বসে থাকে। সেদিন জুম্মাবার সকাল। মা কখন ফুলকো ফুলকো রুটি সেঁকবে তাওয়ায়। লতুর তর সয় না। খিদেয় ওর পেট জ্বলে পুড়ে ছাই। বাতাসি বুয়া দুইটা রুটি একটু আলু ভাজি দেয় ভয়ে ভয়ে, ‘যা বারিন্দায় বইয়া খা গিয়া মানিক।’
তার ভাগের রুটি থেকেই দেয় না-কি!  কপালের কী ফের; সেদিন সাহেবের নজরে পড়ে গেলো লতু। ‘কিচেনে এই নোংরা ছেলেটা ঘুরঘুর করছে কেন? কি চায়?’ সায়েবের যা তিরিক্ষি মেজাজ।
লতু সেদিন ভোঁ দৌড়ে পগার পার! ছোট্ট বুকটা ধরাস ধরাস করছিল। কৈতুরের ছাওয়ের নরম বুকডা যেমন কাঁপে। অনেক দিন লতু আর ইমরান ভাইদের বাড়িমুখো হয় নাই। মা কয় কী, ‘মেডাম তোরে যাইতে কইছে। ভাইয়া ঈদের দিন তোর লগে খেলবো।’
খুশি হয়ে লতু আকাশ ফাটিয়ে চিক্কুর দিয়ে ওঠে। ‘কী মজা!’
লতুর খুশি দেখে কে! পরীবাগের সুন্দর  বাড়িটায় ঘি, গরম মশলা, পায়েস, পোলাওয়ের সুবাসের বান। ঝলমলা ঝলমলানি! লতু যেন কোনো স্বপনপুরীতে হাজির। দিশ পায় না সে। লাল গদির সাইকেলে ওরা দুজন ঘরময় ঘুরে বেড়ায়।  ইমরান ওর বন্ধু কোকোর ডাকে একটু দরজায় বাইরে যেতেই লতু সাইকেলের প্যাডেল চালাতে থাকে মহা আনন্দে। ওর পা দুইডা যেন নাচতে থাকে। আচমকা মোমিন সাহেব পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওকে। লতুর বুক কৈতরের ছাওয়ের নরম বুকের মতো কাঁপে। সেদিনকার মতো। এইবার একখান আছাড় খাইতে হইবে। ডরে দম আটকে আসে লতুর। একখান ম্যাজিক! ইমরান আর লতুর পাঞ্জাবির রং সবুজ। ম্যাডাম কিনেছেন। অবশ্য ইমরানের পাঞ্জাবি সিল্কের। দুজনের সাইজও এক।
‘সেকি! তুই? বেশ আয় আয়। ঈদের দিন আজ।’ মুহূর্তে মোমিন সাহেব লতুকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, ‘আই পিচ্চি কোলাকুলিটা হয়ে যাক।’ লতু খাওয়ার টেবিলে! ইমরান বন্ধুর পাশে। লতু আকাশপাতাল ভাবে। ‘খালি  কান্দন আহে। মোরগার কোরমা নাহি এমুন স্বাদের।’ সাহেব নরম করে বলেন, ‘লতু মিয়া বড়ো হয়ে কী হতে চাও?’
লতুর ভয় কেটে গেছে। ওর চোখে জোনাকির আলো। ‘আমি বড়ো হইয়া পেলেন চালামু!’
সবাই হেসে ওঠে–‘তাই নাকি?’
সাহেব ভারি আমোদ পান। ‘আমার বাজান আকাশে ঘুমায়া রইছে। মায় কইছে। বাজানরে পেলেনে তুইলা মাটিত নামায়া আনমু।’ বাতাসি বুয়া কপাটের আড়ালে ডুকরে কেঁদে ওঠে। ঈদের সেদিন পার হয়ে গেছে কবে। লতু বস্তির ভাঙা বেড়ার ফাঁকে জোছনা দেখে, আর স্বপ্ন বোনে।
‘মায় কইছে একডা বচ্ছর বাদে ঈদুল ফিতর আইবো। আল্লাতালা একটু জলদি কইরা হেই দিনডারে দুনিয়াত পাডাও।’ স্বপন চোখের ভিত্রে ঢুইয়া গেছে। আসমানের নীল নীল ঘুমের পরীরা গান গায়। লতু রঙিন দিনের খুশি চোখে মেখে ঘুমিয়ে পড়ে!

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com